বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১০:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
‘বিডি দর্পণ’ সম্পাদক রফিক মাহমুদ এর পিতা ‘সুলতান আহমদে’র ৮ম মৃত্যু বার্ষিকী আজ শিক্ষার্থীদের মেধা মননের উন্নয়নে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ভূমিকা রাখবে-হেলাল উদ্দিন মেম্বার উখিয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ৬টি পশু খাদ্যের দোকানকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা সার্বভৌমত্ব ও অখন্ডতা রক্ষার লড়াইয়ে সাংবাদিকদের লিখনি অব্যাহত রাখতে হবে একটি জাতি-গোষ্টির জন্য নয়, সমস্ত প্রাণীর কল্যাণে সদ্ধর্ম প্রচার করেছেন “বুদ্ধ” ক্যাম্পে ইয়াবা ও মাদকসহ নানান অপরাধে জড়িত অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গা উখিয়ায় শাশুড়িকে ভাতের সাথে বিষ মিশিয়ে হত্যার চেষ্টা! ডা. মুরাদের মাথার ওপর ভেঙে পড়ল সিলিং ফ্যান কক্সবাজার সৈকত এলাকা থেকে ৪৪৩ রোহিঙ্গা আটক কক্সবাজার জেলা বিএনপির সদস্য সিরাজুল হক ডালিম’র ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

‘নেকাব’ না খোলায় স্কুল শিক্ষিকাকে হেনস্থা করলেন প্রধান শিক্ষক আমিমুল মানিক

নিজস্ব প্রতিবেদক: / ৫৯৫ বার
আপডেট মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২২, ৩:২৪ অপরাহ্ন

অনলাইন ক্লাসে নেকাব না খোলায় একজন মহিলা শিক্ষককে হেনস্থা করেছেন উখিয়ার পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিমুল এহসান মানিক।

নিজেকে ‘নাস্তিক’ দাবিকারি এই প্রধান শিক্ষক মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) ওই ঘটনা ঘটিয়েছে।

হেনস্থার শিকার শিক্ষিকা কামরুন নেছা’র দাবি, তিনি ধর্মীয় বিধান মতে প্রতিনিয়ত নেকাব পরেন। বছরের পর বছর ধরে নেকাব পরেই স্কুলে ক্লাস করে আসছিলেন। মঙ্গলবারও তেমন ভাবেই অনলাইন ক্লাসে লাইভ ক্লাস করেছেন। কিন্তু ক্লাস শেষে প্রধান শিক্ষক তাকে রুমে ডেকে নিয়ে নেকাব না খোলায় সহকর্মী ও অন্য লোকজনের সামনে তিরস্কার ও হেনস্থা করেন। একই সময়ে লাইভ করা ক্লাসটি স্কুলের ফেসবুক পেইজ থেকে মুছে দেন।

শিক্ষিকা কামরুন নেছা’র স্বামী মোহাম্মদ ইসলাম জানান, কামরুন নেছা ওই স্কুলে জয়েন্ট করার পর থেকেই প্রধান শিক্ষক আমিমুল এহসান মানিক তার বিরুদ্ধে লেগে আছেন। এমনকি স্কুলে গেলে প্রায় প্রতিনিয়তই ওই প্রধান শিক্ষক নানা ভাবে তাকে হেনস্থা ও অশ্লীল ব্যবহার করেন।

তিনি দাবি করেন, স্কুলে সুন্দর সহাবস্থানে থাকার জন্য এতদিন প্রতিবাদ না করে মানিয়ে চলার চেষ্টা করেছেন তার স্ত্রী কামরুন নেছা।

অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই প্রধান শিক্ষক স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সাথে নানা ভাবে হয়রানিমুলক কাজ করে আসছিলেন। পরিচালনা কমিটির মতামত না নিয়ে নানা বিতর্কিত কর্মকান্ড করেছেন।

নেকাব পড়ে অনলাইন ক্লাস নিচ্ছেন স্কুল শিক্ষিকা কামরুন্নেছা

একাধিক সুত্র মতে, দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর বাসিন্দা এই আমিমুল এহসান মানিক ছাত্রজীবনে ইসলামি ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি পড়ালেখাও করেছেন ছাত্রশিবিরের টাকায়। অথচ এখন নিজের শিবির পরিচয় ঢাকার জন্য নাস্তিক্যবাদী আচরণ করে যাচ্ছেন।

একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছেন, আমিমুল এহসান মানিক একজন পাহাড় দখলকারি। পাহাড় দখল করেই তিনি বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় অবৈধ ভাবে বসতবাড়ি তৈরি করেছেন। ওই পাহাড় দখল ও পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার এর দায়ের করা মামলায় তিনি এজাহারভূক্ত আসামি।

সুত্র মতে, পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়টি বিশাল পরিসরের স্কুল হলেও আমিমুল এহসান মানিক ওই স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকে নামাজের ব্যবস্থা বন্ধ করে দেন। শিক্ষক-কর্মচারীরা নামাজ পড়তে চাইলে স্কুল মাঠের পশ্চিম পাশের শৌচাগারের ট্যাংকের ঢাকনার উপর দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে হয়। কোন শিক্ষিকা খালি ক্লাস রুমে নামাজ আদায় করতে চাইলে সেখানেও বাধা দেন এই প্রধান শিক্ষক। ওই স্কুলে সাড়ে ৪ হাজার ছাত্র-ছাত্রী থাকলেও নামাজ পরার জন্য কোন নামাজ ঘর কিংবা মসজিদ এখানে রাখা হয়নি।

শিক্ষিকা কামরুন নেছা’র স্বামী মোহাম্মদ ইসলাম জানান, তার সহধর্মিনী ওই স্কুলে সহকারি শিক্ষিকা হিসেবে যোগদানের পর থেকে প্রধান শিক্ষক মানিক তার পেছনে পড়ে আছেন। শুরুতেই কামরুন নেছা’র এমপিওভূক্তি নিয়ে টালবাহানা করেন। পরে কোভিড-১৯ এর লকডাউন চলাকালে অন্য শিক্ষিকারা স্কুলে উপস্থিত না থাকলেও আমার স্ত্রীকে স্কুলে যেতে বাধ্য করেছেন। শুধুমাত্র নেকাব পরা ও প্রধান শিক্ষকের চেম্বারে দীর্ঘ সময় ধরে বসে না থাকায় প্রতিহিংসাপরায়ন হয়ে এই অপকর্ম করে যাচ্ছেন তিনি।

তার মতে, তিনি বেশ কয়েকবার এই বিষয়ে কথা বলতে প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করেছেন। স্কুলেও গেছেন বেশ কয়েকবার। কিন্তু দেখা করে আসার পর শিক্ষিকা কামরুন নেছা’র উপর নিপীড়ন আরও বেড়ে যায়।
মঙ্গলবারও তেমন ভাবে নেকাব পরে ক্লাস নেয়াকে অজুহাত বানিয়ে প্রধান শিক্ষক আমিমুল এহসান মানিক আবারও শিক্ষিকা কামরুন নেছাকে হেনস্থা করেছেন। তিনি একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম নারীর পর্দার অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, আমিমুল এহসান মানিক তার প্রথম স্ত্রীকে প্রসবকালিন চিকিৎসা না করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছেন। পরে তিনি এক স্কুল ছাত্রীকে বিয়ে করেছেন। অনেকেই দাবি করছেন, ওই স্কুল ছাত্রীকে বিয়ে করার জন্য প্রথম স্ত্রীকে হত্যা করেছেন।

এ ব্যাপারে জানতে প্রধান শিক্ষক আমিমুল এহসান মানিকের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তিনি তার মোবাইলটিই বন্ধ করে দেন।

এ ব্যাপারে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি জালাল আহমদ মোবাইলে বলেন, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: