রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২, ০৯:১৭ অপরাহ্ন

পেকুয়ায় যুবলীগ সম্পাদকসহ ব্যবসায়ীদের কান ধরে উঠবস করালেন এএসআই

দৈনিক কক্সবাজার অনলাইন: / ২৯৩ বার
আপডেট বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২০, ৯:০৬ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়ন ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ বাচ্চু মিয়াসহ ১০ ব্যবসায়ীকে কান ধরে উঠবস করালেন পেকুয়া থানার এএসআই তৌহিদুল ইসলাম পাটোয়ারী ও বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে টইটং ইউনিয়নের হাজ্বী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয় হাজ্বী বাজারের সবজি ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন ভিডিও বক্তব্যে বলেন, গতকাল রাতে ব্যবসায়িক কাজ সেরে নুরুন নবীর চায়ের দোকানে বাকি টাকা উত্তোলন করতে যাই। সেখানে আগে থেকেই বসে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী, গাড়ির ড্রাইভার ও যুবলীগ সম্পাদক বাচ্ছু নাস্তা করছিলেন। ওই সময় পেকুয়া থানার এএসআই তৌহিদুল ইসলাম পাটোয়ারী ও বাজার সভাপতি নজরুল ইসলাম দোকানে প্রবেশ করে সবাইকে দোকান থেকে বের করে রাস্তায় নিয়ে আসেন। একপর্যায়ে কোন কারণ ছাড়াই সবাইকে কান ধরে উঠবস করালেন তারা। যুবলীগ সম্পাদক এর প্রতিবাদ করলে এএসআই তৌহিদ যুবলীগেরর নাম উল্লেখ করে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন।

দোকানদার নুরুননবী বলেন, আইপিএল খেলা চলার কারণে বেশিরভাগ চায়ের দোকান একটু রাত করে বন্ধ হয়। অনেক দোকান খোলা থাকলেও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম আমার দোকানে পুলিশ এনে আমিসহ রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী ও ড্রাইভারদের কান ধরে উঠবস করান। এর কারণ জানতে চাইলে লাঠি দিয়ে মারার চেষ্টা করেন পুলিশ সদস্যরা।
ব্যবসায়ী ইয়াকুব নবী বলেন, কোন কথা ছাড়াই পুলিশ ও ব্যবসায়ী নেতার এমন কর্মে আমরা খুব কষ্ট পেয়েছি। আমাদেরকে চরমভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।

ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বাচ্ছু মিয়া বলেন, বাড়ি থেকে বের হয়ে নুরুন্নবীর চায়ের দোকানে চা পান করতে যাই। একটু পর বাজার সভাপতিসহ পুলিশের এএসআই তৌহিদুল ইসলাম দোকানে প্রবেশ করে সবাইকে দোকানের সামনে রাস্তায় নিয়ে আসেন। একপর্যায়ে দোকানে উপস্থিত সকলকে কান ধরে উঠবস করালে আমি তার প্রতিবাদ করে যুবলীগ সম্পাদক বলে পরিচয় দিই। যুবলীগ পরিচয় দেয়ার সাথে সাথে এএসআই তৌহিদুল ইসলাম দলের নাম ধরে অশ্লীল ভাষায় গালি দিয়ে দৃষ্টতা দেখান।

এ সময় সাংবাদিকদের সামনে একই ধরণের বক্তব্য দেন মৎস্য প্রজেক্ট ব্যবসায়ী রুবেল, ট্রলি ড্রাইভার আবু তালেব, সিএনজি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল, সেলুনের দোকান ব্যবসায়ী তপন, ব্যবসায়ী সাইফুল করিম, সিএনজি ড্রাইভার ফরিদ, ইউনুছ ও পিকআপ ড্রাইভার জাকের হোসেন। এভাবে কান ধরে উঠবস করানোটা আইনের পরিপন্থি দাবী করে পেকুয়া থানার ওসি সাইফুল রহমান মজুমদারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এবিষয়ে জানতে বাজার পরিচালনা সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম জানান, নিয়মিত পুলিশ টহল নুরুননবীর দোকানে গিয়ে এত রাত পর্যন্ত কেন দোকান খোলা রাখা হয়েছে জানতে চান। আমি বাজারের সভাপতি হিসেবে পুলিশ আমাকে খবর দিয়ে ওই দোকানে নিয়ে যায়। ওখানে কান ধরে উঠবস করানোর বিষয়টি আমার নজরে পড়েনি।

এএসআই তৌহিদুল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, রাতে যারা ক্রিকেট খেলা দেখে তারা অনেক সময় জুয়া খেলায় জড়িয়ে পড়ে। অনেক রাত পর্যন্ত হাজ্বী বাজারের দোকানটি খোলা দেখে দোকানে বসা সবাইকে চলে যেতে বলি। ওখানে উপস্থিত লোকের সাথে বাকবিতণ্ডা হলেও রাজনৈতিক কোন ব্যক্তির সাথে অশ্লীল ভাষায় কথা বলা হয়নি। তারপরও ব্যবসায়ীদের সাথে মনোমালিন্য হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: