মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ১২:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
নুরুল হুদা গ্রেপ্তার বাইশারীতে বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যান অনুসারীদের হামলার অভিযোগ উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাব নির্বাচনে বিভিন্ন পদে ১৮জনের মনোনয়ন সংগ্রহ উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাব’র নির্বাচন : জেলাজুড়ে জল্পনা-কল্পনা উখিয়ার লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণে যারা ক্যাম্পে কথিত আরসা সদস্যকে গুলি করে হত্যা বৈশ্বিক তহবিল ঘাটতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সমন্বিত পরিকল্পনা অতীব জরুরী উখিয়ার পূর্বরত্না থেকে গভীর রাতে সংঘবদ্ধ ১৮ রোহিঙ্গা আটক প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে ফুয়াদ আল-খতীব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য উখিয়া কলেজের গভর্ণিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন সম্পন্ন: অধ্যাপক তহিদ ও শাহআলম নির্বাচিত

দেহই বহুমুখী প্রতারক ডা. সাবরিনার পুঁজি!

ডেস্ক নিউজ:: / ৩০৬ বার
আপডেট সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০, ৭:৩৯ পূর্বাহ্ন

করোনা ভাইরাসে  পুরো দেশ কাবু।  মানুষের পারিবারিক, সামাজিক অর্থনৈতিক জীবন অচল। তখনই প্রাণঘাতি ভাইরাসকে পুঁজি করে প্রতারণা নেমেছিল  আরিফ-সাবরিনা গং। স্বামী-স্ত্রীর  মালিকাধীন  জেকেজি হেলথ কেয়ার নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ১৫ হাজার ৪৬০টি জাল সনদ দিয়ে ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আরিফকে গত ২৪ জুন পুলিশের কব্জায় নিলেও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের  কার্ডিয়াক সার্জন সাবরিনা ছিল ধরা ছোঁয়ার বাইরে। গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জেরে ২০দিন পর  তাকে গ্রেপ্তারে বাধ্য হয় পুলিশ! বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি (বিএনএ) টিম দেশের  প্রথম নারী কার্ডিয়াক সার্জন হিসাবে ভূয়া  পরিচয় দানকারি ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরীর অতীত, বর্তমান নিয়ে বিশেষ অনুসন্ধান চালায়। অনুসন্ধানে ওঠে আসে সাবরিনা দেহকেই তার শীর্ষে ওঠার সিড়ি হিসাবে ব্যবহার করেছে।

নায়িকা হতে পরিচালকের সঙ্গে রঙ্গ !

অনুসন্ধানে জানা যায়, জেকেজি’র চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী আসল নাম সাবরিনা শারমিন হোসেইন। ভিকাকরুনেসা স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাশ করেন। তার ছোট এক বোন রয়েছে। তার ইচ্ছা ছিল সিনেমার নায়িকা হওয়ার । এ জন্য তিনি নাচও শিখেন। প্রথমে শিবলী ও পরে নিপার কাছে নাচের তালিম নেন।তার জন্ম হল্যান্ডে। তার পুরো পরিবার আমেরিকা থাকেন। ২০১৯ সালের ৩ জুলাই কলারস এফ এম ১০১.৬ নামে একটি অনলাইন রেড়িও সাবরিনা এ তথ্য জানান। সেখানে তার বিয়ে, সন্তান, চাকুরি নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সিনেমায় অভিনয় করার জন্য করার জন্য  কয়েকজন উঠতি পরিচালকের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। তাদের সঙ্গে নিয়মিত আড্ডাও হতো। কিন্তু বিষয়টা তার বাবা জেনে যায়। বেড়ি পড়ে সাবরিনার পায়ে। ফলে তার নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন থমকে যায়। পরে অনেকটা তার মতামত না নিয়ে বিয়ে দেয়া হয় পারিবারিকভাবে।

এইচএসসিতে বিয়ে, এমবিবিএসে সন্তান!

স্যার সলিমউল্লাহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার আগেই পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়ে যায়। এমবিবিএস প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার পরই তার প্রথম সন্তান জন্ম নেয়। এমবিবিএস পাশ করে বিসিএস পাশ করার বছরই দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম হয়। তার চাকুরি হয় দিনাজপুরে। ওই সময় থেকে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে ডা. সাবরিনা শারমিন হোসাইন। ফলে তার স্বামীর সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না। স্বামীকে তালাক দেয় সাবরিনা।  বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের এক নেতার সঙ্গে সখ্যতা করে  দুই বছর পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি হয়ে আসে। ২০১০ সালে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএস কোর্সে গবেষণা শুরু করেন। গবেষণা করা কালীন বিভিন্ন শিক্ষক ও চিকিৎসকদের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েন অনৈতিক সর্ম্পকে।  ২০১৫ সালে এসএস ডিগ্রী পান  ডা. সাবরিনা।


পরকীয়া থেকে আরিফের ৪ নম্বর স্ত্রী!
সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করাকালীন তার এক চিকিৎসক বন্ধুর মাধ্যমে পরিচয় হয় ব্যবসায়ি আরিফুর রহমান চৌধুরীর। দীর্ঘদিন দুই পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ে। সাবরিনা আরিফকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেয়। এক পর্যায়ে আরিফ তার তৃতীয় স্ত্রীকে তালাক দেয়। ডা. সাবরিনা হন আরিফের চর্তুথ স্ত্রী।নাম বদল করে ডা. সাবরিনা শারমিন হোসাইন হয়ে যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী। সারিনা আরিফের চতুর্থ স্ত্রী । তার প্রথম স্ত্রী রাশিয়ায়, দ্বিতীয় স্ত্রী লন্ডনে। তৃতীয় স্ত্রী বাংলাদেশে থাকলেও সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে।

চিকিৎসক বন্ধুর সঙ্গে আপক্তিকর অবস্থা ধরা

ডা.সাবরিনা বিএমএ’র এক নেতার সঙ্গে বন্ধুত্ব করে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে জুনিয়র কার্ডিয়াক সার্জন হিসাবে চাকুরি নিতে সক্ষম হন। পরে রেজিস্টার পদে প্রমোশন পান। সেখানেও এক সিনিয়র সার্জনের সঙ্গে পরকীয়া জড়িয়ে যান সুন্দরী ডা. সাবরিনা। বিষয়টি জেনে যান আরিফ। একদিন হাতে নাতে ধরে ফেলেন। দু’জনকে মারধর করেন আরিফ। এ ঘটনায় স্বামী আরিফের বিরুদ্ধে শেরে বাংলা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
অভিযোগ আছে, সহকর্মী একাধিক চিকিৎসকের সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। এসব কারণেই আরিফের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। প্রায়ই তাদের মধ্যে মনোমালিন্য ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকতো। আরিফও যৌনতার দিক থেকে সারবিনার চেয়ে কেন অংশে কম নয় তার অফিসের এবং বাইরের অনেক নারীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ছিল ওপেন সিক্রেট। তার বিরুদ্ধে এক নারী গুলশান থানায় মামলাও দায়ের করেছে।


শিমু পাল দেশের প্রথম নারী কার্ডিয়াক সার্জন-সাবরিনা নয়

অনুসন্ধানে জানা যায়, ডা. সাবরিনা চৌধুরী নিজেকে দেশের প্রথম নারী কার্ডিয়াক সার্জন হিসেবে দাবি করে আসছিলেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তিনি দেশের প্রথম নারী কার্ডিয়াক সার্জন নন। বাংলাদেশের প্রথম নারী কার্ডিয়াক সার্জন হলেন ডা. শিমু পাল। তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ম-২৯ ব্যাচের ছাত্রী । ১৯৯৯ সালে এমবিবিএস পাশ করেন শিমু পাল। এরপর ২০০৩ সালে কার্ডিওথোরাসিক সার্জারিতে এমএস কোর্সে পড়বার সুযোগ পান। ২০০৯ সালে এমএস কোর্স শেষ করে বাংলাদেশের প্রথম নারী কার্ডিয়াক সার্জনে ভুষিত হন তিনি।
উল্লেখ, ডা. সাবরিনা ২০১৫ সালে এমএস করেন। কিন্তু ডা. সাবরিনা এ ক্ষেত্রে প্রতারণার আশ্রয় নেন। নিজেকে পরিচয় দিতে থাকেন দেশের প্রথম নারী কার্ডিয়াক সার্জন হিসাবে।ফেসবুকে তিনি উল্লেখ করেছেন দেশের প্রথম নারী কার্ডিয়াক সার্জন হিসাবে। এছাড়া বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে নিজেকে নারী কার্ডিয়াক সার্জন বলে দাবি করেছেন।

এদিকে বাংলাদেশে প্রথম নারী কার্ডিয়াক সার্জন নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন খবর প্রকাশের প্রতিবাদ জানিয়েছে কার্ডিয়াক সার্জন সোসাইটি অব বাংলাদেশ (সিএসএসবি)।

গত ৩ জুলাই সংগঠনের নিজস্ব প্যাডে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিএসএসবি গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে (ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া) বাংলাদেশে প্রথম নারী কার্ডিয়াক সার্জন হিসেবে বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন জনকে পরিচয় করিয়ে বিভ্রান্তি স্রষ্টি করছে, যা অত্যান্ত দু:খজনক ও অনভিপ্রেত।

সিএসএসবি জানায়, দেশে প্রথম নারী কার্ডিয়াক সার্জন ডা. শিপু পাল। যিনি ২০০৯ সালে কার্ডিয়াক সার্জারিতে এমএস ডিগ্রি অর্জন করেন। ডা. রোমেনা রহমান কার্ডিয়াক সার্জারিতে দেশের প্রথম নারী সহকারী অধ্যাপক। এ পর্যন্ত ১০ জন নারী কার্ডিয়াক সার্জারিতে এমএস ডিগ্রি অর্জন করে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সুনামের সাথে কাজ করছেন। এখানে কোনো ক্রমসংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তথাপিও প্রথম নারী কার্ডিয়াক সার্জন যিনি, তিনি অবশ্যই ইতিহাসের অংশ এবং তার এই যোগ্য সম্মান ও স্বিকৃতিটি প্রাপ্য। এটি নিয়ে গণমাধ্যমের বিভ্রান্তি অনাকাংখিত।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, আপনারা জানেন কার্ডিয়াক সার্জনদের একমাত্র সংগঠন কার্ডিয়াক সার্জন সোসাইটি অব বাংলাদেশ (বিএসএসবি)। নৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোন থেকে এ ব্যাপারটি অত্যান্ত সংবেদনশীল হওয়ায় আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং পরবর্তীতে সংবাদ মাধ্যমগুলিকে এ বিষয়ে সঠিক তথ্য উপস্থাপনের অনুরোধ জানাচ্ছি। এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সকল বিভ্রান্তির অবসান হবে বলে কার্ডিয়াক সার্জন সোসাইটি অব বাংলাদেশ (সিএসএসবি) মনে করে।

ওভাল, জেকেজি ও আরিফকে তালাক!

২০১৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আরিফুর রহমান চৌধুরীকে বিয়ে করা মধ্য দিয়ে ডা. সাবরিনা ওভাল গ্রুপ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। পরে ওভাল গ্রুপের অঙ্গ সংগঠন হিসাবে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জেকেজি হেলথ কেয়ার প্রতিষ্ঠা করেন।জে.কে মানে জোবেদা খাতুন। সাবরিনার মায়ের নাম। সেই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান সাবরিনা তার স্বামী আরিফুর রহমান চৌধুরী।

১২ জুলাই গ্রেফতারে পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের আগে জেকেজির সিইও আরিফ চৌধুরীর সঙ্গে তার যোগসাজশ নেই বলে দাবি করে সাবরিনা। তিনি বলেন, আরিফের সঙ্গে তিনি আর সংসার করছেন না। আরিফ চৌধুরী এ মুহূর্তে তার স্বামী নন। তারা আলাদা থাকছেন। আরিফকে তিনি ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছেন। কার্যকর হতে দুই মাস সময় লাগবে। তিনি বলেছেন, জেকেজির চেয়ারম্যান হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এটি ওভাল গ্রুপের একটি অঙ্গসংগঠন। আর ওভাল গ্রুপ একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। যার মালিক আরিফ চৌধুরী। অভিযোগের বিষয়ে তার ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি জেকেজির চেয়ারম্যান নই। আপনারা আগে কাগজ দেখান, তারপর আমার ব্যাখ্যা চান। তিনি বলেন, জয়েন্ট স্টকে আপনারা খবর নেন। আমি কোনো কোম্পানির চেয়ারম্যান নই। আমি জেকেজির স্বাস্থ্যকর্মীদের ট্রেনিং দিতাম। আমি শুধু ট্রেনিং সেন্টার পর্যন্ত যেতাম। জেকেজির সাইনবোর্ডে তার নামের শেষে আরিফ চৌধুরীর নামের শেষাংশ যুক্ত আছে- এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমনও তো হতে পারে এটা আমার আসল নাম না। ফেসবুকীয় নাম। এটা এখনো পরিবর্তন করা হয়নি। দ্রুতই করবো। আমি কোনো অনৈতিক কাজ করিনি। আজকে কেন জীবনেও করিনি। আমি এ বিষয়ে কনফিডেন্ট। সাবরিনা বলেন, আমি আরিফকে কাজ পাইয়ে দিয়েছি বা দিতাম এগুলো একেবারে মিথ্যা কথা। বরং জেকেজির জাল সনদ তৈরির কথা তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজিকে জানিয়েছেন বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানান ডা.সাবরিনা।

আরিফ-সাবরিনার নেগেটিভ পজেটিভ বানিজ্য!

সাবরিনা ও আরিফ দম্পতির প্রতিষ্ঠান জেকেজি থেকে করোনা পরীক্ষার জাল সনদ নিয়ে প্রবাসীরা বিদেশ থেকে ফিরে এসেছেন। এতে করে বিদেশের মাটিতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে জাল পজেটিভ নেগেটিভ ভুয়া সনদ দেয়া হয়েছে। সত্যিকারের পজেটিজ রোগী পেয়েছে নেগেটিভ সনদ। আর নেগেটিভ রোগী পেয়েছে পজেটিভ সনদ। এতে সংক্রমণ ছড়িয়েছে ব্যাপকভাবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে করোনা নমুনা সংগ্রহের জন্য তিতুমীর কলেজে ১টি বুথ স্থাপনের অনুমতি নিয়ে তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে ৪০টি বুথ স্থাপন করে নমুনা সংগ্রহ করার থাকলেও তার বুথ স্থাপন করেছে মাত্র ৭টি। বুথ গুলো থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হলেও তা পরে নালায় ফেলে দিত। প্রশ্ন- উত্তরের ভিত্তিতে পরে টেস্ট না করে নেগেটিভ পজেটিভ সনদ দিতো। ল্যাপটপ থেকে জেকেজির কর্মীরা রাতদিন শুধু জাল সনদ তৈরির কাজ করতেন। এভাবে প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছে ৮ কোটি টাকা।

ফসকে গিয়ে আটকালো!

সরকারি চাকরি করেও সুন্দরী,স্ম্যাট ডা.সাবরিনা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রভাব খাটিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ বাগাতেন। এর বাইরে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড, বিশিষ্টজনের নাম ভাঙিয়ে ফায়দা নেয়া, হুমকি-ধমকি, সন্ত্রাসী বাহিনী লালন-পালনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। জেকেজির সিইও আরিফ চৌধুরী গ্রেপ্তারের পর থেকেই নিজের গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্ন স্থানে তদবির করছিলেন সাবরিনা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে সরকারদলীয় নেতা, চিকিৎসক নেতাদের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। কেউ কেউ তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। পুলিশের সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাবরিনা গ্রেপ্তার এড়াতে প্রভাব সৃষ্টি করেছিলেন। রোববার তিনি ডিসি কার্যালয়ে আসার পর গ্রেপ্তার হবেন সেটি ভাবেননি। যখন তিনি জানতে পারেন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিমর্ষ হয়ে পড়েন।
এদিকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে অবশেষে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের ডাক্তার সাবরিনা শারমিন হুসাইনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ১২ জুলািই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আব্দুল মান্নান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক অফিস আদেশ জারি করা হয়।

সাবরিনার না, পুলিশের হ্যাঁ

পুলিশের তেজগাঁও ডিভিশনের উপ-কমিশনার হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, জেকেজি গ্রুপের সদস্য হুমায়ুন কবির হিমু এবং তার স্ত্রী তানজিনাকে গ্রেপ্তারে পর তারাই পুরো ঘটনা জানায়। তারা রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে বাসায় নিয়ে আসে। বিনিময়ে তারা দেশি মানুষের কাছ থেকে ৫ হাজার ও বিদেশির কাছ থেকে ১০০ ডলার নেন। পরে নমুনাগুলো সুবিধাজনক স্থানে ফেলে দেন। হিমু গ্রাফিক্স ডিজাইনার। সে সার্টিফিকেট তৈরি করে মেইলে পাঠিয়ে দিতো। কোর্টে তারা স্বীকারোক্তি দিয়েছে তারা জেকেজি গ্রুপের সদস্য। তাদের তথ্যের ভিত্তিতেই পরের দিন জেকেজির গুলশানের অফিসে তল্লাসী করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় সিইও আরিফ চৌধুরী এবং আরো চারজনকে। তাদের কাছ থেকেও নকল সার্টিফিকেট, ভুয়া করোনা টেস্টের আলামত জব্দ করা হয়। আরিফ জিজ্ঞাসাবাদ জানান জেকেজির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরী।

পুলিশ জানিয়েছে জেকেজি হাজার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন, সারা দেশে সংক্রমণ ছড়িয়েছেন, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। বিদেশ থেকে এসব জাল সনদ নিয়ে মানুষ ফিরে এসেছে। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে ডা. সাবরিনা কখনই আরেকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান থাকতে পারেন না। অথচ তিতুমীর কলেজের ঘটনায় জেকেজির মুখপাত্র হিসেবে টেলিভিশনে ও ফেসবুকে যে বক্তব্য দিয়ে নিজেই জেকেজি’র সব বোঝা নিজের ঘাড়ে নিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: