শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ০১:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
বাইশারীতে বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যান অনুসারীদের হামলার অভিযোগ উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাব নির্বাচনে বিভিন্ন পদে ১৮জনের মনোনয়ন সংগ্রহ উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাব’র নির্বাচন : জেলাজুড়ে জল্পনা-কল্পনা উখিয়ার লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণে যারা ক্যাম্পে কথিত আরসা সদস্যকে গুলি করে হত্যা বৈশ্বিক তহবিল ঘাটতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সমন্বিত পরিকল্পনা অতীব জরুরী উখিয়ার পূর্বরত্না থেকে গভীর রাতে সংঘবদ্ধ ১৮ রোহিঙ্গা আটক প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে ফুয়াদ আল-খতীব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য উখিয়া কলেজের গভর্ণিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন সম্পন্ন: অধ্যাপক তহিদ ও শাহআলম নির্বাচিত রোহিঙ্গা হেড মাঝি খুনের ঘটনায় ৩জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে এপিবিএন-৮

টাকা দিচ্ছে না পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, গ্রাহকদের ক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ:: / ২৪৬ বার
আপডেট রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২০, ৬:২২ পূর্বাহ্ন

ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নানা রকম ঝুঁকি ও প্রতিবন্ধকতার কথা ভেবে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্সে বীমা করেছে শহরের আনাচে কানাচের অনেক গরীব মানুষ। বিভিন্ন মেয়াদে বিভিন্ন কিস্তিতে বীমা পলিসির মেয়াদ পূর্ণ হলেও দাবির টাকা পাচ্ছে না অসহায় মানুষগুলো। পদ্মা লাইফের অফিসে দিনের পর দিন ধরণা দিয়েও কোন উপায় হচ্ছে না শতাধিক গ্রাহকের। দাবির অর্থ পরিশোধে নানা টালবাহানা শুরু করছে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। অনেকের অভিযোগ ইসলামের নাম ব্যবহার করে প্রতারণা করছে এই প্রতিষ্ঠান।
চেইন্দা বাসিন্দা সাজিয়া নাছরিন রুম্পা পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কক্সবাজার জোনাল হেড কোয়ার্টারে তাঁর ১৪১১০০৭৪৮৯ নং পলিসির ৬০ হাজার টাকা বীমা অংকের মেয়াদোত্তর ফাইলটি জমা দেন ২০১৯ সালের জানুয়ারীর ২১ তারিখ। কিন্তু মেয়াদ পূর্ণের এক বছর পার হলেও দাবির টাকা পাননি সাজিয়া।
পিএমখালী বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা সেলিনা আক্তার তাঁর ১৪১১০০৮৪৬৫ নং পলিসির ৬০ হাজার টাকা বীমা অংকের মেয়াদোত্তর ফাইলটি জমা দেন ২০১৯ সালের অক্টোবরের ২৭ তারিখ। পেশকার পাড়ার ফাতেমা বেগম তাঁর ০০০১৯০০৩৭১ নং পলিসির ২০ হাজার টাকা বীমা অংকের মেয়াদোত্তর ফাইলটি জমা দেন ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের ১৭ তারিখ।
পঙ্গু স্বামী নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করা খুরুশকুলের রেনুয়ারা বেগম অনেক কষ্টের বিনিময়ে টাকা জোগাড় করে ভবিষ্যতের জন্য পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে বীমা করেন তাঁর মেয়াদোত্তর ফাইলটি জমা দেন ২০১৮ সালের অক্টোবরের ২২ তারিখ। প্রতিদিন পদ্মা লাইফের কার্যালয়ে আসা-যাওয়া করেও কোনো সুরহা মিলে না। বিভিন্ন গ্রাহকের বিভিন্ন মেয়াদে বছর পূর্ণ হলেও দাবির টাকা পাচ্ছেন না। কালক্ষেপনে পদ্মা লাইফের অফিসে আসতে যেতে গ্রাহকরা বিরক্ত হয়ে পড়েছেন। তারপরও তাদের দাবির টাকার ব্যাপারে কোন সুরহা মিলছে না।
সাজিয়া নাছরিন বলেন, ‘বীমা করার সময় পদ্মা লাইফের প্রতিনিধি বলেছিলেন, মেয়াদ শেষে মুনাফাসহ দ্বিগুণ টাকা পাওয়া যাবে। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এক বছর পেরিয়ে গেলেও মুনাফা তো দূরের কথা এখন আসল টাকাও ফেরত দেয়া হচ্ছে না। কোম্পানিতে বীমা দাবির টাকা চাইতে গেলে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।’
ফাতেমা বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। কষ্টের সংসার। তারপরও নিয়মিত বীমার কিস্তির টাকা জমা দিয়েছি। যতদিন প্রিমিয়ামের টাকা জমা দিয়েছি, ততদিন কোনো সমস্যা হয়নি। পলিসির মেয়াদ শেষে বীমা দাবির টাকা চাইলে কোম্পানির প্রতিনিধিরা সব কাগজপত্র নিয়ে নেয়। কিন্তু মাস গড়িয়ে বছর চলে গেলেও বীমা দাবির টাকা দিচ্ছে না।’
ভুক্তভোগী বীমা গ্রাহক ছখিনা বেগম বলেন, ‘অনেক আশা নিয়ে পদ্মা লাইফ থেকে বীমা করেছিলাম। বীমা করার সময় কোম্পানির লোক ভালো ভালো কথা বলে। এখন বীমার টাকা চাইতে গেলে কেউ কোনো কথা বলতে চায় না। কোথায় গেলে বীমার টাকা পাওয়া যাবে তা বুঝতে পারছি না।
তিনি বলেন, ‘পলিসি করার সময় মিষ্টি মিষ্টি কথা বলবে, আর মেয়াদ শেষে টাকা চাইতে গেলে হয়রানি করবে- এটা কেমন নিয়ম? এমন হলে তো কেউ বীমা করতে চাইবে না।’
শুধু সাজিয়া, ফাতেমা আনোয়ারা নয়, কক্সবাজারের অনেক গ্রাহক পদ্মা লাইফ থেকে বীমা পলিসি ক্রয় করে মেয়াদ শেষে দাবির টাকা পাচ্ছেন না। দাবির টাকা চাইতে গেলে পদ্মা লাইফের কর্মকর্তারা নানাভাবে হয়রানি করছেন। গ্রাহকরা বলছেন ‘বীমা দাবির টাকা দেয়ার নাম করে কোম্পানির লোকজন এ কাগজ, সে কাগজ বলে কতো কিছু নিয়ে গেছে, কিন্তু টাকা পরিশোধ করছে না। এখন বলছে ঢাকার অফিসে যোগাযোগ করতে।’
গ্রাহকের বীমা দাবির টাকা পরিশোধ না করার বিষয়ে জানতে চাইলে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কক্সবাজার জোনাল হেড কোয়াার্টারের সহকারী ম্যানেজার নেছার উদ্দিন বলেন, স্বত্ত¡াধিকার হস্তানান্তর হওয়ায় বিভিন্ন ঝামেলার কারণে গ্রাহকদের দাবির টাকা দিতে বিলম্ব হচ্ছে, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হলে পর্যায় ক্রমে সকল গ্রাহকের দাবি টাকা দেয়া হবে।’
এ ব্যাপারে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স এর ডিএমডি আব্দুল জলিলের কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মালিকানা পরিবর্তন ও লকডাউনের কারণে গ্রাহকদের দাবি টাকা দিতে বিলম্ব হচ্ছে। আমরা এখনো প্রতি মাসে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা গ্রাহকদের দাবি টাকা দিচ্ছি। লকডাউনের আগে ১ কোটি টাকাও দিয়েছি। এখন অসময়ের কারণে গ্রাহকদের একটু কষ্ট হচ্ছে। চেষ্টা করে যাচ্ছি সকল গ্রাহকের দাবি টাকা দিয়ে দিতে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: