শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ০২:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
বাইশারীতে বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যান অনুসারীদের হামলার অভিযোগ উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাব নির্বাচনে বিভিন্ন পদে ১৮জনের মনোনয়ন সংগ্রহ উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাব’র নির্বাচন : জেলাজুড়ে জল্পনা-কল্পনা উখিয়ার লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণে যারা ক্যাম্পে কথিত আরসা সদস্যকে গুলি করে হত্যা বৈশ্বিক তহবিল ঘাটতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সমন্বিত পরিকল্পনা অতীব জরুরী উখিয়ার পূর্বরত্না থেকে গভীর রাতে সংঘবদ্ধ ১৮ রোহিঙ্গা আটক প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে ফুয়াদ আল-খতীব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য উখিয়া কলেজের গভর্ণিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন সম্পন্ন: অধ্যাপক তহিদ ও শাহআলম নির্বাচিত রোহিঙ্গা হেড মাঝি খুনের ঘটনায় ৩জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে এপিবিএন-৮

চকরিয়াতে স্বামীর নির্যাতনে ৩ সন্তান নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে মিনু!

হাবিবুর রহমান সোহেল: / ৩২৪ বার
আপডেট শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২০, ১২:৫২ অপরাহ্ন

কক্সবাজারের চকরিয়ার চিরিংঙ্গা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড়ের মধ্য সাওদগর ঘোনা এলাকার মৃত, আবুল কাসেমের ছেলে, মোঃ হোসেন নামের এক নারী লোভী, তার ৯ম শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়েসহ ছেলে মেয়ে ৩ সন্তানকে নিয়ে তার স্ত্রীকে ঘর থেকে বের দিয়েছেন। যার কারণে ওই অসহায় রুকসানা আক্তার মিনু, ৩ ছেলে মেয়ে নিয়ে বর্তমানে খোলা আকাশে নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ককসবাজার সদর উপজেলার পশ্চিম গোমাতলী মৃত ফজল আহম্মদের মেয়ে রুকসানা আক্তার মিনু জানান, বিগত ২০০১ সালের ৩০ মার্চ উল্লেখিত এলাকা চকরিয়ার মোঃ হোসেনের সাথে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। দীর্ঘ সাংসারিক জীবনে নানা টানাপুড়নের পরও তিনি এক বুক স্বপ্ন নিয়ে স্বামীর সাথে ঘর করে আসছেন। এতে তাদের ঘরে একে একে আসে তিন সন্তান। তাদের বড় মেয়ে, চকরিয়ার একটি হাই স্কুলে ৯ম শ্রেণীতে পড়ে। মেজো ছেলেটি প্রার্থমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীতে। আর সবার ছোট মেয়েটি এখনও ৪ বছরের হওয়ায় স্কুলে ভর্তি করেননি।ভোক্তভোগী মিনু অভিযোগ করেন, তার যৌতুক লোভী স্বামী মোঃ হোসেন, দীর্ঘ সাংসারিক জীবনে প্রায় সময় তাকে বাপের বাড়ি থেকে যৌতুক এনে দিতে চাপ দিতো। এতে তিনি বিভিন্ন সময় ৪ কিস্তিতে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা তাদের বাপের বাড়ি থেকে এনে দেয়। তবুও তিনি স্বামীর সংসারের প্রতি শত ভাগ ভালোবাসা ছিলো বলে দাবী করেন। কারণ তাদের ৩ সন্তানের মুখের দিকে থাকিয়ে তার (মিনু) এর জীবন মরণ জড়িয়ে ছিলো বলে, শত কষ্ট হলেও, বাপের বাড়ি থেকে যৌতুক দিয়ে হলেও, দীর্ঘ বছর স্বামীর ঘরে ছিলেন বলে তার দাবী। এক পর্যায়ে, তার পিতা ফজল আহাম্মদ মারা গেলে, তাদের বাপের বাড়িতে নেমে এসে দুঃখ ও দারিদ্রতা। যার কারণে, এক মাত্র অসুস্থ বুড়ো মায়ের পক্ষে আর মেয়ের জামাইয়ের আবদার রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। এটাই কাল হয়ে দাঁড়ালো মিনুর সংসারিক জীবনে। রুকসেনার বড় বোন অভিযোগ করেন, তাদের বোন জামাই সর্বশেষ গত ৩ মাস আগে, তার বোন থেকে ব্যবসায়ের জন্য ৪০ টাকা যৌতুক দাবী করলে, তারা তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে, তাদের বোন মিনুর উপর নেমে আসে অমানুষিক বর্বর নির্যাতন। প্রতি নিয়ত মারধর ও গালিগালাজ করতো, তার ঘর থেকে বের হতে। এতেও সুফল না পেয়ে, নির্যাতনের পাশাপাশি, তার স্বামী আসক্ত হয়ে পড়েন পর নারীর প্রতি। যা অসহনিয় পর্যায়ে চলে গিয়েছিলো বলে দাবী করেন মিনু। যার প্রতিকার চেয়ে, ইতিমধ্যে ওই মিনু ককসবাজারের পুলিশ সুপার ও চকরিয়া নির্বাহী অফিসার বরাবরে আবেদনও করেছিলো বলে জানান মিনু। কিন্তু চকরিয়ার চিরিংগা ইউপি চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যান শেখ সালাউদ্দিনের আশকারা ও তদবিরের কারনে তিনি সেখানেও কোন বিচার পায়নি বলে অভিযোগ করেন। ঘটনা এখানে শেষ নয়, স্বামী স্ত্রী দুজনকে মিলিয়ে দেওয়ার নামে, ওই চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানের সহায়তায় তার স্বামী তাকে কৌশুলে, তার ৩ সন্তান নিয়ে ঘর থেকে বের করে দেন বলেও অভিযোগ করেন রুকসানা আক্তার মিনু। এঘটনার করুন বর্ননায়, বৃহস্পতিবার রাতে, মিনু ও তার স্কুল পড়ুয়া মেয়ের ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পেইজ বুকে ছড়িয়ে পড়লে, সেটি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়। আসতে থাকে বিভিন্ন মহল থেকে নিন্দা ও সমালোচনার ঝড়। পুরো, ককসবাজার জেলাবাসীর দাবী এঘটনার সুষ্ট বিচার।অভিযোগের বিষয়ে, জানতে চাইলে, মিনুর স্বামী মোঃ হোসেন জানান, তাকে, তার স্কুল পড়ুয়া মেয়ে ও ৪ বছরের ছেলে মেরেছে, তাই তিনি ওই স্ত্রীর প্রতি বিরক্ত।চিরিংগা ইউপির প্যানেল চেয়ার শেখ সালাউদ্দিন জানান, ওই মহিলাটি খারাপ, তাছাড়া, ওই মহিলার পক্ষে নিউজ না করারও প্রস্তাব দেন তিনি। এই বিষয়ে, প্রতিবেদকের সাথে পরে দেখা করে কথা বলবেন বলেও জানান সালাউদ্দিন।চিরিংগা ইউপি চেয়ারম্যান জানান, তিনি তাদেরকে মিলিয়ে দিতে একাধিক বার বৈঠকও করেছেন, কিন্তু মেয়ে ও ছেলে পক্ষ রাজী না হওয়া তা আর সম্ভব হয়নি বলে দাবী করেন তিনি। মিনুকে কেন ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, মিনুকে ঘর থেকে বের করে না দিলে, স্বামী স্ত্রী দুজনের যে কোন এক আত্বহত্যা বা কোন অঘটন ঘঠাত। তাই তিনি এক কাজ করেছেন বলে দাবী করেন।চকরিয়া থানার ওসি, জানান, ভোক্তভোগী মহিলাকে দিয়ে থানায় এজেহার দিলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্তা নিবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: