মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
পুলিশ হেফাজত থেকে পলাতক আসামী আবারও গ্রেপ্তার একটি জাতিকে এগিয়ে যেতে হলে নারী-পুরুষ উভয়কেই সমানভাবে কাজ করতে হবে : শ্রাবস্তী রায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিয়ে নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত-১ আহত-৮, আটক-২ ‘মুক্তি কক্সবাজার’ এর উদ্যোগে উখিয়ায় বিশ্ব এইডস দিবস পালিত উখিয়ায় পুলিশের হাতে রুবেল নামের এক সন্ত্রাসী আটক সীমান্তে ইয়াবা পাচার নিয়ন্ত্রণে ৪জন শীর্ষ রোহিঙ্গা নেতা জ্ঞানভিত্তিক মূল্যবোধসম্পন্ন একটি মানবিক সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবে ‘রেডিও সৈকত’ নির্বাচনে হেরে কম্বল ফেরত নিলেন বিদায়ী মেম্বার চেয়ারম্যান হলেন প্রয়াত নোবেলের স্ত্রী ফারহানা ৯৯ ভোট পেলেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী জন্নাতুল বকেয়া

হত্যাকান্ডে অংশ নেন ৫ জন অস্ত্রধারী

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ ‘কিলিং মিশন’ ২ মিনিটে শেষ

শফিক আজাদ:: / ২৯১ বার
আপডেট শনিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২১, ৩:৪০ অপরাহ্ন

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা ও আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহ হত্যায় কিলিং স্কোয়াডের ৫ অস্ত্রধারী ছিল। যারা মাত্র ২ মিনিটেই মুহিবুল্লাহর হত্যার মিশন শেষ করে পালিয়ে যান। এ হত্যাকাণ্ডে সর্বমোট ১৯ জন কাজ করেছে বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ড পূর্ব পরিকল্পিত ছিল।

শনিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়ায় মুহিবুল্লাহর হত্যার কিলিং স্কোয়াডের সদস্য আজিজুল হককে গ্রেফতারের পর প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন ১৪ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এসপি নাঈমুল হক।

আজিজুল হক ছাড়াও কুতুপালং ক্যাম্প-১ এর ডি ৮ ব্লকের আব্দুল মাবুদের ছেলে মোহাম্মদ রশিদ প্রকাশ মুরশিদ আমিন ও একই ক্যাম্পের বি ব্লকের ফজল হকের ছেলে মোহাম্মদ আনাছ ও নুর ইসলামের ছেলে নুর মোহাম্মদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে আজিজুলের স্বীকারোক্তির কথা জানিয়ে ১৪ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এসপি নাঈমুল হক বলেন, মুহিবুল্লার হত্যার দুই দিন আগে মরগজ পাহাড়ে কিলিং মিশনের জন্য বৈঠক করে দুর্বৃত্তরা। সেখান থেকে ৫ জনকে অস্ত্রসহ মোট ১৯ জনকে নির্দেশ দেওয়া হয় মিশন শেষ করার জন্য।

তিনি জানান, দিনে দিনে মুহিবুল্লাহ রোহিঙ্গাদের নেতা হিসেবে পরিচিত হচ্ছে। তাকে থামাতে হবে। সেটা যেকোনো মূল্যে। তাই ২৯ সেপ্টেম্বর মুহিবুল্লাহকে বাসা থেকে অফিসে প্রত্যাবাসন বিষয়ে কথা আছে বলে ডেকে আনে গ্রেফতার মুরশিদ। তারপর বাকিদের সংকেত দিয়ে দেয় সে।

তিনি আরও জানান, প্রথমে একটি, তার পরেরজন দুইটিসহ চারটি গুলি করা হয় মুহিবুল্লাহকে। তারপর মুহিবুল্লার বাড়ির পেছন দিয়ে পালিয়ে যায় স্কোয়াডের ৫ জন। পরে সবাই সতর্ক হয়ে যায়। বিভিন্নজনের ওপর দোষ চাপাতে থাকে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প-১ ইস্ট-ওয়েস্ট (ডি ব্লকে) নিজ অফিসে অবস্থান করছিলেন মুহিবুল্লাহ। এ সময় বন্দুকধারীরা গুলি করে তাকে হত‌্যা করেন। এখন পর্যন্ত এ হত্যা মামলায় ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তার মধ্যে মোহাম্মদ ইলিয়াছ নামে একজন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

উল্লেখ‌্য, মুহিবুল্লার মূল উত্থান হয় ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা আগমনের বর্ষপূর্তিতে। ওই দিন তিনি লাখো রোহিঙ্গার সমাবেশ ঘটিয়ে আলোচনার তুঙ্গে এনেছিলেন নিজেকে। সেদিন তার নেতৃত্বে ছিলো ৩ থেকে ৫ লাখ রোহিঙ্গার মহাসমাবেশ।

এরপর তিনি উখিয়া-টেকনাফের ৩২ রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়েছিলেন। রোহিঙ্গাদের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে দক্ষ মুহিবুল্লাহ ধীরে ধীরে প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠেন। যা তার কাল হয়ে দাড়ায় বলে রোহিঙ্গাদের অভিমত।

অপরদিকে শুক্রবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে উখিয়ার এফডিএমএন ক্যাম্প-১৮ এইচ-৫২ ব্লকের ‘দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়াহ’ মাদ্রাসায় ঘুমন্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর ব্রাশফায়ার করে দুর্বৃত্তরা। এতে তিনজন শিক্ষক ও এক ছাত্রসহ ৬ জন নিহত এবং কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়। কয়েকজনকে জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত করেছে হামলাকারীরা।

ক্যাম্পে কর্মরত ৮ এপিবিএনের (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) উপ-অধিনায়ক কামরান হোসাইন জানান, নিহতদের সবাই রোহিঙ্গা। এরমধ্যে চারজন ঘটনাস্থলে এবং দুজন হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা গেছেন।

নিহতরা হলেন- দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়াহ মাদ্রাসার শিক্ষক ক্যাম্প-১২, ব্লক-জে ৫ এর বাসিন্দা হাফেজ মো. ইদ্রীস, ক্যাম্প-৯ ব্লক-২৯-এর মৃত মুফতি হাবিবুল্লাহর ছেলে শিক্ষার্থী ইব্রাহীম হোসেন, ক্যাম্প-১৮ ব্লক-এইস-৫২’র স্বেচ্ছাসেবক আজিজুল হক ও মো. আমীন ঘটনাস্থলে মারা যান। আর হাসপাতালে মারা যান এফডিএমএন ক্যাম্প-১৮ ব্লক-এফ-২২ মাদ্রাসার শিক্ষক নুর আলম ওরফে হালিম ও এফডিএমএন ক্যাম্প-২৪’র মাদ্রাসার শিক্ষক হামিদুল্লাহ। উখিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, রাতে তাদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে বলে রোহিঙ্গারা জানান।

এ সময় পুলিশ মুজিব নামে হামলাকারীদের একজনকে আটক করেছে। তার কাছ থেকে দেশীয় লোডেড ওয়ান শুটারগান, ৬ রাউন্ড গুলি ও একটি ছুরি জব্দ করা হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের একটি সূত্রের দাবি, মুহিবুল্লাহ হত্যার পর থেকে সাধারণ রোহিঙ্গাদের তোপের মুখে পড়ে কোণঠাসা হয়ে যায় কথিত আরসার পরিচিত সদস্যরা। তারা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে টেকনাফের হ্নীলার নয়াপাড়া মুছনি ক্যাম্পের পাহাড়ি এলাকায় স্থানীয় কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপের আশ্রয়ে রয়েছে। ফয়েজউল্লা নামে এক আরসা সদস্যকে সম্প্রতি বালুখালী ক্যাম্প থেকে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিয়েছে সাধারণ রোহিঙ্গারা। প্রত্যাবাসন প্রত্যাশী রোহিঙ্গারা একাট্টা হওয়ায় ক্যাম্পে বড় ধরনের নাশকতার ছক আঁকেন প্রত্যাবাসনবিরোধী রোহিঙ্গা দুর্বৃত্তরা। এরই অংশ হিসাবে মাদ্রাসায় ব্রাশফায়ারের মতো নারকীয় এ ঘটনা বলে দাবি তাদের।

রোহিঙ্গা নেতা আবদুল জব্বার, ইব্রাহিম ও নূর হোসেনসহ কয়েকজন সচেতন রোহিঙ্গার অভিযোগ, মুহিবুল্লাহ হত্যা ও ঘুমন্ত শিক্ষার্থী-শিক্ষককে হত্যা একই সূত্রে গাঁথা। কথিত আরসার সন্ত্রাসীরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে দাবি করে তারা আরও বলেন, প্রত্যাবাসনের বদলে বাংলাদেশে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের অপরাধী প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠেছে মিয়ানমার সরকার। এজন্য তারা বিপথগামী রোহিঙ্গাদের দিয়ে ক্যাম্পে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। ২০১৯ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলাটি প্রশ্নবিদ্ধ করাই তাদের লক্ষ্য। এ কারণেই বিশ্ব দরবারে রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী হিসাবে তুলে ধরার সব রকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

উখিয়ার ১৮নং ক্যাম্পে কর্মরত ৮ এবিপিএন অধিনায়ক শিহাব কায়সার খান বলেন, কী কারণে এ ঘটনা ঘটল তা এখনো স্পষ্ট নয়। আমাদের সদস্যরা অস্ত্রসহ মুজিব নামে একজনকে আটক করেছে। তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। ক্যাম্পের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। খুনিদের শনাক্ত ও ধরতে চেষ্টা চলছে

তবে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আহাম্মদ সঞ্জুর মোরশেদ দুপুর ২ দিকে জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শুক্রবারের ঘটনায় এখনো থানায় মামলা হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: