বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ০৭:৫০ পূর্বাহ্ন

‘চুরির জন্য ইউএনওর ঘরে ঢুকলে বাধা দেওয়ায় হাতুড়িপেটা’

ডেস্ক নিউজ:: / ২১১ বার
আপডেট শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৪:৪৪ অপরাহ্ন

চুরির উদ্দেশ্যে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ঘরে ঢুকেছিল দুর্বৃত্তরা। এসময় ওয়াহিদা বাধা দেওয়ায় তার উপর হামলা চালিয়ে হাতুড়িপেটা করা হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনায় অভিযুক্ত মূল আসামি আসাদুলের জবানবন্দির পরিপ্রেক্ষিতে এ তথ্য জানান র‍্যাব-১৩ অধিনায়ক রেজা আহমেদ ফেরদৌস।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ইউএনওকে হত্যাচেষ্টা মামলার সন্দেহভাজন প্রধান আসামি আসাদুল ইসলাম, সান্টু ও নবীরুল। এ ঘটনায় জড়িত বলে এরই মধ্যে দায় স্বীকার করেছেন।

এ ঘটনার পর থেকে র‍্যাব-১৩ ছায়াতদন্তে নামে।

সন্দেহের ভিত্তিতে মোট ছয়জনকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনজন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
আসামিরা হলেন- দিনাজপুর ঘোড়াঘাটের সাগরপুর এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে আসাদুল হক (৩৫), মৃত ফরাজ উদ্দিনের ছেলে নবীরুল ইসলাম (৩৪) ও ঘোড়াঘাট থানার চক বাবুনিয়া বিশ্বনাথপুর এলাকার খোকা চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে শ্রী সান্টু কুমার বিশ্বাস।

এর মধ্যে আসাদুলকে হাকিমপুর থানার বাংলা হিলি থেকে গ্রেফতার করা হয়।
..
রেজা আহমেদ ফেরদৌস বলেন, আসাদুলের ভাষ্য অনুযায়ী চুরির উদ্দেশ্যেই তারা ইউএনওর বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় হাতুড়ি দিয়ে পেটান। তবে আমরা আরও সময় নিয়ে গভীর তদন্ত করে এ ঘটনার মূল মোটিভ জানার চেষ্টা করছি।

‘সন্দেহভাজনদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর সিসিটিভি ফুটেজে লাল গেঞ্জি পরিহিত ব্যক্তি তিনি নিজে বলে স্বীকার করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী লাল গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে অপর দু.জন নবীরুল ও সান্টুকে গ্রেফতারে অভিযান চালাই। তারা ঘনঘন অবস্থান পরিবর্তন করলেও পরে তাদের গ্রেফতারে সক্ষম হই। ’

র‍্যাব-১৩ অধিনায়ক জানান, আসাদুলের বক্তব্য অনুযায়ী নবিরুল এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী।

অপর আটক ব্যক্তি যুবলীগ নেতার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনিসহ আরও তিনজনকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাদের সম্পৃক্ততা না থাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বা অন্য কোনো পরিচয় এখানে গ্রহণযোগ্য নয়।

‘আপাতত আসাদুলের বক্তব্য অনুযায়ী এসব তথ্য পাওয়া গেছে। আমরা আরও গভীর তদন্ত করে দেখবো আর কেউ জড়িত আছে কিনা। প্রয়োজনে আরো কাউকে আটক বা রিমান্ডে নিয়ে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অবলম্বন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা এখনো চূড়ান্ত মোটিভ বলার মতো অবস্থায় পৌঁছাইনি। ’

বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে ইউএনও ওয়াহিদার সরকারি বাসভবনের ভেন্টিলেটর ভেঙে বাসায় ঢুকে ওয়াহিদা ও তার বাবার ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। ইউএনওর মাথায় গুরুতর আঘাত এবং তার বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়।

পরে ইউএনওকে প্রথমে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (রমেক) নিয়ে ভর্তি করা হয়। এরপর তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢাকায় আনা হয়। তিনি বর্তমানে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: