রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২, ০৮:০৩ অপরাহ্ন

উখিয়ায় স্থানীয়দের মাঝে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার ও চুলা বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: / ২৩৫ বার
আপডেট সোমবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২০, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন

উখিয়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও সহযোগী সংস্থা বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস)-এর সাথে মিলে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর আজ রবিবার স্থানীয় ৫,৭৭০ পরিবারের মাঝে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার ও চুলা বিতরণ করেছে। সকল পরিবারকে এলপিজি’র নিরাপদ ব্যবহারের মাধ্যমে রান্নার প্রশিক্ষণও প্রদান করা হয়।

চলমান কোভিড-১৯ মহামারীতে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণ দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুরো জেলার অনেকেরই চাকুরি ও জীবিকা উপার্জনের বিভিন্ন সুযোগ ব্যাহত হয়েছে।

কক্সবাজার জেলার সবুজ বনাঞ্চল ফিরিয়ে আনার প্রয়াসের অংশ হিসেবে ২০১৮ সালে ইউএনএইচসিআর রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি বিতরণ শুরু করে। ২০১৯ সালে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএম-এর সাথে মিলে এই কার্যক্রমে উখিয়া ও টেকনাফের স্থানীয় পরিবারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

উখিয়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার জনাব নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমাদের স্থানীয় জনগণের জন্য ইউএনএইচসিআর ও সহযোগী সংস্থা বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির এই চলমান সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানাই। এদের মধ্যে অনেকেই শরণার্থীদের আগমনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি, পরিবেশ আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। তাই এই এলপিজি ও চুলা বিতরণ একটি যুগোপযোগী পদক্ষেপ”।

এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৬,০০০ স্থানীয় পরিবারকে এলপিজি সিলিন্ডার ও চুলা সরবরাহ করা হয়েছে। ইউএনএইচসিআর ও সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার (আইইউসিএন)-এর এক সাম্প্রতিক পরীক্ষায় দেখা গেছে পুরো উখিয়া উপজেলায় জ্বালানী কাঠের চাহিদা ৯২% কমে গেছে। স্থানীয় পরিবারদের মাঝে এলপিজি ব্যবহারের হার ৭% থেকে বেড়ে ২০% এ দাঁড়িয়েছে, আর ফলস্বরুপ তাঁদের জ্বালানী কাঠের চাহিদা ৫৩% কমে গিয়েছে। লক্ষ্য আছে মোট ৭১,০০০ স্থানীয় পরিবারকে এই কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসা।

এছাড়াও, সহজলভ্যতার কারণে স্থানীয় জনগণের অনেকেই নিজ উদ্যোগে বাসা ও রেস্টুরেন্টে রান্নার জন্য এলপিজি ব্যবহার করা শুরু করেছেন। এই বিকল্প জ্বালানীর সুলভ মূল্যে সহজলভ্যতার কারণে স্থানীয় মানুষ ও পরিবেশ দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাবে।

এলপিজির পাশাপাশি ইউএনএইচসিআর স্থানীয় দরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলোকে নগদ অর্থ সাহায্য দিচ্ছে। শুধুমাত্র ২০২০ সালেই এভাবে ৩০,০০০ পরিবার সহায়তা পেয়েছে।

ইউএনএইচসিআর-এর সিনিয়র ফিল্ড/টেকনিক্যাল কোঅর্ডিনেটর চার্লস ক্যাম্পবেল বলেন, “এলপিজি’র মত পরিবেশ-বান্ধব জ্বালানী ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে পরিবেশ ও জ্বালানী খাতে সহায়তা করতে ইউএনএইচসিআর প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এই বিকল্প জ্বালানী বিতরণের মাধ্যমে আমরা স্থানীয় মানুষদের সাহায্য করছি এবং অবদান রাখছি জ্বালানীর অভাব দূর করতে”

এসময় উপস্থিত ছিলেন, রাজাপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর করিব চৌধুরী, রত্নাপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরী, হলদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ আলম, জালিয়া পালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী, ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার হেলাল উদ্দিন সহ স্থানীয় ইউপি সদস্য, এনজিও প্রতিনিধিরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: