বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০৮:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ উখিয়ার ১২০এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ সহায়তা প্রদান উখিয়ায় পানিতে ডুবে মৃত ৩ জনের পরিবারকে সরকারী সহায়তা প্রদান করেছে প্রশাসন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিহতদের খোঁজ নিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের ঘটনাস্থল পরিদর্শন ঘুমধুমে বৃষ্টির পানিতে সাঁতার কাটতে গিয়ে এক শিশুর মৃত্যু! রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধস ও পানিতে ডুবে শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এপিবিএনের অভিযানে গাজাসহ আটক ২ ধসে পড়লো জেলা পরিষদের পরিত্যক্ত রেস্ট হাউজ ফকির আলমগীরের জানাজা সম্পন্ন করোনার টিকা নেওয়ার বয়সসীমা ১৮ করার ঘোষণা শিগগিরই তরুণ সমাজ সেবক জিয়াউল হাসান টিপুর ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা

রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয়দেরও স্বাস্থ্যসেবা দিতে বদ্ধপরিকর “এমএসএফ”

ডেস্ক নিউজ:: / ১৬৩ বার
আপডেট শনিবার, ১২ জুন, ২০২১, ১১:০১ পূর্বাহ্ন

শুধুমাত্র রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নয়, স্থানীয়দেরও স্বাস্থ্যসেবা দিতে বদ্ধপরিকর মেডিসিন্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ)। সংস্থাটি ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে বিস্তীর্ণ কুতুপালং-বালুখালী ক্যাম্পের প্রাণকেন্দ্রে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে, যা স্থানীয়ভাবে পাহাড়ের উদ্দি হাসপাতাল নামে পরিচিতি লাভ করে।

হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালটিতে জরুরী বিভাগ, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র, ল্যাবরেটরী, বয়ষ্ক এবং শিশুদের জন্য অন্তঃবিভাগ এবং কোভিডের মতো অতি সংক্রামক রোগীদের জন্য আলাদা আইসোলেশন সুবিধাসহ অসংক্রামক রোগীর জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

এ প্রসঙ্গে এমএসএফ হাসপাতালের ব্যবস্থাপক ক্যারোলিনা নারলোচ বলেছেন “এই হাসপাতালটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, আমরা কম সংখ্যক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুলোর মধ্যে একটি যারা সেকেন্ডারি স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছি। নিবিড় পর্যবেক্ষণ, আর হাই ডিপেন্ডেসি ইউনিটের সেবা পেতে ক্যাম্পে বসবাসরত অসংখ্য শরণার্থীদের জন্য আমরাই একমাত্র স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। আমাদের অ-সংক্রামক রোগের চিকিৎসা সেবাও বিশেষায়িত।

তিনি এও বলেছেন, “হাসপাতালে এ ধরণের সেবা না পেলে আজ হোক বা কাল ডায়াবেটিসের মত সাধারণ রোগেও মারা যেতে পারে। আর একজন মানুষ ডায়াবেটিসের মত নিরাময়যোগ্য রোগে মারা যেতে পারে না। উচ্চ রক্তচাপ, এরও চিকিৎসা রয়েছে। এমনকি এটি তেমন কোন জটিল সমস্যা না যদি সময়মতো চিকিৎসা করা যায়।”

কোটবাজারের স্থানীয় বাসিন্দা সুজাউদ্দিন চৌধুরী নামে এক শিক্ষক জানিয়েছেন, এসএফএফ হাসপাতালের সুচিকিৎসার কথা। তিনি বলেছেন, “আমাদের এখানেও এ ধরণের রোগের সেবা দেয়ার মত হাসপাতাল আছে, তবে তাদের সেবার মান তেমন একটা ভালো নয়। আমার মতো অনেকেই এমএসএফ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে উপকার পেয়েছেন। গত এক বছরের বেশী সময় ধরে আমি পাহাড়ের উদ্দি (এমএসএফ) হাসপাতাল থেকে ডায়াবেটিস এর চিকিৎসা করছি।

এসএসএফ, নন কমিউনিকেবল ডিজিজ এর এর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আডিওলা ফাদুমিয়ো বলেছেন, “অসংক্রামক রোগে আক্রান্তদের, আজীবন চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয় এবং নিয়মিত ঔষধ সেবন করতে হয়। আর এখানে শরণার্থী এবং স্থানীয় উভয় জনগোষ্ঠীকেই চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। কারণ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ চিকিৎসা ব্যয়ভার বহন করতে পারে না। একারণে এমএসএফ এ অসংক্রামক রোগের বিনামূল্যে চিকিৎসা পেতে আসেন।”

“এছাড়াও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মাঝে আমাদের চিকিৎসা সেবার বেশ প্রভাব রয়েছে। কেননা, কক্সবাজার শহরটি বাংলাদেশের একটি বেশ আকর্ষণীয় জায়গা। এটি ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো মহানগরী থেকে বেশ খানিকটা দূরে অবস্থিত। তাদের খুব সহজেই স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার মত সুবিধা নেই।”— ক্যারোলিনা নারলোচ, হাসপাতাল ব্যবস্থাপক, এমএসএফ।

পাহাড়ের উদ্দি হাসপাতালে (এমএসএফ) প্রায় ২৮০০ রোগীকে অসংক্রামক রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আর এ সংখ্যা প্রতিমাসে ৫% করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও, পাহাড়ের উদ্দি হাসপাতালটি গর্ভকালীন, প্রসবপরবর্তী সেবা এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রদান করে।

এ প্রসঙ্গে এমএসএফ এর নার্সিং ব্যবস্থাপক লিটন মিয়া বলেছেন, “এ হাসপাতালে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়। যেমন– আন্তবিভাগে ডায়াবেটিস, হেপাটাইটিস সি, ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী রোগ এবং হাঁপানি। এছাড়া আমরা লিভার ও কিডনির জটিল রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকি।”

মিডওয়াইফ সুপারভাইজার শান্তা ইসলাম বলেছেন, “গর্ভকালীন সময়ে একজন মায়ের জন্য স্বাস্থ্যসেবা খুবই গুরুত্বপুর্ণ। এ সময় চেকআপের মাধ্যমে আমরা মায়ের শারীরিক অবস্থা সর্ম্পকে জানতে পারি। আমরা দেখতে পারি মায়ের সব কিছু ঠিক আছে কিনা; এমনকি একজন মায়ের উচ্চ রক্তচাপ, গর্ভকালীন ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য কোন জটিলতা আছে কিনা সেটাও নির্ণয় করা হয়।”

“এটি একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। আর রোগীর সংখ্যাটাও অনেক বেশি। মানবসম্পদ, ঔষধ এবং ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ সামলাতে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। এ জন্য এনসিডি প্রোগ্রাম সহায়তা ও গুরুত্ব বৃদ্ধি করা দরকার।” – আডিওলা ফাদুমিয়ো,বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক-নন কমিউনিকেবল ডিজিজ, এমএসএফ

উল্লেখ্য, ২০১৭ এর আগস্টে মায়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জরুরী চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে এই হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: