শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১, ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
দুদকের মামলায় কারাগারে টেকনাফের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর সেন্টমার্টিন প্রবাল দ্বীপ ভ্রমণে পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ ভাসানচরে ঈদের আনন্দ, মেজবানের আয়োজন হাটহাজারীতে রেলওয়ের সম্পত্তি উদ্ধার করলেন উপজেলা প্রশাসন বান্দরবানে প্রথম দফায় ৩৩৯টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ঘর দেয়া হচ্ছে ইসলামাবাদে সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত আহত-১ মুজিববর্ষে জমিসহ ঘর পাচ্ছেন ৮৬৫ গৃহহীন, শনিবার হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী মহেশখালীর ভূমি অফিসের তহসিলদার জয়নাল দুদকের হাতে আটক উখিয়ায় শিক্ষকের বসতবাড়ীতে চুরি, নিয়ে গেছে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা বান্দরবানে চাঁদের গাড়ি খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ৫

বিশ্ব মানবাধিকার দিবস

মানবাধিকারের কথা বলে মানুষ ঠকাচ্ছে যারা

ডেস্ক নিউজ:: / ৫৬ বার
আপডেট বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২০, ৫:১৫ পূর্বাহ্ন

মানবাধিকার নিয়ে কাজ করার কথা বলে নিবন্ধন নেয়। এরপর শুরু হয় প্রতারণা। এমন ভুঁইফোড় শতাধিক মানবাধিকার সংগঠনের খোঁজ নিচ্ছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। কমিশন বলছে, আমাদের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করে সারাদেশে অনন্ত ২০৫টি মানবাধিকার সংগঠনের নিবন্ধন দিয়েছে সংশ্লিষ্ট অধিদফতর। যাদের অধিকাংশই মানবাধিকার রক্ষার কথা বলে নানাভাবে প্রতারণামূলক কাজে অংশ নিচ্ছে। এমনকি আমাদের সংগঠনের নাম বলে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কাছেও পৌঁছে যাচ্ছে।

‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও স্বাস্থ্যসেবা সংঘ’ নামের একটি মানবাধিকার সংগঠন, যার রেজিস্ট্রেশন সি-৬১০(৬২)০৫; সংগঠনটি শেরপুর জেলার, ঝিনাইগাতী থানার রাজমিনা আক্তার নামের একজন নারীকে চিঠি দেয়। চিঠির বিষয়বস্তু ছিল আত্মসাৎকৃত স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ২০ হাজার টাকার ফেরত প্রদান প্রসঙ্গে। এই চিঠিতে মানবাধিকার সংগঠনটি লেখে, ‘আপনার স্বামী মুনসুর আলী আমাদের কাছে গত ৬ সেপ্টেম্বর অভিযোগ করেছেন। আপনি স্বর্ণালঙ্কারসহ নগদ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে নারায়ণগঞ্জে খালার বাড়ি চলে গেছেন। আপনাদের একমাত্র দেড় বছরের অসুস্থ কন্যা সন্তানকে আপনার স্বামী ও শ্বশুরশাশুড়ি দেখতে গেলে, আপনি ও আপনার আত্মীয়রা মিলে আপনার স্বামীকে মারধর করেছেন। শ্বশুর-শাশুড়িকে অপমান-অপদস্ত করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। অন্যের জিনিসপত্র আত্মসাৎ বা চুরি করা এবং কোনও ব্যক্তিকে শারীরিক নির্যাতন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’

মানবাধিকার এই সংগঠনটি রাজমিনাকে আরও বলে, ‘আপনি সমাজের আইন ও শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করছেন। আপনি একজন প্রতারক ও জালিয়াত মহিলা। প্রতারণা ও প্রহসনের মাধ্যমে অন্যের সম্পদ বেআইনিভাবে আত্মসাৎ করছেন এবং আপনি লোভী। ধরাকে সরা জ্ঞান করেন। আপনি আপনার স্বামীকে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে মানবাধিকার লংঘন করেছেন।’
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও স্বাস্থ্য সেবা সংঘের ইন্টারন্যাশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর এন্ড সিইও অ্যাডভোকেট এম এস শরিফুল আলম চৌধুরী স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিষয়টি সুরাহা করে আমাকে অবহিত করবেন। নতুবা মানবাধিকার লংঘন ও উপযুক্ত অপরাধ সংঘটনের জন্য আপনিসহ আপনার পরিবারের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে অথবা বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ডে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে।’

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উপপরিচালক এম রবিউল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, অ্যাডভোকেট এম এস শরিফুল আলম চৌধুরীর চিঠির ভাষা নিয়ে আমরা তার সঙ্গে কথা বলেছিলাম। মানবাধিকার কর্মীর অফিসিয়াল চিঠির ভাষা এমন হতে পারে কিনা জানতে চাইলে, এই বিষয়ে তিনি অনেক ভুল ব্যাখ্যা দেন। মূলত একটি সংগঠনের নাম ব্যবহার করে, মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতারণা করে যাচ্ছে তারা। মন্তব্য করেন রবিউল ইসলাম।

এম রবিউল ইসলাম আরও জানালেন, আমরা জানতে পারি, ‘বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন’ নামের একটি সংগঠন চলতি বছরের ১৪ মার্চ ২০২০ তারিখে জাতীয় মানবাধিকার কনভেনশন ২০২০ আয়োজন করতে যাচ্ছে। সংস্থাটির নামের সঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রায় মিল আছে। তাদের নেতাকর্মীরা নিজেদের মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান, গভর্নর, সদস্য পরিচয় দেওয়ার কারণে জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ অনেকে বিভ্রান্ত হয়ে সংস্থাটিকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিবেচনা করছেন। এই সুযোগে সিনিয়র সচিব জননিরাপত্তা বিভাগ, পুলিশের মহাপরিদর্শক, মুখ্য সচিবকে চিঠি পাঠায় তারা। রাষ্ট্রের দুজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কাছে থেকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নামে বাণীও চেয়ে নিয়েছে। সেই বাণী তাদের নামে প্রকাশ করেছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিষয়টি জানতে পেরে একটি সাধারণ ডায়েরি করে এবং সংশ্লিষ্ট দফতরে কথা বলে বাণী ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উপপরিচালক এম রবিউল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, উন্নত দেশ ও সেসব দেশের অন্য মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সঙ্গে কাজ করার সময় এসব বাণী আর চিঠিপত্র দেখিয়ে বিশেষ সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এমন জালিয়াতি করেছে কথিত মানবাধিকার সংগঠনটি।

মানবাধিকার কমিশনের এই উপপরিচালক বলেন, এরকম আরও দুই শতাধিক নামে-বেনামে মানবাধিকার সংগঠন রয়েছে। যারা সমাজসেবা অধিদফতর ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরো থেকে নিবন্ধন নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন হয়েও মানবাধিকারবিরোধী কাজ করে আসছে। এমনকি সরকারি সংগঠন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনেরও সুনাম নষ্ট করছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত মাসের ১১ তারিখে একটি স্বনামধন্য জাতীয় পত্রিকায় ‘শিশু বিকাশ ফাউন্ডেশন’ নামের একটি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান চাকরির বিজ্ঞাপন দেয়। পরে বেকারদের কাছ থেকে বিকাশ, ডাচ বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং, নগদ-এর মাধ্যমে ধাপে ধাপে ২০ হাজার টাকা করে নেয় রেজিস্ট্রেশনকৃত মানবাধিকার সংগঠনটি। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের সতর্ক করে আইনি পরামর্শ দেওয়া হয়।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম বলেন, আমরা সমাজসেবা অধিদফতর ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সঙ্গে কথা বলেছি। দুই শতাধিক নিবন্ধনকৃত সংগঠনের নাম চেয়েছি। সেগুলো যাচাই করে দেখার সময় এসেছে। সহজে নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে কেন জানতে চেয়ে অধিদফতরে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: