বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০১:০৩ অপরাহ্ন

জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ঘুমধুমের জহির ও তার শিশু কন্যার সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদন / ৩০৩ বার
আপডেট বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০১:০৩ অপরাহ্ন

কক্সবাজারের উখিয়ায় আবদুল গফুর প্রকাশ শ.ম. গফুরের অত্যাচার, নির্যাতন ও হয়রানিরসহ অব্যাহত হুমকি-ধমকির প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের জলপাইতলী গ্রামের অসহায় জহির আহমদ ও তার মেয়ে মায়মুনা।

মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলন জহির বলেন, গত ১১ মার্চ ২০০৯ তারিখ ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক শামীমা সুলতানা রেহেনার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। আমাদের দাম্পত্য জীবনে ২ দুটি সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে মাইমুনা মারুয়া জিমার বয়স ১০। ছেলে আফনান সাঈদ এর বয়স সাড়ে ৩ বছর। সবাইকে নিয়ে সুখে শান্তিতে সংসার চলে আসছিল।

আমার স্ত্রী শামীমা পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের টেকসই সামাজিক সেবা প্রধান প্রকল্পের মাঠ কর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

অপরদিকে আমি ২০০৩ সাল থেকে ২০১৫ সাল সৌদি প্রবাসে ছিলাম। এ সময় আমার অনুপস্থিতিতে আত্নীয়তার সূত্র ধরে আব্দুল গফুর প্রকাশ শ.ম. গফুর আমাদের বাড়িতে যাতায়াত করত। কারণ অভিযুক্ত আব্দুল গফুর প্রকাশ শ.ম. গফুর আমার আমার দু-সম্পর্কের ভগ্নিপতি হয়।

এ সুযোগে লম্পট গফুর আমার স্ত্রীর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে আমার অজান্তে। যার ফলে আমার সংসারে নেমে আসে অমানিশার অন্ধকার।

১৪ অক্টোবর ২০১৯ নাইক্ষংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ৩ নং ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি নির্বাচনে ১/২/৩ নং ওয়ার্ড থেকে আমার স্ত্রী মহিলা সদস্যা হিসাবে নির্বাচনে অংশ নিলে ওই সময় আমার স্ত্রীর সাথে থেকে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে অংশগ্রহণ করে। যার ফলে আমরা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিয়মিত কলহ লেগে থাকতো। এভাবে গফুর আমার স্ত্রীকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তার আয়ত্বে নিয়ে যায়। গফুর বিভিন্ন সময় আমার কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা দাবী করে আসতো। শুরুর দিকে আত্নীয়তার সুবাদে তার ছোট-খাটো আবদার গুলো আমরা পূরণ করলেও পরবর্তীতে সে আমার কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। যার সাক্ষী প্রমাণ আছে আমার কাছে। তার দাবীকৃত চাঁদা না দিলে সে আমার স্ত্রীকে উঠিয়ে নিয়ে যাবে বলে হুমকি দেয়। সে এও হুমকি দেয় যে ১১ মার্চ তোর বিবাহবার্ষিকী পালন করতে দেবো না।

তিনি আরো বলেন, গত ১১ মার্চ আমি প্রয়োজনীয় কাজে বাড়ির বাহিরে গেলে গফুরের এক আত্নীয়ের সিএনজি গাড়ির মাধ্যমে আনুমানিক বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে বাড়ি থেকে আমার স্ত্রী ও ২ সন্তানকে নিয়ে কক্সবাজার হোটেলে নিয়ে যায়। যার সাক্ষী আমার বড় মেয়ে মাইমুনা মারুয়া জিমা। এসময় আমার রেখে যাওয়া নগদ ৭০ হাজার টাকা ও ৬ ভরি স্বর্ণ, প্রায় ৩৫ হাজার টাকার কাপড় চোপড়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বাড়ি থেকে নিয়ে যায়।

খবর পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পুলিশকে অবহিত করি। পরের দিন ১২ মার্চ বিকেল ৫ টার দিকে গফুরের ফেসবুক আইডিতে দেখতে পাই আমার স্ত্রী এফিডেভিট মূলে আমাকে ডির্ভোস দেয়। যার শনাক্তকারী গফুর নিজে।

জহির বলেন, এখন আমার প্রশ্ন এখানে যে আমার স্ত্রীর,পিতা-মাতা, ভাই বোন, চাচাসহ অনেক আত্নীয়-স্বজন থাকা শর্তে গফুর কিভাবে আমার স্ত্রী আমাকে ডির্ভোস দেয় এবং তা সনাক্তকারী হতে পারে। তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে এখনো পর্যন্ত আমি আমার স্ত্রীর দেয়া ডির্ভোস লেটার পাইনি তা ঘুমধুমের ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ এলাকার সচেতন মহল অবগত রয়েছে।

গফুর আমার ২ ছেলে মেয়েকে মাতৃহারা করে ঘুমধুম ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের জনৈক হামিদ আলির বাসায় আমার স্ত্রীকে নিয়ে অবৈধ ভাবে সংসার করে আসছে। গফুর নিজেও একজন বিবাহিত। তার ঘরে স্ত্রীসহ ৫ সন্তান রয়েছে।

তার দাবীকৃত চাঁদা না দেয়ায় গফুর সাংবাদিক হওয়ার সুবাদে বিভিন্ন সময় অনলাইনে আমাকে বিএনপির পাতি নেতা, যুবদলের ক্যাডার, ইয়াবার গডফাদার, মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক থাকায় সে আক্রোশ মূলক ভাবে মসজিদ থেকে টাকা আত্নসাৎ করছি মর্মে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে আসছিল।

যে সংবাদমাধ্যম গুলো আমার কোন বক্তব্য না নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। সে অনলাইন পোর্টাল গুলোর বিরুদ্ধে আমি আইনানুগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।

পরিশেষে সবার উদ্দেশ্যে বলতে চাই, পরিবার সবার রয়েছে, কেউ কারো সরলতার সুযোগ নিয়ে এহেন জঘন্যতম কাজ করতে পারে কি তা আপনাদের কাছে বিচারদাবী করছি।

সংবাদ সম্মেলনে তার পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সুদৃষ্টি কামনা করেন তার শিশু কন্যা মায়মুনা মারওয়া জিমা বলেন, শ.ম. গফুর একটা গাড়ী পাঠিয়ে আমাদেরকে কক্সবাজারে নিয়ে যায়। সে মোটর সাইকেল নিয়ে কক্সবাজার যায়। আম্মু সহ আমাদের নিয়ে একটি হোটেলে দুইদিন রাখে। পরে উকিলের চেম্বারে যায়। শুনতেছি আমার আব্বুকে ছেড়ে দিয়েছে আম্মু। সেখান থেকে হামিদের বাসায় ১ মাস রুম ভাড়া নিয়ে থাকছিলাম। পরে এসব দেখে আমি নানার বাড়ি যাবো বলে আব্বুর কাছে চলে আসি।

বর্তমানে আমার আম্মু যাওয়ার সময় আমাদের জন্ম নিবন্ধন, স্বর্ণালংকারসহ বাড়ির গুরুত্বপূর্ণ কাগজ পত্র নিয়ে যায়। যা নিয়ে আব্বুসহ আমরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি প্রতিনিয়ত। আব্বুসহ আমাদের হুমকি ধমকি দিচ্ছে শ.ম. গফুর। আমরা জীবনের নিরাপত্তা চাই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: