শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১, ০১:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বন্দুকযুদ্ধে ইয়াবা কারবারি নিহত ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে খুলতে পারে শিক্ষাঙ্গন দুদকের মামলায় কারাগারে টেকনাফের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর সেন্টমার্টিন প্রবাল দ্বীপ ভ্রমণে পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ ভাসানচরে ঈদের আনন্দ, মেজবানের আয়োজন হাটহাজারীতে রেলওয়ের সম্পত্তি উদ্ধার করলেন উপজেলা প্রশাসন বান্দরবানে প্রথম দফায় ৩৩৯টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ঘর দেয়া হচ্ছে ইসলামাবাদে সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত আহত-১ মুজিববর্ষে জমিসহ ঘর পাচ্ছেন ৮৬৫ গৃহহীন, শনিবার হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী মহেশখালীর ভূমি অফিসের তহসিলদার জয়নাল দুদকের হাতে আটক

মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার

নিজস্ব প্রতিবেদক: / ১৫৩ বার
আপডেট শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১:৪২ অপরাহ্ন

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার ঘটনায় বরখাস্ত হওয়া টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও তার ইন্ধনে দায়রেকৃত সব মামলা প্রত্যাহার, স্বাভাবিক জীবনের নিশ্চয়তা এবং প্রদীপ সিন্ডিকেটের আনষিক নির্যাতনের বিচার দাবি করেছেন কারামুক্ত সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান। একে একে ৬টি সাজানো মামলার কারণে যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তারও ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার জেলা প্রশাসককে লিখিত আবেদন করেছেন ফরিদুল মোস্তফা খান।

সরকারের চলমান মাদক ও ঘুষ-দুর্নীতি বিরোধী অভিযানকে সফল করতে ধারাবাহিক প্রতিবেদন করেন ফরিদুল মোস্তফা। আপোষহীন লেখালেখির পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্রও তুলে ধরেন। উপস্থাপন করেন প্রদীপ ও তার লালিত সিন্ডিকেটের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড। তাতে ওসি প্রদীপ চড়াও হয় বলে আবেদনে উল্লেখ করেন ফরিদ।
ফরিদুল মোস্তফার দাবি, মাদক নির্মূলের নামে বেপরোয়া মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসা করেছেন টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপ। তার কারণে পুলিশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। ক্রসফায়ারের নামে বিচারবহির্ভুত হত্যাকাণ্ডের কারণে অবনতি ঘটেছে আইন শৃঙ্খলা।

বেপরোয়া ঘোষ লেনদেন, মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি, নিরীহ মানুষ হত্যাসহ মানবতা বিরোধী টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপ ও সদরের সাবেক ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকারের হরেক অপকর্মের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবেদন করেন ফরিদুল মোস্তফা।

এতে দেশ বিদেশে তাদের বিপুল সহায় সম্পদ, টাকা পাচার, অপরাধ লালনপালনসহ সরকার বিরোধী নানা কর্মকান্ডের তথ্য ওঠে আসে। ফলে প্রদীপ-ফরিদ উদ্দিন খন্দকারসহ তাদের লালিত বাহিনীর সদস্য তথা বাঘা বাঘা মাদক ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়। সাংবাদিক ফরিদুলকে হত্যায় মরিয়া হয়ে উঠে। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করার সুযোগও পান নি। জীবন বাঁচাতে চলে যান আত্মগোপনে। এই ফাঁকে কক্সবাজার শহরের মধ্যম কুতুবদিয়াপাড়ায় ফরিদের বসতবাড়িতে রাতের অন্ধকারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটতরাজ চালানো হয়। এ সময় রক্ষা পায়নি তার বৃদ্ধ মা ও বোনেরাও। পরে ঢাকা থেকে ধরে এনে ওই বাড়িতে ফরিদুল মোস্তফাকে ঢুকিয়ে অস্ত্র, ইয়াবা ও বিদেশী মদ উদ্ধার দেখানো হয়।

ফরিদুল মোস্তফা তার আবেদনে উল্লেখ করেন, প্রাণ রক্ষায় তিনি ঢাকার একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন। জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপির সাথে দেখা করেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রদীপ সিন্ডিকেটের কুকীর্কির ২০ পৃষ্টার ডকুমেন্টসসহ লিখিত আবেদন দেন। ওই সময় সকল প্রকার সহযোগিতার আশ^াসও দেন মন্ত্রী।

কক্সবাজারের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশী নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান। তার ওপর ঘটে যাওয়া অমানবিকতা সবাইকে নাড়া দেয়। পুলিশের হেফাজতে রেখে হাত-পায়ের নখ তুলে ফেলা আর চোখে মরিচের গুঁড়া ঢেলে বিভৎস দৃশ্যটি হতভম্ব করে দিয়েছে সব বিবেক।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের কাছে ফরিদুল মোস্তফার করা আবেদনে সেই করুণ চিত্র ফুটে ওঠে। ইতিহাসের এমন বর্বরতম ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন তিনি।

দীর্ঘ ১১ মাস ৫ দিন কারাভোগের পর গত ২৭ আগস্ট জামিনে মুক্ত হন ফরিদুল মোস্তফা। তখন থেকে তিনি কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। সব হারিয়ে মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত। যেখানে থাকার জায়গা নেই, রয়েছে চরম অর্থ সংকটে সেখানে মিথ্যা মামলার ঘানি কিভাবে টানবেন? এ নিয়ে খুবই চিন্তিত ফরিদ ও তারপরিবার। প্রদীপের আগুনে পুড়লো ফরিদের সুখের জীবন। মিথ্যা মামলা আর সংসারের খরচ যোগাতে বসতভিটা বিক্রি করে নিঃস্ব। নেই মাথা গুজার ঠাঁই। সন্তানদের পড়ালেখাও বন্ধ। চিকিৎসার খরচ নিয়ে সংকটে। বৃদ্ধ মা আর স্ত্রী-সন্তানদের কোথায় রাখবে, তা ফেবে কিনারা পাচ্ছে না ফরিদ।

মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ড ও দুদকের মামলায় প্রদীপ কারাগারে থাকলেও তার অন্যান্য সহযোগিরা বাইরে। তাই জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চরমভাবে শঙ্কিত ফরিদুল মোস্তফা।

এমতাবস্থায় জীবনের নিরাপত্তা দাবীর পাশাপাশি মাথা গুজার ঠাঁই বসতবাড়ি, এবং আর্থিক সহযোগিতাসহ প্রয়োজনীয় সাহায্য প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করেছেন কারামুক্ত সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান।

উল্লেখ্য, নির্যাতনের ঘটনায় প্রদীপ কুমার দাশসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে গত গত ৮ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার সিনিয়র জুুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সদর) আদালতে ফৌজদারি দরখাস্ত করেন ফরিদুল মোস্তফা খান। যেটি মামলা হিসেবে রেকর্ড না করে পিবিআইকে তদন্তের আদেশ দেন বিচারক। এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর তদন্ত সংস্থা পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেন ফরিদ। বাদির আবেদনের প্রেক্ষিতে পরবর্তী ধার্য তারিখে শুনানির জন্য রাখে আদালত।
এদিকে, আইনের চেয়ারে বসে বেআইনি কাজ সংঘটিত করা এসব অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রতিকার পেতে ২০১৯ সালের ২৫ নভেম্বর উচ্চ আদালতে রীট করা হয়। যার নং-১২১২১।

ফরিদুল মোস্তফা খান জনতার বাণী বিডি ডটকম এবং দৈনিক কক্সবাজার বাণী পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক। তিনি টেকনাফ হোয়াইক্যং সাতঘরিয়া পাড়ার বাসিন্দা মরহুম ডাঃ মোঃ ইছহাক খানের ছেলে। বর্তমানে শহরের ১ নং ওয়ার্ডের মধ্যম কুতুবদিয়া পাড়ার বাসিন্দা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: