রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২, ০৮:২২ অপরাহ্ন

দেশের সর্বজ্যেষ্ঠ সম্পাদক এমএ মালেক- নাসিরুদ্দিন চৌধুরী

লেখকঃ / ৫১৫ বার
আপডেট মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন

দৈনিক আজাদী’র সম্পাদক জনাব এম এ মালেক দেশের সর্বজ্যেষ্ঠ সম্পাদক। গত ২৯ নভেম্বর তাঁর জন্মদিন পেরিয়ে গেল। কিন্তু সেদিনও কারো মনে হয়নি একথা যে, তিনি তো দেশের বয়োজ্যেষ্ঠ সম্পাদক, সে হিসেবেও তাঁর কিছু বাড়তি সম্মান প্রাপ্য। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম দৈনিক প্রকাশের কৃতিত্ব যেমন তাঁর, তেমনি চট্টগ্রামের প্রাচীনতম ও দেশেরও অন্যতম প্রাচীন দৈনিকটির অগ্রযাত্রা উচ্চ প্রবৃদ্ধির হারে অব্যাহত রেখেছেন, তিনি এও কি কম গৌরবের !
১৬ ডিসেম্বর ’৭১- একটি স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ-আত্মপ্রকাশ করে; ঠিক তার পরদিনই যখন সবাই উচ্ছ্বসিত আবেগে বিজয়ের আনন্দ উপভোগ করছেন, তখন মালেক সাহেব সেসময় তাঁর পত্রিকার যেসব সাংবাদিককে খুঁজে পাওয়া গেলো, তাদেরকে জড়ো করে বলেছিলেন, চলেন আমরা আজাদীটা বের করি, সেটাই হবে জাতির প্রতি আমাদের শ্রেষ্ঠ উপহার। আমি জানি এ এটা পত্রিকা বের করার সময় নয়, দেশের কোথাও কারো মাথায় হয়তো এ বিষয়টা আসেনি, সবাই হয়তো ডিসেম্বরের শীতার্ত দিনে স্বাধীনতার মৌতাতে মজে রয়েছেন। কিন্তু নয় মাসের যুদ্ধের কথা, হারিয়ে যাওয়া স্বজনের সন্ধান, স্বাধীনতার জন্য জাতির চরম আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অতন্ত্র অপেক্ষের প্রহর যখন শেষ হলো, তখন সে কথাগুলো বলার জন্য একটি সংবাদপত্রের পরিসর তো উন্মুক করে দেয়া চাই। আজাদীর সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ যুদ্ধের জন্য ভারতে গিয়ে তখনো ফিরে আসতে পারেন নি। সুতরাং মালেক সাহেবকেই আজাদী প্রকাশের সৈনাপত্য গ্রহণ করতে হয়েছিলো।

আশি-উত্তীর্ণ বয়সে মালেক সাহেব এখন একটি প্রতিষ্ঠান। অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ, ইউসুফ চৌধুরীর মৃত্যুর পর মালেক সাহেবই একমাত্র পুরুষ, যাঁকে চট্টগ্রামের সর্বজনমান্য অভিভাবক হিসেবে মনে করা যেতে পারে। চট্টগ্রামের জনসাধারণ তাঁদের সংকটে-সংশয়ে, দুর্যোগে-দুর্বিপাকে দলমতনিবির্শেষে যাঁর পক্ষপুটে আশ্রয় নিতে ছুটে যেতে পারেন, তিনি হলেন মালেক সাহেব।

অধুনা চট্টগ্রামের এই সম্মাননীয়, মান্য পুরুষকে তাঁর জন্মদিন উপলক্ষ করে বিলম্বিত অভিবাদন জানাই। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি তিনি আরো বহু বহুদিন আমাদের মধ্যমণি হয়ে বেঁচে থেকে শোভা বর্ধন করুন। সক্রিয় থাকুন নব নব সৃষ্টির সম্ভার নিয়ে। তাঁর সুন্দর সহাস্য মুখাবয়ব, অভ্যাগতকে সাদর সম্ভাষণ, কনিষ্ঠকে স¯েœহ আহবান, ¯িœগ্ন, মার্জিত রুচির মধ্যেও যাঁর আভিজাত্য চাপা থাকে না। এই গৌরকান্তি সৌম্য দর্শন, সুন্দর সুপুরুষ, অধুনা বার্ধক্যেও যাঁর রূপের ছটা শেষ বিকেলের সোনাঝরা রোদে ঝিকিমিঝি করে মুগ্ধতার আবেশ ছড়িয়ে দেয়-এমন নমিত স্বভাবের মানুষটির সম্মুখে আপনা থেকেই নত হয়ে আসে আমাদের মস্তক। জয়তু এম.এ.মালেক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: