বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার ম্যারাডোনা আর নেই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য গফুর চেয়ারম্যানের চেক হস্তান্তর ১৫ দিন পর ৯ জেলেকে হস্তান্তর করল বিজিপি ৯ জেলেকে ফেরত দিতে মিয়ানমারের পতাকা বৈঠক চলছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে লটারির মাধ্যমে ভর্তি: শিক্ষামন্ত্রী আ’লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা কক্সবাজার খুরুশকুলে নির্মাণ হচ্ছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আরো ১১৯টি ভবন কক্সবাজার পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল হুদা , সহ-সভাপতি কাইয়ুম , সম্পাদক কাসেম সেবা নিতে হয়রানির শিকার হলে সরাসরি আমাকে জানাবেন : এসপি হাসানুজ্জামান উখিয়াতে ঝুকিপূর্ণ বাজার ব্যবস্থাপনাঃদেখা নেই অগ্নিনিবার্পক যন্ত্র

রামু-মরিচ্যা সড়ক সম্প্রসারণ, নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: / ৮৫ বার
আপডেট বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন

ব্রিটিশ আমলে নির্মিত কক্সবাজারের রামু- মরিচ্যা সড়ক সম্প্রসারণের কাজ সম্প্রতি শুরু হয়েছে। কিন্তু কাজের শুরুতেই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও সড়ক বিভাগ বলেছেন সড়কের কাজ সবে মাত্র শুরু হয়েছে, এখনও অনিয়ম বলার সময় আসেনি।

কক্সবাজার জেলার প্রাচীনতম সড়কগুলোর মধ্যে রামু-মরিচ্যা সড়ক অন্যতম। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই সড়কটি সংস্কার কিংবা সম্প্রসারণের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। সীমান্ত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এই সড়কটি গুরুত্ব অনেক। এই সড়কের দুপাশে রয়েছে রামু সেনানিবাস, বিজিবির রামু সেক্টর হেডকোয়ার্টার, বোটানিক্যাল গার্ডেন, দেশের সবচেয়ে বড়ো নারিকেল বীজ বাগান, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তিন হাজার বছর আগের পুরনো একটি তীর্থ স্থানসহ বেশ কটি গুরুত্বপূর্ণ ও দর্শনীয় স্থান। এসব বিবেচনায় সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এই সড়কটির সম্প্রসারণের জন্য প্রকল্প হাতে নেয়। ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটিকে প্রস্থ ৯ ফুট থেকে ৩৬ ফুটে উন্নীত করণসহ সড়ক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে ২৬৬ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে মন্ত্রণালয়।

সে অনুযায়ী গত সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে সড়কের কাজ শুরু করে মন্ত্রণালয়ের নিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রানা বিল্ডার্স। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কের কাজ শুরু করতেই অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিডিউল অনুযায়ী সড়কের কাজ করছে না। সড়কের মাটি খুঁড়ে গ্রাউন্ড লেবেলে সাববেইজ করার সময় বালি দিয়েই কাজ করছে। সড়কের সাববেইজ থেকে উপরিভাগ পর্যন্ত কাজে বালি, কংকর, খোয়া এবং খোয়া মিশ্রিত বালির মিশ্রণ যথাযথ কারা হচ্ছে না। যথাযথ কম্পেক্টও করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এভাবে সড়কটি নির্মিত হলে তা টেকসই হওয়া নিয়ে সন্দিহান স্থানীয়রা।

এসব অনিয়মের অভিযোগ উঠায় সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সড়কের কাজ পরিদর্শন করেছেন।

মরিচ্যা চেকপোস্ট এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম জানান, ‘রামু-মরিচ্যা সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সড়ককে মহাসড়কে রূপান্তর করতে কাজ শুরু করেছে। কিন্তু, সড়কে সিডিউল অনুযায়ী কোনও কাজ হচ্ছে না।’

রামু দারিয়ারদীঘি এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেন জানান, ‘সড়কের কাজ শুরু থেকে প্রতিদিন চুরি করে রাস্তার বালি ও কংক্রিট মিশ্রণ করে পর্যাপ্ত পরিমাণ সড়কে দেওয়া হচ্ছে না। বিষয়টি আমরা স্থানীয় এমপি সাইমুম সরওয়ার কমলকে জানিয়েছি। তিনিও সরেজমিন পরিদর্শন করে সত্যতা পেয়েছেন। একারণে কিছুদিন কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু, বর্তমানে সড়কের কাজ সড়ক বিভাগের কোন ধরনের তদারকি ছাড়াও কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’

একই এলাকার আবুল কালাম জানান, ‘সড়ক বিভাগ থেকে মাঝে মধ্যে কোনও কর্মকর্তা কাজ পরিদর্শনে আসলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমাঝোতা করে কাজ করে যাচ্ছে। বিষয়টি রহস্যজনক। কারণ প্রকাশ্যে উক্ত সড়কে কারচুপি হচ্ছে। যে পরিমাণ বালি সংক্রিটের সঙ্গে মেশানোর কথা তা সে পরিমাণ দেওয়া হচ্ছে না।’

এদিকে সড়কের নানা অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে রামু-কক্সবাজার আসনের এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল সরেজমিন পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য সড়কের কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও সরাসরি কোনও মন্তব্য করেনি। তবে সড়কের সম্প্রসারণ কাজে নিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা সড়কের কাজে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রানা বিল্ডার্সের প্রজেক্ট ম্যানেজার সাদ্দাম হোসেন তালুকদার বলেন, ‘সড়কের কাজ সবেমাত্র শুরু হয়েছে। সিডিউল অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। সরকারের ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীরা কাজে যথাযথ তদারকি করছে। স্থানীয় কিছু লোক সড়কের সম্প্রসারণের কাজ শুরুর পর নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।’

জানতে চাইলে কক্সবাজার সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, ‘রামু-মরিচ্যা সড়ক সম্প্রসারণের কাজ সবে মাত্র শুরু হয়েছে। এ পর্যায়ে অনিয়মের অভিযোগ করার মতো সময় এখনও আসেনি। সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীরা প্রতিদিনই কাজ পরিদর্শন করছে। সড়ক নির্মাণ কাজে কোনও অনিয়ম দেখা দিলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও জানিয়েছেন, ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি নির্মিত হলে এটি হবে প্রস্থে এই অঞ্চলের বড় সড়ক। প্রস্তাবিত এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে এটির সংযোগ ঘটবে। এছাড়া চট্টগ্রামের সঙ্গে টেকনাফের সরাসরি যোগাযোগে ১৭ কিলোমিটার পথ কমে আসবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: