বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০৬:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
উখিয়ার ডেইলপাড়া হোছাইন বিন আলী (রাঃ)মাদ্রাসার অভিভাবক সম্মেলন সম্পন্ন নাইক্ষ্যংছড়িতে ৪২ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা-২০ইং’র উদ্বোধন বেতন বৈষম্য: ২৬ নভেম্বর থেকে কর্মবিরতিতে নাইক্ষ্যংছড়ির স্বাস্থ্য সহকারিরা শোকের সাগরে ভাসছে ফুটবল বিশ্ব করোনায় একদিনেই ১২ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার ম্যারাডোনা আর নেই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য গফুর চেয়ারম্যানের চেক হস্তান্তর ১৫ দিন পর ৯ জেলেকে হস্তান্তর করল বিজিপি ৯ জেলেকে ফেরত দিতে মিয়ানমারের পতাকা বৈঠক চলছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে লটারির মাধ্যমে ভর্তি: শিক্ষামন্ত্রী

দৃষ্টিনন্দন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আলোড়ন সৃষ্টি ৫০ হাজার বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করছে এলজিইডি

ডেস্ক নিউজ: / ৯০ বার
আপডেট বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০৬:২১ অপরাহ্ন

সারাদেশে ৫০ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণের কাজ শুরু করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। ইতোমধ্যে সাভারের সালেহা ইদ্রিস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণ কাজ শেষ০ করার পরে এ নিয়ে দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুর শতভাগ ভর্তি নিশ্চিত করা, ঝরে পড়ার হার হ্রাস, শিশুর মানসিক বিকাশ, শিক্ষায় প্রবেশাধিকার, উচ্চশিক্ষা এবং পরিপূর্ণ উন্নতির ধারবাহিকতার মাধ্যমে সামাজিক বৈষম্য হ্রাস করা এবং শিশুবান্ধব শিক্ষা গ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিতসহ শিক্ষার মান বৃদ্ধি করতে চার প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশে ৫০ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণ করা হবে।

ঢাকা মহানগরের ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। আর পূর্বাচলে ১১টি এবং উত্তরায় তিনটিসহ মোট ১৪টি নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণ করা হবে। পর্যাক্রমে সারাদেশে এসব দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণ করবে এলজিইডি। দৃষ্টিনন্দন স্কুল ভবনের মধ্যে রয়েছে শিশুদের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ, সংযোগ সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, চিলড্রেন’স প্লে কর্নার, অগ্নিপ্রতিরোধক ব্যবস্থা, দেয়াল সাজসজ্জাকরণ। প্রতিটি ক্লাস রুমে ৪০ জন করে শিক্ষার্থীর বসার আসন ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সাভার উপজেলায় সালেহা ইদ্রিস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণ করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডির) প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খান ইনকিলাবকে বলেন, উন্নত পরিবেশে শিক্ষাদানের বিষয় বিবেচনায় রেখে বিদ্যালয়ের ভবন আধুনিক ডিজাইনে দৃষ্টিনন্দন করে নির্মাণ করা হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন নতুন ভবন নির্মাণের ফলে শিশুরা বিদ্যালয়মুখী হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষার মান শিক্ষার্থীদের উপস্থিত হারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগে বোঝা যায়নি। এ ভবন হওয়ার পরে সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল- হোসেন বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে আরও দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণ করতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরকে (এলজিইডি) দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে রাজধানী ঢাকার ৩৪২টি স্কুলে নতুনভাবে সংস্কার কাজ করা হবে। এই প্রকল্পের আওতায় উত্তরা ও পূর্বাচলে ১৪টি নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দৃষ্টিনন্দন ভবন করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয় দৃষ্টিনন্দন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে রাজধানীর সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন দৃষ্টিনন্দন করতে প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্পের পরিচালক মো. ওয়াহিদুর রহমান ইনকিলাবকে বলেন, চার প্রকেল্পের মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নতুন করে দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। আমরা সারাদেশে ৫০ হাজার বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করব। প্রথম পর্যায়ে রাজধানীর ৩৪২টি নতুন বিদ্যালয় ভবনের কাজ শেষ হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৪ হাজার ১১২টি। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে রয়েছে ৩৪২টি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৬ হাজার ১০৬টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে। তার মধ্যে ৩৯ হাজার ৬১৪টি জরাজীর্ণ ভবনে অস্বস্তিকর পরিবেশে লেখাপড়া করছে শিশুরা। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ২০১৩ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিকের পাকা স্কুলগুলোর অবকাঠামো মাত্র ৪৭ শতাংশ ভালো পর্যায়ে রয়েছে। মাঝামাঝি পর্যায়ে রয়েছে ২৩ শতাংশ স্কুল। আর খারাপ পর্যায়ে রয়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। তবে ২৩ শতাংশ স্কুলের অবস্থা একেবারেই নাজুক। সেমিপাকা স্কুলগুলোর মধ্যে মাত্র ৮ শতাংশ ভবন ভালো আছে। প্রায় ১৮ শতাংশ স্কুলের অবকাঠামো মাঝামাঝি মানের। খারাপ পর্যায়ে রয়েছে ২১ শতাংশ স্কুলের ভবন। সেই সেমিপাকা ৫৪ শতাংশ স্কুল একেবারেই ব্যবহারের অযোগ্য। এখনো একটি কক্ষের মধ্যে চলছে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। প্রকল্পের আওতায় দুই লাখ শিশু শিক্ষার্থীর জন্য শিশুবান্ধব শিক্ষা গ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ প্রকল্প চাল করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নিজ সন্তানকে ভর্তি করতে অধিকাংশ অভিভাবকের আগ্রহ নেই। এসব বিদ্যালয়ে পড়ালেখার মান খারাপ হওয়ায় তাদের আগ্রহ কম। কেবল নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে। মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরা এসব বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আগ্রাহী হচ্ছে না। এসব কারণেই ঢাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে আধুনিক মানের করে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে. ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে চাহিদাভিত্তিক নতুন জাতীয়করণকৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (১ম পর্যায়)-এর আওতায় সাভার উপজেলায় সালেহা ইদ্রিস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণ কাজ শেষ করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। ভবনটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮৬ লাখ টাকা।

এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সানোয়ার হোসেন ইনকিলাবকে বলেন, ১৯৯৪ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে টিনের ঘরেই বসে চলতো পাঠদান কার্যক্রম। ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করেন। এলজিইডি এ দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণ করার ফলে উন্নত শিক্ষা পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়টির নতুন দ্বিতল ভবন নির্মাণ করায় আমরা সুচারুভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে পারছি। বিদ্যালয়টি নির্মাণ কাজও সুন্দর ও টেকসই হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: