রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১, ১০:৩৭ অপরাহ্ন

‘মুক্তি কক্সবাজার’এর উদ্যোগে উখিয়ায় বিশ্ব এইডস দিবসের র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: / ১৪৮ বার
আপডেট রবিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২০, ৮:০৮ পূর্বাহ্ন

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) অর্থায়ানে, মুক্তি কক্সবাজারের উদ্যোগে উখিয়ায় বিশ্ব এইডস দিবস/২০২০ পালিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে বরিবার সকাল ১০টায় র‌্যালি শেষে
উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র হলরুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি’র হিসেবে বিশ্ব এইডস দিবসের উপর আলোচন করেন উখিয়া স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. রনজন বড়ুয়া রাজন। তিনি বলেন, এইচআইভি তিনটি পদ্ধতি মানুষের শরীরে ছড়ায়। এই তিনটির বাইরে কোনো পদ্ধতি নেই। এক. দুজন মানুষের শারীরিক মিলনের মাধ্যমে। দুই. ইনজেকশনের মাধ্যমে হতে পারে, ইনজেকশন যদি শেয়ার করে বা রক্ত দেয়ার মাধ্যমে হতে পারে। তিন. মায়ের থেকে সন্তানের হতে পারে। মা যদি এইচআইভি পজিটিভ হয়, তখন এটি হতে পারে, তাও এর সম্ভাবনা খুব কম। ১০০ ভাগের এক ভাগও নয়, দশমিক পাঁচ শতাংশ সম্ভাবনা থাকে। এই দশমিক পাঁচ শতাংশের মধ্যে পড়ে গেলে সন্তানও এইচআইভি পজিটিভ হতে পারে। এছাড়া শিরায় মাদক গ্রহণকারী, যৌনকর্মী, সমকামী ও হিজড়াদের মধ্যে সংক্রমণে হার বেশি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডা. জুবাইর মুমিন, উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক শফিক আজাদ, আইওএম, এআরটি সেন্টারের জাকিয়া সুলতানা, মুক্তি কক্সবাজারের সুপার ভাইজার সুফিয়া আকতার৷ এসময় উপস্থিত মুক্তি কক্সবাজারের সহকারি প্রকল্প সমন্বয়কারী মোঃ জাহিদুল ইসলাম, ফরিদা আকতার, মিনা আকতার প্রমূখ।

আলোচনার সভার শুরুতে পবিত্র কোরান তেলাওয়াত করেন রাজাপালং ইউনিয়নের সিহাট সদস্য, আজিজুল হক আজিজ।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ‘মুক্তি কক্সবাজার’এর প্রকল্প সমন্বয়কারী সুজন মাহমুদ জামাল।

উল্লেখ্য যে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস/এসটিডি কন্ট্রোলের সর্বশেষ ২০১৯ সালের তথ্য মতে, দেশে বর্তমানে এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। এসব রোগীর মধ্যে এ পর্যন্ত শনাক্ত হয়ে চিকিৎসার আওতায় এসেছে মাত্র ৭ হাজার ৩৭৪ জন।

এখনও শনাক্তের বাইরে রয়ে গেছে প্রায় ৭ হাজার। এদের মধ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আছে ১০৫ জন।
২০১৯ সালে নতুন করে ৯১৯ জন মানুষের শরীরে পজিটিভ এসেছে। আর এ বছর এইডসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৭০ জন।

দেশে এ রোগে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ২৪২ জন। আক্রান্ত রোগীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৫৭২ জন, চট্টগ্রামে ২ হাজার ৮ জন, সিলেট বিভাগে ১ হাজার ১৯ জন, খুলনা বিভাগে ৬৬০ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৯২ জন, বরিশাল বিভাগে ১৭৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮৬ জন, রংপুর বিভাগে ৬৮ জন রয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেবে, দেশে এখনও সাধারণ জনগণের মধ্যে সংক্রমণের হার শূন্য দশমিক ০১ ভাগের নিচে। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী যেমন শিরায় মাদক গ্রহণকারী, যৌনকর্মী, সমকামী ও হিজড়াদের মধ্যে সংক্রমণের হার দুই শতাংশ।

জানা যায়, বর্তমানে বিশ্বের মোট এইডস আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৩৮ মিলিয়ন। এর মধ্যে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১৮ মিলিয়ন।

সংশ্লিষ্টরা সুত্র মতে, দেশের ২৩টি জেলা বেশি এইডস ঝুঁকিতে রয়েছে। ১৯৮৯ সাল থেকে দেশে এইচআইভি রোগী চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশে মাসে একজন এইডস আক্রান্ত রোগীর পিছনে সরকারের খরচ ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। যেসব জেলা এইডস-এর ঝুঁকিতে এগুলো হচ্ছে- ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, বরিশাল, পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, চাঁদপুর, সিলেট, মৌলভাবাজার, দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুরা, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, ও সাতক্ষীরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: