বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন

এবার দুর্গা এসেছেন ডাক্তারি অ্যাপ্রোনে করোনা বিনাশী রূপে

ডেস্ক নিউজ:: / ২০৮ বার
আপডেট বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২০, ৫:১৬ অপরাহ্ন

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে। পুরান ঢাকায় দেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় পূজা মানেই চোখ ধাঁধানো জমকালো সব আয়োজন হলেও এবার সেই জৌলুসে ভাটা পড়েছে। এবার অসুরকে করোনা আর দুর্গাদেবীকে ডাক্তারি অ্যাপ্রোন পরিয়ে করোনা বিনাশী রূপ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দেবীর ষষ্ঠাদি কল্পারাম্ভ হয়। সকালে দুর্গাদেবীর ষষ্ঠীর ঘট বসে ও পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যাবেলায় দেবী দুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাস হয়। আগামী ২৬ অক্টোবর সোমবার রাতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদ উৎসব শেষ হবে।

এবার পুরান ঢাকায় বড় বড় প্রতিমার স্থলে এসেছে ছোট প্রতিমা। সাজসজ্জাও সীমিত হয়েছে। কমেছে মণ্ডপের সংখ্যাও। এবার পুরান ঢাকায় ৫৮টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মণ্ডপগুলোতে প্রচুর পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। সরেজমিন পূজামণ্ডপগুলো ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

কয়েকজন ভক্ত ও পুরোহিত যুগান্তরকে বলেন, পুরান ঢাকায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পূজার আয়োজনকে বলা হয় দেশের সবচেয়ে বড় আয়োজন। এছাড়া অলি-গলিতে পরম যত্নে অস্থায়ী পূজামণ্ডপ সাজানো হয়েছে। বিশেষ করে শাঁখারীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, শ্যামবাজার, কলতাবাজার, মুরগিটোলা, ওয়ারী, ডালপট্টিসহ সব মহল্লায় পূজামণ্ডপের সংখ্যা কমেছে। জৌলুসও ম্লান হয়েছে অনেকটা। অন্যান্য বারের তুলনায় এবার লাইটিং ও সাজসজ্জা কমেছে বহুগুণে।

পুরান ঢাকার চকবাজার থানার ইসলামবাগসহ কয়েকটি মণ্ডপে দেবীর প্রতিমায় ত্রিশূলভেদি অসুরকে করোনাভাইরাসের অবয়বে তৈরি করা হয়েছে। সচরাচর দেবীকে বাঘের পিঠে চড়তে দেখা গেলেও এবার ওই স্থানে অ্যাম্বুলেন্স শোভা পাচ্ছে। তাছাড়া পোশাকেও এসেছে পরিবর্তন। শাড়ির পরিবর্তে ডাক্তারি অ্যাপ্রোন পরানো হয়েছে দেবীকে।

প্রাচীন ও জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন শাঁখারীবাজারের মণ্ডপগুলোতে ঢাকের বাদ্যের তালে চলছে পূজা অর্চনা। ভক্তরা দলে দলে আসছে তাদের দেবীকে প্রণাম জানাতে। প্রায় পূজামণ্ডপে আলাদা মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছে। নানা বয়সী মানুষ আরাধনা করছে।

এদিকে মহামারীর কারণে অন্যবারের চেয়ে এবারের পূজায় বেচাকেনা কম হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুরান ঢাকার  ব্যবসায়ীরা।

শাঁখারীবাজারের গুরুজী প্রসারীর স্বত্বাধিকারী শিলা রানী বলেন, মহামারীর কারণে এবারের সীমিত আকারে পূজা উদযাপন করছে হিন্দুধর্মাবলম্বী মানুষ। এ কারণে বেচাকেনা অনেক কম। প্রতি বছর দেশের অন্যান্য প্রান্ত থেকে অর্ডার আসলেও এবার তা না থাকায় ব্যস্ততা কমে গেছে। ঢাকা ও আশপাশের কিছু মানুষ কেনাকাটা করলেও পাইকারি বিক্রি একেবারেই কম। এ কারণে স্টকে অনেক মালামাল রয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

লক্ষ্মীবাজারের একাধিক জুয়েলারি দোকানি বলেন, করোনার জেরে বেচাকেনা খুবই কম হয়েছে। পূজাসামগ্রীর মধ্যে শাঁখা, সিঁদুর, লেস পাইর, প্রতিমার রং, শাটিং কাপড়সহ সাজসজ্জা পণ্য তেমন একটা বিক্রি হয়নি বলে জানান তারা।

এদিকে প্রতিমা তৈরির কারিগররাও এবার আশানুরূপ অর্ডার পাননি। প্রতিমা শিল্পী বৈকুন্ঠ পাল বলেন, অন্যবারের তুলনায় এবার প্রতিমা তৈরির অর্ডার কম এসেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যে পরিমাণ অর্ডার আসতো, এবার আর তা নেই। অন্যান্য বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১০ থেকে ১২টা মূর্তির কাজ পেতাম। এবার তিনটি অর্ডার পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

শাঁখারীবাজার পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য জ্যোতির্ময় বিশ্বাস বলেন, চলমান মহামারীর কারণে এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা নিয়ে সরকারের নানা নির্দেশনা রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে পূজার আয়োজন করতে হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা মহানগরে এ বছর ২৩২টি পূজামণ্ডপ হয়েছে। এর মধ্যে পুরান ঢাকায় প্রায় ৫৮টি মণ্ডপ তৈরি হয়েছে। তবে এবার পূজায় অতিরিক্ত আলোকসজ্জা না করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারও নামাজের সময় মাইক ও ডেকসেট বাজনা বন্ধ থাকবে। ভক্তরা সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত পূজা করবেন।

তিনি জানান, এবার অনেক বয়স্ক ব্যক্তি ও শিশু পূজায় আসতে পারবেন না। তাদের জন্য ভার্চুয়ালি অঞ্জলি দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পূজায় সারা বিশ্বের করোনা রোগীদের জন্য প্রার্থনা করা হচ্ছে। এজন্য দেবীকে করোনা বিনাশী রূপ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার যুগান্তরকে বলেন, পূজামণ্ডপকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিকল্পনা করা হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সম্ভাবনা নেই। মণ্ডপের আশপাশে লোকজন ও যানবাহন চলাচল সীমিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: