মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৬:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
উখিয়াতে ঝুকিপূর্ণ বাজার ব্যবস্থাপনাঃদেখা নেই অগ্নিনিবার্পক যন্ত্র মহাখালীর সাততলা বস্তিতে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ১২ ইউনিট নেতাকর্মীর ভালবাসায় সিক্ত কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক কক্সবাজার জাহাঙ্গীর মেচ ও শাহ মজিদিয়া রেস্টুরেন্টকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা কক্সবাজারে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে এবার হচ্ছে ‘শিশু হাসপাতাল পালংখালীর আওয়ামী লীগ নেতা শেখ হাবিবুর রহমানের জানাজা সম্পন্ন দুর্নীতির মামলা থেকে খালাস ইশরাক হোসেন কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ২ একর সরকারি বনভূমি উদ্ধার কক্সবাজারে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে এসআর নিহত হার মেনে নাও: ট্রাম্পকে ঘনিষ্ঠ মিত্র

তদন্ত কমিটির হাতে ৬০ জনের সাক্ষাৎকার, ২৩ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন

ইমাম খাইর:: / ৭৮ বার
আপডেট মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৬:৩৬ অপরাহ্ন

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোঃ রাশেদ খান নিহতের ঘটনায় নয়জন সাধারণ মানুষসহ ৬০ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। যেখানে রয়েছে গাড়ি চালক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকারি-বেসরকারি সংস্থার লোকজন।

আগামী ২৩ আগস্টের মধ্যে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আশা করছে তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজানুর রহমান।
মেজর সিনহা নিহতের ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নিতে রোববার সকাল সাড়ে দশটা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জের কার্যালয়ে গণশুনানি গ্রহণ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি।
গণশুনানি শেষে বিকেল ৫টার পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজানুর রহমান।
এ সময় তিনি বলেন, অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এই নয়জন প্রত্যক্ষদর্শীর স্বাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। তারা সেই দিনের ঘটনা সম্পর্কে যা অবলোকন করেছেন তা আমাদের জানিয়েছেন। আমরা তাদের বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছি।
মেজর (অব.) সিনহা হত্যার ঘটনায় চলমান তদন্ত কার্যক্রমে সাক্ষ্যগুলো সংযুক্ত করা হবে।
এদিকে শুনানিতে সাক্ষ্য দিতে আসা নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, ‘চেকপোস্টে হঠাৎ করে দাঁড়াতে বললে স্যারের (অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের) গাড়ি রাস্তার পশ্চিম পাশে থামে। এ সময় লিয়াকত (বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের বরখাস্ত হওয়া পরিদর্শক) স্যার একটি গুলি করে। গুলির পর সিনহা স্যার চিৎকার করে ওঠেন। এ সময় আরো দুটিসহ মোট তিনটি গুলি করে। পরে একজন তাঁকে লাথি মারে। এরপর গাড়ির ড্রাইভার আরো একটি গুলি করে। এরপর ২০ থেকে ২২ মিনিট পরে প্রদীপ (টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) স্যার আসেন।’
এর আগে গত ১২ আগস্ট সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহত হওয়ার ঘটনায় গণশুনানি করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি। ওই দিন তদন্ত কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট মোহা. শাজাহান আলী স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে  এই তথ্য জানানো হয়েছিল।
সিনহা রাশেদ নিহতের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত হয় এই তদন্ত কমিটি।
এ তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মিজানুর রহমান।
সদস্য হিসেবে আছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জাকির হোসেন, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহা. শাজাহান আলি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিনিধি সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাজ্জাদ।
এই কমিটিকে প্রথমে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার কথা বলা হয়। পরে কমিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সময় আরো সাত দিন বাড়ানো হয়।
কাজ শুরুর পর গত ৪ আগস্ট কমিটির প্রধান মিজানুর রহমান কক্সবাজারে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘তদন্ত কমিটির আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়েছে। কমিটির প্রথম বৈঠকে তদন্তের কর্মপন্থা ঠিক করা হয়েছে। ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলা হবে। ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের স্বার্থে যেটুকু করা দরকার, তদন্ত কমিটি তাই করবে। কমিটি সরেজমিন গিয়ে পরিদর্শন করবে।’
এদিকে, সিনহা হত্যা মামলায় চার পুলিশসহ সাতজনকে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ৭ দিনের রিমাণ্ডে নিয়েছে তদন্ত সংস্থা র‌্যাব।
তারা হলেন- উপপরিদর্শক (এসআই) লিটন, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন ও আবদুল্লাহ আল মামুন এবং টেকনাফ থানায় পুলিশের করা মামলার ৩ সাক্ষী মোঃ নুরুল আমিন, নিজাম উদ্দীন ও মোহাম্মদ আয়াস।
গত ৮ ও ৯ আগস্ট চার পুলিশ সদস্যকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায় র‌্যাব। ফলে তাদেরকে আরও ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দশ দিনের রিমাণ্ড চেয়ে ১০ আগস্ট আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১৫ এর সহকারী পুলিশ সুপার জামিল আহমদ। শুনানি শেষে আদালত তাদের প্রত্যেকের জন্য ৭ দিন করে রিমাণ্ড মঞ্জুর করেন।
এই মামলায় টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিতকে গত ৬ আগস্ট সাত দিনের রিমান্ড আদেশ দেন আদালত।
চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ এই তিন আসামির কাউকে এখনো রিমাণ্ডে নেওয়া হয় নি।
মামলার আগের তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করে র‌্যাব-১৫ এর সহকারি পরিচালক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) খাইরুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দায়িত্ব পাওয়ার পরের দিনই তিনি ৭ আসামিকে রিমাণ্ডে নেন।
উল্লেখ্য, ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মোঃ রাশেদ খান।
এ ঘটনায় নিহতের বোন শাহরিয়ার শারমিন ফেরদৌস বাদী হয়ে গত ৫ আগস্ট টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এর আগে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় টেকনাফ থানায় দুইটি, রামু থানায় একটি মামলা করেছিলো পুলিশ।
এই ৩টি মামলায় আসামি করা হয়েছে সিনহার সঙ্গি সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও শিপ্রা রাণী দেবনাথকে। ৪টি মামলারই তদন্তভার এখন র‌্যাবের হাতে।
সবশেষে পুলিশের সাক্ষী অপহরণের অভিযোগ তুলে অজ্ঞাতনামা আসামী দেখিয়ে টেকনাফ থানায় আরো একটি মামলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে মেজর সিনহা হত্যা ইস্যুতে ৫ টি মামলা হলো।

সুত্র: সিবিএন

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: