সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১২:৫৬ অপরাহ্ন

লামায় ৩১টি অবৈধ ইটভাটা

লামা প্রতিনিধি: / ৯৮ বার
আপডেট সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১২:৫৬ অপরাহ্ন

বান্দরবানের লামা উপজেলায় চলতি মৌসুমে ইট তৈরীর জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে অবৈধ ইটভাটা সমূহ, ফাইতং ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের এক–দশমাংশ জমি দখল করে ৩১টি অবৈধ ইটভাটা এক দশকের অধিক সময় ধরে চলছে। এতে প্রতিনিয়ত ফাইতংয়ের কৃষি জমি, পাহাড় ও বনাঞ্চল ধ্বংস হচ্ছে। প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর মাঝেমধ্যে জরিমানা করলেও একটি ইটভাটাও বন্ধ হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে, পাড়ার পাশে, খালের তীরে ও সড়কের ধারে গড়ে উঠেছে ইটভাটা। ৭ নম্বর ওয়ার্ডে শিবাতলীপাড়া, মংবাচিংপাড়া ও মে অংপাড়া এলাকায় নয়টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। এসব ইটভাটার আশপাশে পাহাড় কাটতে দেখা গেছে।

৮ নম্বর ওয়ার্ডের লাম্বাশিয়া, বড়খোলা, পুরোনো হেডম্যানপাড়ায় ১৫টি এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মানিকপুরে ৭টি ইটভাটা তৈরি হয়েছে। এসব এলাকায়ও নির্বিচারে পাহাড় কাটা হচ্ছে। ইটভাটাগুলোতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কয়েক শ শ্রমিক ইট তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

জনপ্রতিনিধি এবং স্থানিয় লোকজন বলছেন, ফাইতং ইউনিয়নে কৃষিজমির পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এলাকার পরিবেশের ভারসাম্যও মারাত্মক হুমকির মুখে।

ফাইতং মৌজার হেডম্যান (মৌজাপ্রধান) উম্রামং মারমা বলেন, শুধু ফাইতং মৌজা নিয়ে গঠিত ফাইতং ইউনিয়নের মোট জমি ১৬ হাজার ২০৫ একর।

৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জমির পরিমাণ ৫ হাজার ৪০১ একর। এই তিন ওয়ার্ডের ১০ ভাগের ১ ভাগ জমি ৩১টি ইটভাটার দখলে রয়েছে। এই এলাকায় এখন চাষাবাদ করারও কোনো জমি নেই। তিন ওয়ার্ডের জনসংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ বহিরাগত শ্রমিক ইটভাটায় কাজ করেন।

ফাইতং ইউনিয়নের একজন ওয়ার্ড সদস্য বলেছেন,২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর চট্টগ্রামের পরিবেশ অধিদপ্তর লামার ইটভাটাকে প্রায় ২৭ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। তবে কোনো ইটভাটাই বন্ধ করা হয়নি।
এ জন্য বর্ষা শেষে ইট পোড়ানোর মৌসুমের শুরুতে ইটভাটাগুলো আবারও ইট তৈরির কাজ শুরু করেছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, ইটভাটাগুলোতে এখন চলছে ইট তৈরির প্রস্তুতি। পাহাড় কেটে আনা হচ্ছে মাটি। বনাঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে কাঠ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ইটভাটার ব্যবস্থাপক বলেন,কয়েক দিনের মধ্যে ইটভাটাগুলোর চুল্লি জ্বালানো হবে।

ইট তৈরির জন্য মাটি কাটা, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহসহ অন্যান্য কাজ করা হচ্ছে। ফাইতংয়ের বনাঞ্চলে গাছ শেষ হওয়ায় লামা, চকরিয়া, ফাসিয়াখালী, বানিয়ারছড়াসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে কাঠ আনা হচ্ছে।

সরেজমিনে কয়েকটি ইট ভাটা শ্রমিকের সাথে আলাপকালে জানা যায়,একটি ইটভাটায় ছয় লাখ ইট পোড়াতে ছয় হাজার মণ জ্বালানি কাঠের প্রয়োজন। সেই হিসাবে ফাইতংয়ের ৩১টি ইটভাটায় প্রতিবছর ১৮ কোটি ৬০ লাখ ইট পোড়াতে ১৮ লাখ ৬০ হাজার মণ বা ৭৪ হাজার ৪০০ টন জ্বালানি কাঠ পোড়ানো হচ্ছে।

ইটভাটার কালো ধোঁয়া আশপাশের পরিবেশের ক্ষতি করছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। শিবাতলীপাড়ার বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য এমং মারমা বলেছেন, ইটভাটার চুল্লি জ্বালালে আশপাশের পাড়া কালো ধোঁয়া ও ধুলাবালিতে ছেয়ে যায়। ইটভাটার কারণে গাছ কাটার ফলে শিবাতলী খালসহ এলাকার পানির উৎসগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে এলাকায় পানির ভয়াবহ সংকট দেখা দেয়। ইটভাটা বন্ধ করা না হলে আগামী কয়েক বছরে শিবাতলী এলাকা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সূত্রে জানাযায় চট্টগ্রামের পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন ,২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর ফাইতংয়ের সব অবৈধ ইটভাটাকে জরিমানা করেছেন। ইটভাটা বন্ধে বাধ্য করতেই মালিকদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব রেজা রশিদ বলেন আমি লামা উপজেলায় নবাগত নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদান করছি, খোঁজ খবর নিয়ে ইটভাটার ব্যাপারে ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: