রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ০৭:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
বাইশারীতে বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যান অনুসারীদের হামলার অভিযোগ উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাব নির্বাচনে বিভিন্ন পদে ১৮জনের মনোনয়ন সংগ্রহ উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাব’র নির্বাচন : জেলাজুড়ে জল্পনা-কল্পনা উখিয়ার লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণে যারা ক্যাম্পে কথিত আরসা সদস্যকে গুলি করে হত্যা বৈশ্বিক তহবিল ঘাটতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সমন্বিত পরিকল্পনা অতীব জরুরী উখিয়ার পূর্বরত্না থেকে গভীর রাতে সংঘবদ্ধ ১৮ রোহিঙ্গা আটক প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে ফুয়াদ আল-খতীব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য উখিয়া কলেজের গভর্ণিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন সম্পন্ন: অধ্যাপক তহিদ ও শাহআলম নির্বাচিত রোহিঙ্গা হেড মাঝি খুনের ঘটনায় ৩জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে এপিবিএন-৮

ক্যাম্পে অনিরাপদ মনে করে

ভাসানচরে যেতে আগ্রহী রোহিঙ্গারা

বিশেষ প্রতিবেদক: / ২৮৪ বার
আপডেট বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২০, ৫:৩৫ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারের উখিয়ায় বিশাল কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বেশ কিছুদিন যাবত উত্তপ্ত পরিস্থিতি। সংঘাত সহিংস ঘটনায় বিগত এক পক্ষকালে এখানে নিহত হয়েছে ৮ রোহিঙ্গা। আহত হয়েছে অর্ধশত। সন্ত্রাসীরা পুড়িয়ে দিয়েছে বসত বাড়ি। অব্যাহত হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় আতংকে বাড়ি ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে হাজারের বেশি রোহিঙ্গা পরিবার। এমন বিরূপ পরিস্থিতিতে সাধারণ রোহিঙ্গারা কুতুপালং ক্যাম্পকে আর নিরাপদ মনে করছে না। তাঁরা দ্রুত প্রত্যাবাসন চায়। প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হলে যেতে চায় নোয়াখালীর ভাসানচরে।

উখিয়ার নিবন্ধিত ক্যাম্পের সি- ব্লকের বাসিন্দা ছৈয়দ হোছন (৪০)। গত ৭ অক্টোবর রাতে সন্ত্রাসীরা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে তাঁর বসত ঘরটি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছৈয়দ হোছন আশ্রয় নিয়েছে কুতুপালং বাজার এলাকায় এক আত্মীয়ের ঘরে। ছৈয়দ হোছন বলেন- ‘আমার কি অপরাধ জানি না। সন্ত্রাসী বাহিনী রাতের আধাঁরে কেন আমার ঘরটি পুড়িয়ে দিয়েছে বুঝতে পারছি না।’ এই রোহিঙ্গা বলেন- ‘উখিয়ার বিশাল কুতুপালং ক্যাম্প এখন সন্ত্রাসীদের দখলে। খুন-খারাবি, অপহরণ, মাদক ব্যবসা এখানে আশংকাজনক ভাবে বেড়েছে। সন্ত্রাসীদের প্রতিমাসে চাঁদা না দিলে সাধারণ রোহিঙ্গাদের উপর নেমে আসে চরম নির্যাতন।’
ছৈয়দ হোছন বলেন- ‘মিয়ানমার সেনা বাহিনীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে পালিয়ে এসেছি। বাংলাদেশের মানবিক সরকার আমাদের আশ্রয় দিয়েছে। এখন অমানবিক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচতে আবার পালাতে হচেছ।’

রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা পুড়িয়ে দিয়েছে কুতুপালং সি-ব্লকের বাসিন্দা আহমদ উল্লাহ’র বসত ঘরটি। পরিবারের ৯ সদস্যকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন এ-বøকে একটি এনজিও সংস্থার অফিস ঘরের পেছনে বারান্দায়। সাধারণ এই রোহিঙ্গা পরিবারটি মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায়। ভাসানচরে যেতে আগ্রহি কিনা জানতে চাইলে আহমদ উল্লাহ বলেন- ‘মাথার উপর একটু ছায়া থাকলে হবে। ভাসানচর কেন যেকোন স্থানে যেতে রাজি। এই কুতুপালং ক্যাম্পে আর থাকতে রাজি নই।’

কুতুপালং ডি-৫ বøকের ফরিদ আলম (৩০)কে ঘর থেকে তুলে নিয়ে যায় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী বাহিনী। দুই লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় তাঁর পরিবারের কাছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না পাওয়ায় পিটিয়ে হাত পা ভেঙ্গে সেপটিক ট্যাঙ্কের ভিতরে ফেলে দেয়া হয় ফরিদকে। ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন এই রোহিঙ্গা যুবক। আতংকে ঘর ছেড়ে পালিয়ে এসেছে ফরিদের পরিবার। কুতুপালং বাজারের নিকটে একটি এনজিও সংস্থার অস্থায়ী ঘরে আশ্রয় নিয়েছে এই রোহিঙ্গা পরিবার। ফরিদের মা আমেনা বেগম বলেন- ‘আমার ছেলেকে জীবিত পেয়েছি। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। আমরা আর কুতুপালং ক্যাম্পে থাকতে চাই না।

কুতুপালং ক্যাম্পের সিআইসি অফিস সংলগ্ন এনজিও সংস্থার ওই ঘরে আশ্রয় নিয়েছে আরো কয়েকটি রোহিঙ্গা পরিবার। এরা ক্যাম্পের সি ও ই ব্লক থেকে পালিয়ে এসে এখানে আশ্রয় নিয়েছে। এই রোহিঙ্গারা জানিয়েছে বিগত এক পক্ষকাল ধরে সন্ত্রাসীদের দুই গ্র‍ুপের সংঘর্ষে ৮ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সন্ত্রাসী একটি গ্রুপের প্রধান মাষ্টার মুন্নার দুই ভাইও রয়েছে। ক্যাম্পে নির্বিচারে বাড়ি ঘরে হামলা হচেছ। অপহরণ করা হয়েছে কয়েক জনকে।

এতে আতংকিত হয়ে অনেক রোহিঙ্গা পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। কুতুপালং ক্যাম্পের একজন মাঝি জানিয়েছেন কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পের সি এবং ই ব্লক থেকে প্রায় এক হাজার পরিবার বাড়ি ঘর ছেড়ে অন্যত্র পালিয়েছে। এরা ক্যাম্পে তুলনামুলক নিরাপদ স্থানে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছে। অনেকে কুতুপালং বাজারে বিভিন্ন অস্থায়ী সেডে আশ্রয় নিয়েছে।
গত ৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০ টার দিকে কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পের সি-৭ ব্লকে আগুন দেয় সন্ত্রাসী বাহিনী। এতে ৪টি ঘর পুড়ে যায়। একই সময়ে উখিয়া টিভি টাওয়ারের পেছনে রোহিঙ্গা বসতিতে আগুন দেয়া হয়। এখানেও একটি বাড়ি পুড়ে যায়।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, রোহিঙ্গা শিবিরে সংঘর্ষ লেগেই আছে। এই সংঘর্ষে অতিষ্ঠ সাধারণ রোহিঙ্গারা। তাদের অনেকেই নিরাপদ স্থানে চলে যেতে ইচছুক। এই পরিস্থিতিতে ভাসানচরে যেতেও প্রস্তুত সাধারণ রোহিঙ্গারা।
কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা শিবিরের কয়েকজন সাধারণ রোহিঙ্গার সাথে কথা হয়। তারা জানান, এখানে সন্ত্রাসীরা দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। গ্রুপে গ্রুপে সংঘর্ষে সাধারণ রোহিঙ্গারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মারা যাচ্ছে। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের সংখ্যা বেশি না হলেও পুরো ক্যাম্প তাদের হাতে জিম্মি। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ সাধারণ রোহিঙ্গারা। এই অবস্থায় নিরাপদ স্থানে চলে যেতে চায় সাধারণ রোহিঙ্গা। হোক সেটা ভাসান চর।

রোহিঙ্গাদের জন্য নোয়াখালীর ভাসানচরে আশ্রয়কেন্দ্র করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের সেখানে স্থানান্তরে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বিরোধীতা করে আসছে। একই সাথে রোহিঙ্গাদের মধ্যে কয়েকটি গ্রæপ ভাসানচর বিরোধী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা থাকলেও কোন অবস্থাতেই তারা সাধারণ রোহিঙ্গাদের সেখানে যেতে দিতে রাজি নয়। যারা যেতে চায় তাদেরকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। এরপরও ক্যাম্পে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সাধারণ রোহিঙ্গারা ভাসানচরে যেতে আগ্রহি বলে জানা গেছে।
ক্যাম্প-১৫ লম্বাশিয়া এলাকার রোহিঙ্গা মো. আলম বলেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে সবাই অপরাধী নয়। এই অশান্ত পরিবেশে কোন অবস্থাতেই নিরীহ রোহিঙ্গারা এখানে থাকতে চান না। কারণ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা লেগেই থাকে। একারণে নিরীহ রোহিঙ্গারা ভাসানচরে যেতে প্রস্তুত।

কুতুপালং ক্যাম্পের একটি অংশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিয়ে রাখা হয়েছে হিন্দু রোহিঙ্গাদের ৪ শতাধিক পরিবারকে। এই হিন্দু রোহিঙ্গারা প্রত্যাবাসনে আগ্রহি। মিলন কুমার মল্লিক নামে এক রোহিঙ্গা বলেন- ‘আমরা মিয়ানমারে ফিরতে চাই। না হলে আমাদেরকে ভাসানচরে নেওয়া হোক।’ তিনি বলেন- কুতুপালং ক্যাম্পে রাত দিন আতংকের মধ্যে রয়েছেন ৪২২টি হিন্দু পরিবার।
কক্সবাজারে অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা নয়ন বলেন, রোহিঙ্গারা এমনতিইে ভাসান চরে যেতে প্রস্তুত। তবে কিছু সন্ত্রাসী গ্রুপ তাদেরকে বাধা দিয়ে আসছে।
এদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শান্তি-শৃঙখলা বজায় রাখতে পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা প্রদান করেছেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো: আনোয়ার হোসেন। অতি স¤প্রতি উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের আধিপত্য বিস্তারের কোন সুযোগ নাই। এখানে আধিপত্য থাকবে একমাত্র আইন শৃঙখলা রক্ষাকারী বাহিনীর। কোন অপরাধিকে ছাড় দেয়া হবে না। অবৈধ অস্ত্রধারী রোহিঙ্গাদের গ্রেফতার করা হবে বলে জানান ডিআইজি।

উল্লেখ্য নোয়াখালীর ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের আবাসনের ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। এই আবাসনে ১ লাখ রোহিঙ্গাকে পুনর্বাসন করা হবে। অবকাঠামো সহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে। ভাসানচরে ১ হাজার ৭০০ একর জায়গাজুড়ে রোহিঙ্গা পুনর্বাসনে বিশাল কর্মযজ্ঞ ও আবাসন সুবিধা গড়ে তোলা হয়েছে। এ চরে মোট জমির পরিমাণ ১৭ হাজার একর। এ বিবেচনায় আরো কমপক্ষে ২ লাখ রোহিঙ্গাকে এখানে পুনর্বাসনের সুযোগ রয়েছে।

সুত্রঃ দৈনিক কক্সবাজার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: