রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ০২:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
বাইশারীতে বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যান অনুসারীদের হামলার অভিযোগ উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাব নির্বাচনে বিভিন্ন পদে ১৮জনের মনোনয়ন সংগ্রহ উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাব’র নির্বাচন : জেলাজুড়ে জল্পনা-কল্পনা উখিয়ার লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণে যারা ক্যাম্পে কথিত আরসা সদস্যকে গুলি করে হত্যা বৈশ্বিক তহবিল ঘাটতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সমন্বিত পরিকল্পনা অতীব জরুরী উখিয়ার পূর্বরত্না থেকে গভীর রাতে সংঘবদ্ধ ১৮ রোহিঙ্গা আটক প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে ফুয়াদ আল-খতীব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য উখিয়া কলেজের গভর্ণিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন সম্পন্ন: অধ্যাপক তহিদ ও শাহআলম নির্বাচিত রোহিঙ্গা হেড মাঝি খুনের ঘটনায় ৩জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে এপিবিএন-৮

চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালের সুপারকে বদলী, নেপথ্যে কমিশন বাণিজ্য!

জসিম উদ্দীন: / ৩৬৩ বার
আপডেট রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২০, ৩:২১ অপরাহ্ন

প্রাণঘাতী করোনায় সারাদেশের মত কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থার ব্যাপক দুর্বলতা উঠে আসে। হাসপাতালে আইসিইউ,ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেনের ব্যবস্থা না থাকায় একের পর এক বিনা চিকিৎসায় রোগির মৃত্যুর অভিযোগে কোণঠাসা হয়ে পড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে দাতা সংস্থা ও বিভিন্ন এনজিও’র সহায়তায় অল্প সময়ের মধ্যে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। হাসপাতালের এই উন্নয়নকে বাংলাদেশের একমাত্র ও বিশ্বমানের চিকিৎসা ব্যবস্থা বলে দাবি করেছে কক্সবাজার স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সহায়তায় কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১০টি ভেন্টিলেটর সুবিধাসহ ২০ শয্যার আইসিইউ (ইনটেন্সিভ কেয়ার ইউনিট) বা নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং এইচডিইউ’র (হাই ডিফেন্ডেন্সি ইউনিট) সুবিধা স্থাপন করা হয়েছে। যা গত মাসের ২০জুন উদ্বোধন হলেও ২৮ জুন থেকে চিকিৎসা সেবা শুরু হয়েছে। এতে সংস্থাটির ব্যয় হয়েছে ৩৬ কোটি টাকা। অন্যদিকে ৫৫ লাখ ব্যয়ে অাধুনিক যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই লাইন স্থাপন করে দিয়েছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা UNICEF (ইউনিসেফ)।এটাও জেলা পর্যায়ে হাসপাতালে বাংলাদেশে প্রথম। এ ছাড়াও করোনা দুর্যোগের সময় বিভিন্ন এনজিও সংস্থা ও সংগঠনের পক্ষ থেকে চিকিৎসকদের জন্য ইকুইপমেন্টসহ হাসপাতালের জন্য হাই ফ্লো ন্যাজেল ক্যানোলা অক্সিজেন মেশিনসহ পর্যাপ্ত ও যাবতীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে হাসপাতালের সদ্য বিদায়ী সুপার ডাক্তার মহিউদ্দিনের চেষ্টাতেই বিশ্বমানের চিকিৎসা ব্যবস্থা বা চিকিৎসা সয়ংস্পূর্ণতা অর্জন করেছে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল। ডাক্তার মহিউদ্দিন বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও এনজিওর কাছে এক প্রকার হাত পেতে চিকিৎসার ব্যবস্থার এই উন্নয়ন করেছেন। গত ৫জুন স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ পার ২ অধিশাখা উপসচিব শারমিন আক্তার সাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মহিউদ্দিনকে বদলী করে উপপরিচালক পদে সিএমএসডি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মহাখালী ঢাকাতে এবং (পিএন্ডসি)সিএমএসডি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ডাক্তার মোঃ জাকির হোসেন কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক করা হয়। ডাক্তার মহিউদ্দীনের হঠাৎ বদলী নিয়ে কক্সবাজারে বিভিন্ন মহলে এখনো আলোচনা তুঙ্গে।অভিযোগ উঠেছে মহিউদ্দীনের বদলীতে হাসপাতালের সিন্ডিকেটের হাত রয়েছে। তারা কমিশন বাণিজ্য ধরে রাখতে তাকে বদলী করিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন চিকিৎসক জানান, সিন্ডিকেটের বাইরে গিয়ে সদর হাসপাতালে কিছুই হয় না। সিন্ডিকেট চাইছে না বলে গত দুই বছর ধরে সরকারের দেয়া সিটি স্ক্যান মেশিন এখনো চালু করা হয়নি। তিনি জানান, সিটি স্ক্যান মেশিনসহ আরও অনেক উন্নতমানের চিকিৎসা সরঞ্জাম এখন নষ্টের পথে। এই চিকিৎসকের মতে উন্নতমানের চিকিৎসা ব্যবস্থার কারণপ অস্থিরতায় ভূগছিল সিন্ডিকেটের অনেকেই। এটাই মহিউদ্দীনের বদলীর কারণ হতে পারে। বিভিন্ন দাবিতে অান্দোলনকারী আমরা কক্সবাজারবাসী সংগঠনটি সদর হাসপাতালের সিন্ডিকের বিরুদ্ধে প্রথম থেকে সোচ্চার। সংগঠনটির সমন্বয়ক নাজিম উদ্দিন বলেন, মিথ্যাচার করে ৪০লাখ মানুষকে হুমকিতে ফেলায় আমরা অপসারণ চেয়েছিলাম সিভিল সার্জনের, কিন্তু হাসপাতালের পেশিশক্তির সিন্ডিকেট অপসারণ করেছে সদর হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মহিউদ্দীনকে।অথচ তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ ছিলনা। হাসপাতালে ব্যাপক উন্নয়ন করার অপরাধে ডাক্তার মহিউদ্দিনকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে দাবি করে নাজিম উদ্দীন বলেন, হাসপাতালের আরএমও শাহীন আবদু রহমান একাই তিনটি বেসরকারি হাসপাতালের ডিরেক্টর। এই কারণে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার এমন দূরাবস্থা। বিষয়টি অস্বীকার করে ডাক্তার শাহীন আবদু রহমান বলেন,সরকারি হাসপাতালের কোন চিকিৎসকের বেসরকারি হাসপাতালে ডিরেক্টর হবার সুযোগ নাই। কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডাক্তার মাহবুবুর রহমান বিদায়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মহিউদ্দীনের অবদানের কথা স্বীকার করেছেন। তবে কেন কি কারণে হঠাৎ তাকে বদলী করা হয়েছে এ ব্যাপারে তার জানা নাই বলে জানান তিনি। ডাক্তার মহিউদ্দীন বলেন,করোনা তাণ্ডবের আগে গত ২২মার্চ ইউএইচসিআর কাছে আমি একটি চিঠি লিখি, সেখানে তাদের কাছে আকুতি-মিনতি করে রোহিঙ্গাসহ ৪০লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ৩৬কোটি টাকা ব্যয়ে ভেন্টিলেটর সুবিধাসহ ২০ শয্যার আইসিইউ (ইনটেন্সিভ কেয়ার ইউনিট) এবং এইচডিইউ’র (হাই ডিফেন্ডেন্সি ইউনিট) করে দেয়ার অনুরোধ জানালে তারাও সাড়া দেন। একইভাবে অাধুনিক যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই লাইন স্থাপন করে দিতে প্রবাসী বন্ধু ডাক্তার আবদুল্লাহ সহায়তায় জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা (ইউনিসেফ) এর কাছে অনুরোধ জানালে তারাও সাড়া দেন। এভাবে সদর হাসপাতালের জন্য অনেকের দ্বারেদ্বারে গিয়েছি সবাই কমবেশি সাড়া দিয়েছে।তিনি বলেন,৩০ লক্ষ কক্সবাজারবাসীকে চিকিৎসার জন্য আর ঢাকা চট্রগ্রাম যেতে হবে না। কারন কক্সবাজারের মত চিকিৎসা ব্যবস্থা এ মুহুর্তে বাংলাদেশের কোথাও নাই। হঠাৎ বদলীর কারণ জানতে চাইলে চাপা ক্ষোভ নিয়ে ডাক্তার মহিউদ্দীন বলেন,আমাকে কেন বদলী করা হয়েছে সেটা আমি বলতে পারবনা। চট্রগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহারিয়ার ডাক্তার মহিউদ্দীনের উন্নতমানের চিকিৎসা ব্যবস্থার অবদান স্বীকার করে বলেন, কোন পেশিশক্তি তার বদলীতে হাত ছিল কিনা আমার জানা নাই। তবে ডাক্তার মহিউদ্দীনের বদলীর কথা শোনার পর পরই আমি মাননীয় স্বাস্থ্য সচিবকে ফোন করে বলেছিলাম এই করোনাকালে তাকে বদলী না করলে ভালো হবে। কিন্তু স্যার আমাকে জানিয়েছেন সিএমএসডি,স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডাক্তার মহিউদ্দীনের মত একজন দক্ষ মানুষের প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: