সোমবার, ১৭ মে ২০২১, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন

সেন্টমার্টিনে যাওয়া-আসার ক্ষেত্রে কিছু পরামর্শ ও সতর্কতা

ব্যক্তিগত মতামত: / ২৬৬ বার
আপডেট সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন

১. আমরা গিয়েছিলাম কক্সবাজার থেকে কর্নফুলী শিপ এ করে। যাবার জন্য ওপেন ডেক ভালো হলেও আসার সময় প্রচন্ড ঠান্ডা বাতাসের কারনে বেশিরভাগ সময়ই কারো পক্ষেই সীটে বসা সম্ভব হয় নি। সবাই সিট ছেড়ে জাহাজের পিছন দিকে বসেছিলো। টিকেট করার সময় বিষয়টি মাথায় রাখবেন।

২. জাহাজ কক্সবাজার থেকে ছাড়ে সকাল ৭ টায়। পৌছেছে দুপুর ১ঃ৩০ এর দিকে। তবে ছাড়ার সময় এবং পৌছানোর সময় জোয়ার ভাটার কারনে চেঞ্জ হয়। আবার আসার সময় ছাড়ে বিকেল ৩ঃ৩০ মিনিটে, পৌছে প্রায় রাত ৯ঃ৪০ এর দিকে।

৩. সেন্টমার্টিনে যাবার আগে আমরা রিসোর্ট বুকিং দিয়ে রেখেছিলাম। সী প্রবাল, নতুন চালু হয়েছে। জেটির একটু অদুরে। হেটেই পৌছলাম। ভাড়া বেশি হলেও বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার নিয়ে থাকার জন্য বেশ ভালো। আর এই রিসোর্টের উত্তর পূর্ব পাশের বীচের সাথে। এখানে সকালে দাড়িয়ে সূর্যোদয় দেখতে পারবেন।

৪. সেন্টমার্টিনে রাত ১০ টার পরে বেশিরভাগ স্থানে বিদ্যুৎ না থাকলেও রিসোর্টে সব সময়ই বিদ্যুৎ ছিলো।

৫. জাহাজে যাবার সময় দিনের বেলা ভালো লাগলেও ফিরে আসার সময় বেশ বোরিং ফিল হয়েছিলো। তাই যারা যাবেন আসার সময় টেকনাফ হয়ে আসলে বেটার হতে পারে।

৬. যারা বিচ ভিউ পেতে চান তারা “নীল দিগন্তে রিসোর্ট” থাকতে পারেন। কারন এই রিসোর্টটি একদম পশ্চিমে বীচের পাশে। সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখার জন্য + লোকেশন —এই বীচের মত সুন্দর অন্য কোথাও নেই।

৭. জাহাজে সব খাবারের দামই দ্বিগুন। চিপস, কফি সব কিছুরই দাম ডাবল। তাই যাবার আগে বা ফেরার সময় খাবার কিনে জাহাজে উঠলে কিছু টাকা সেইভ করতে পারবেন।

৮. ওখানে রিক্সা ভাড়া দেখলে বুকে ব্যাথা হবে কনফার্ম। কারন ৩০/৪০ টাকার দূরত্বে গিয়ে যখন ১০০/১৫০ টাকা ভাড়া চাইবে তখন এমন হওয়াই স্বাভাবিক।

৯. অনেকেই সেন্টমার্টিন যাবার জন্য ১ রাত থাকার সাজেশন দেন। তবে যাবার পরে বুঝলাম ২ রাত থাকলে ভালোভাবে সেন্টমার্টিনসহ আশেপাশের সব লোকেশনের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে পারবেন। দুপুরে ১ টার পরে জাহাজ থেকে নেমে, হোটেলে গিয়ে তারপর লাঞ্চ করে সময় বেশি থাকে না। আবার পরদিন দুপুর ৩ঃ৩০ এ জাহাজ ছাড়ে। পরিবারসহ গেলে এই সময়ে সব স্পটে ঘোরাটা একটু কঠিন।তাই সময় নিয়ে সেন্টমার্টিনে যান। কারন এতদূরে পরে আবার আদৌ যাবেন কিনা ঠিক নেই।

১০. সেন্টমার্টিনে হোটেলে/রিসোর্টে চেক আউট করার সময় দুপুর ১১ টা। কিন্তু জাহাজ ছাড়ে বিকেল ৩ঃ৩০ মিনিটে। তাই সকালে বের হবার আগে সব মালপত্র গুছিয়ে যেতে হয়। কারন হোটেল কতৃপক্ষ ১১ টার পরে সব মালামাল কাউন্টারে নিয়ে আসে রুম পরিস্কার করার জন্য। আমরা সব কাজ সেরে দুপুর ২ টার দিকে হোটেলে ফিরে আসি। তারপর ওয়াশরুমে গিয়ে চেঞ্জ করে, লাঞ্চ সেরে একসাথে ৩টার দিকে জাহাজে উঠে যাই।

১১. সেন্টমার্টিনে যেসব নামকাওয়াস্তে রিসোর্ট গড়ে উঠেছে সেগুলো আসলে গ্রামের বাড়িতে সাইড ওয়াল আর উপরে টিন দিয়ে লম্বা করে ব্যারাকের মত রুম করেছে অনেকগুলি। এগুলো আসলে কোন ধরনের রিসোর্টের পর্যায়েরই না।

১২. ওখানে থাকার মতো ৩ টি ভালো রিসোর্ট হচ্ছে সানরাইজ, ফ্যান্টাসী, কোরাল ভিউ। কোরাল ভিউ সম্ভবত সামরিক বাহিনী দ্বারা পরিচালিত। তবে এটি একদম সাগরের তীরে, বীচ ভিউ খুব ভালোভাবে দেখতে পারবেন। তবে এটি জেটি থেকে অনেক দূরে। সানরাইজ চালু হয়েছে ডিসেম্বর মাসে। তবে খুবই সুন্দর রিসোর্ট। ডাবল বেডের রুম। ৪ জন করে থাকা যায় রুমে।

১৩. ওখানে খাবার খেয়েছি নিজস্ব ক্যান্টিনে। মোটামুটি ভালোই না খারাপও না। আমরা যেহেতু বাইরের খাবারে খুব ইন্টারেস্টেড ছিলাম না তাই এই ব্যাপারে ভালো সাজেশন দিতে পারছি না। তবে অনেকেই দেখেছি লবষ্টার, বার্বিকিউ খাবার জন্য হোটেলে জমায়েত হয় সন্ধ্যার পরে।

১৪. জেটি থেকে দূরে থাকলে সমস্যা হলো অনেক টাকা রিক্সা ভাড়ায় চলে যাবে। অন্যদিকে সব খাবার হোটেল কিন্তু জেটি বা বাজারের কাছাকাছি। তাই না এসেও উপায় নেই। তবে গ্রুপে থাকলে হয়তো হেটে কিছুটা গাড়িভাড়া সেইভ করতে পারবেন।

১৫. প্রতিটি বীচে যাবার জন্য রিক্সা ভাড়া না করে, বরং বাজারের কাছের বীচে গিয়ে সেখান থেকে হাটতে থাকলে বাকি সব পয়েন্টে পৌছতে পারবেন।

১৬. ওখান থেকে আচার কিনেছিলাম কিন্তু মান মোটেই ভালো না। তবে শুটকী মাছ কিনেছিলাম, কোয়ালিটি বেশ ভালো৷ তবে বাজার থেকে না। বরং যিনি শুটকী তৈরী করছেন, তার থেকে নিয়েছি। সেন্টমার্টিনে ডাবের দাম কিন্তু বেশি, কারন এরা সবই কিনে আনে টেকনাফ থেকে। তবে এলাকার কিছু ডাব পাবেন আব্দু শুক্কুরের কাছে, খুবই মিষ্টি, দাম ৮০/৮৫ টাকা করে নিবে।

১৭. এখানকার লোকদের সব কিছুর জন্য টেকনাফের উপর নির্ভর করতে হয়। আয়ের ব্যবস্থা বছরের এই ৫/৬ মাস। তারপর এদের আয়ের তেমন কোন ব্যবস্হা নেই কক্সবাজারের মত। তখন জমি চাষ বা মাছ ধরাই এদের জীবিকা। তাই বাড়তি টাকা যা আয় করে তার কিছুটা জমিয়ে রাখে ঐ সময়ের জন্য। বর্ষাকালে এরা পুরো বিচ্ছিন্ন থাকে।

জাহাজে বা সেন্টমার্টিন যেখানেই যাবেন ময়লা, আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন৷ আপনার পরে যারা আসবে তারা যেন ঘোরার সময় ভালো পরিবেশ পায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: