রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২, ০৮:৫১ অপরাহ্ন

নারীর অধিকার নিশ্চিত করেছেন মহানবী (সা.)

কলাম: / ২৭৩ বার
আপডেট শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২০, ৬:৪৯ পূর্বাহ্ন

এহসান বিন মুজাহির:

বিশ্বমানবতার সামগ্রিক কল্যাণে রবিউল আউয়াল মাসে মহান আল্লাহতায়ালা শান্তির বাণীবাহক ও দূতরূপে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে দুনিয়ায় পাঠিয়েছিলেন। মহানবী (সা.) পরিবার, সমাজ ও দেশের সর্বস্তরে শান্তি, কল্যাণ ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি পুরুষের অধিকারের পাশাপাশি নারীর অধিকারের বিষয়টিও সুস্পষ্ট করেছেন।

আধুনিক বিশ্বে নারী অধিকারের বিষয়টি বহুল আলোচিত। পাশ্চাত্য সভ্যতায় নারী অধিকারের ধারণাটি গত শতাব্দীর সৃষ্টি। কিন্তু ইসলাম নারী অধিকারের ধারণা উপস্থাপন করেছে আজ থেকে প্রায় ১৫০০ বছর আগে। ইসলাম নারী অধিকারের সুস্পষ্ট ঘোষণায় নারীর যথাযথ মর্যাদার স্বীকৃতি দিয়েছে এবং মানবতার নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বপ্রথম নারী জাতির পূর্ণ মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন।

ইসলামের আগে জাহেলি আরব সমাজে নারীর মর্যাদাপূর্ণ কোনো অবস্থান ছিল না। তাদের গণ্য করা হতো ভোগের বস্তু হিসেবে। নারী ছিল রাতের কবিতার আসর আর মদের আড্ডার বিশেষ অনুসঙ্গ। জীবন ও সমাজে তাদের বড় জোর স্বামী বা মনিবের মরোঞ্জনের উপকরণের বেশি কিছু মনে করা হতো না। নারীকে পরিবার, সমাজ ও বংশের জন্য অসম্মান ও অভিশাপ মনে করা হতো। এমনকি সামাজিক লজ্জার ভয়ে নারীকে জীবন্ত কবর দেয়া হতো।

পবিত্র কোরআনে পুরুষদের সঙ্গে নারীদেরও সম্পত্তির উত্তরাধিকার নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। একইভাবে মায়েদের, স্ত্রীদের, কন্যাদের, স্বামীদের সম্পত্তির এবং বিশেষ অবস্থায় বোনদের-ভাইদের সম্পত্তির উত্তরাধিকার সাব্যস্ত করা হয়েছে। একবার ওয়াইস করনি (রা.) নবীজির কাছে খবর পাঠালেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)। আপনার সঙ্গে আমার দেখা করার খুব ইচ্ছা, কিন্তু আমার মা খুব অসুস্থ, এখন আমি কী করতে পারি?

নবীজি (সা.) উত্তর পাঠালেন, আমার কাছে আসতে হবে না। আমার সঙ্গে সাক্ষাতের চেয়ে তোমার মায়ের সেবা করা বেশি জরুরি। মায়ের সেবা করার কারণে তিনি প্রিয় নবীর যুগে থেকেও তার সাক্ষাৎ লাভ করতে পারেননি।

রাসূল (সা.) বলেন- যে ব্যক্তির তিনটি কন্যাসন্তান আছে যাদের সে লালন পালন করে এবং তাদের সঙ্গে সদয় আচরণ করে, তার জন্য অবশ্যই জান্নাত ওয়াজিব। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি দুটি মেয়ে থাকে? নবীজি বললেন, দুটি থাকলেও (বুখারি : ২৪৮১)।

বাংলাদেশে প্রতিদিনই নারী নির্যাতন ও নারীর প্রতি বৈষম্যভাব বেড়েই চলছে। নারীকে হত্যা, ধর্ষণসহ নানারকম নির্যাতনের নির্মম ঘটনা প্রায়ই বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। আমাদের সমাজের কোথাও নারী নিরাপদ নয়। পরিস্থিতি এমন যে আমরা যেন আইয়ামে জাহেলিয়াতের চেয়েও আরও কঠিন সময়ে বসবাস করছি! নারী নির্যাতন, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ ও নারী অধিকার নিশ্চিত করতে মহানবী (সা.)-এর নির্দেশিত নারী নীতিমালা অনুসরণ করা আবশ্যক।

লেখক : আলেম ও শিক্ষক

ahsanbinmujahir@gmail.com


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: