সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০১:১০ অপরাহ্ন

শুঁটকি নিয়ে মহাপরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: / ৭৬ বার
আপডেট সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০১:১০ অপরাহ্ন

সাগরে আহরিত অনেক মাছই সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যায়। এই অপচয় কমাতে বড়সড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নেওয়া হয়েছে আধুনিক পদ্ধতিতে শুঁটকি মাছ উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত। ‘কক্সবাজার জেলায় শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প’ শিরোনামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেকের অনুমোদন পেয়েছে বলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সাগরে আহরিত মাছের অপচয় রোধে এর সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং জেলে পরিবারগুলোর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আধুনিক পদ্ধতিতে বছরে প্রায় ১৪ হাজার মেট্রিক টন মানসম্পন্ন শুঁটকি উৎপাদন সম্ভব হবে। মাছের সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থাপনার জন্য কক্সবাজারের খুরুশকূলে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ শুঁটকি প্রক্রিয়া কেন্দ্রও স্থাপন করা হবে।
এতে অভ্যন্তরীণ বাজারে মানসম্পন্ন শুঁটকির সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শুঁটকির প্রবেশাধিকারও নিশ্চিত করা হবে। সর্বোপরি প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ৪ হাজার ৬০৯টি জেলে পরিবারের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে।
সূত্র জানায়, কক্সবাজার জেলায় শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প স্থাপন প্রকল্পটি গ্রহণের ক্ষেত্রে উদ্যোগী মন্ত্রণালয় হচ্ছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন।
সূত্র জানিয়েছে, কক্সবাজার জেলার সদর উপজেলার খুরুশকূল মৌজায় সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া ১৯৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে আধুনিক শুঁটকি প্রক্রিয়া কেন্দ্রটি স্থাপিত হবে। আগামী ২০২১ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু হয়ে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বাস্তবায়নের কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরের এডিপি-তে বরাদ্দবিহীনভাবে সংযুক্ত অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত নেই। তবে, আশ্রয়ণ-২ (২য় সংশোধিত) প্রকল্পের ওপর গত ১৯ জুন পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত পিইসি সভার সুপারিশ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।
এক্ষেত্রে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ২০২০-২১ অর্থবছরের এডিপিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নতুন অননুমোদিত প্রকল্পগুলোর উচ্চ অগ্রাধিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ‘ভ্যালু অ্যাডেড পণ্য শুঁটকি মাছ ও সাপ্লাই চেইন উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটির পরিবর্তে ‘কক্সবাজার জেলায় শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প কেন্দ্র স্থাপন’ প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত করে একনেক অনুমোদন করেছে।
জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার ৫০০ বর্গমিটার আয়তনের অবতরণ শেড নির্মাণ করা হবে। ১ হাজার ৮৬০ বর্গমিটার আয়তনের ৪ তলাবিশিষ্ট ল্যাবরেটরি, অফিস, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কাম ডরমেটরি নির্মাণ করা হবে। চার চেম্বার বিশিষ্ট ১০০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন কোল্ডস্টোরেজও বানানো হবে। মাছ অবতরণের জন্য সাগরপাড়ে ২টি ওয়ে ব্রিজ ও ৩টি পন্টুন ও গ্যাংওয়ে তৈরি করা হবে। ৩৫০টি গ্রিনহাউস মেকানিক্যাল ড্রায়ার এবং ৩০টি মেকানিক্যাল ড্রায়ার স্থাপন করা হবে। প্যাকেজিং ফ্যাক্টরি স্থাপন করা হবে প্রকল্পের আওতায়। ৩৬টি শুঁটকি বিক্রয় কেন্দ্রও নির্মাণ করা হবে। ১০টি টয়লেট জোন ইটিপি, এসটিপি ও ডব্লিউটিপি, ৩টি জেনারেটরসহ ১টি বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন, ৩টি আরসিসি জেটি নির্মাণ করা হবে।
পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি উদ্বৃত্ত মৎস্যজাত পণ্য রফতানি করা।
এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় ১৪ হাজার মেট্রিক টন মানসম্পন্ন শুঁটকি উৎপাদন সম্ভব হবে, যা দেশের মৎস্যজাত আমিষের চাহিদা পূরণে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি রফতানি আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এ ছাড়া, প্রকল্প এলাকায় প্রায় ১০ হাজার লোকের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এসব বিবেচনায় সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সব উদ্যোগই গ্রহণ ও এর কার্যক্রম মনিটরিং করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: