রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১, ০৫:৩০ অপরাহ্ন

ভাসানচরের উদ্দেশ্য রোহিঙ্গাদের প্রথম দলটি

জাহাজে করে ভাসানচর যাত্রা ১৬৪২ রোহিঙ্গার 

নিজস্ব প্রতিবেদন / ১০৩ বার
আপডেট শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২০, ৬:০৫ পূর্বাহ্ন

ভাসানচরের উদ্দেশ্য রোহিঙ্গাদের প্রথম দলটি জাহাজে করে রওয়ানা দিয়েছে। সাতটি জাহাজে করে ১৬৪২ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরে যাচ্ছে।আজ শুক্রবার (০৪ ডিসেম্বর) সকালে তারা ভাসানচরের উদ্দেশে যাত্রা করছে বলে জানা যায়।

বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রিত ৩৪টি ক্যাম্প থেকে আগ্রহী রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়। কক্সবাজার ক্যাম্প থেকে ২০টি বাসে করে ৯২০ জন রোহিঙ্গাকে নিয়ে শুরু হয় যাত্রা। সন্ধ্যায় তারা পৌঁছে চট্টগ্রামের ট্রানজিট পয়েন্টে।

পরে রোহিঙ্গাদের রাখা হয় বাংলাদেশ নৌ বাহিনী রেডি রেসপন্স বাথ ও বিএএফ শাহীন কলেজ মাঠে অস্থায়ী ‘ট্রান্সজিট ক্যাম্পে’। শুক্রবার সকালে ‘ট্রান্সজিট ক্যাম্প’ থেকে জাহাজে ওঠার অপেক্ষা করছে এসব রোহিঙ্গারা।
রোহিঙ্গাদের নিয়ে ছেড়ে আসা এসব বাসকে নিরাপত্তা দিয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত নিয়ে এসেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম থেকে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গাদের জাহাজে করে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পতেঙ্গায় বাংলাদেশ নৌ বাহিনী রেডি রেসপন্স বাথ ও বিএএফ শাহীন কলেজ মাঠ এলাকায় দেখা গেছে, তাবু টাঙিয়ে অস্থায়ী ট্রানজিট পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বলেন, কয়েকদিন আগে মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিলো রোহিঙ্গাদের ভাসানচর নেওয়ার পথে চট্টগ্রামে প্রয়োজনে রাখা হবে এবং তাদের রাখার বিষয়টি নৌবাহিনী তত্ত্বাবধান করবে এবং নিরাপত্তার বিষয়টি দেখবে পুলিশ।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার সালেহ্ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, বৃহস্পতিবার কিছু রোহিঙ্গাকে নিয়ে আসা হয়েছে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আমরা তাদের নিয়ে আসার পথে নিরাপত্তা বিধান করেছি। তাদের যে বেজগুলোতে রাখা হয়েছে সেখানে সংশ্লিষ্ট বাহিনী তত্ত্বাবধান করছে।

ভাসানচরের প্রকল্পটি শুরু হয় ২০১৮ সালে। দুই হাজার ৩১২ কোটি টাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে দেড় হাজার একতলা ভবন তৈরি করা হয়েছে। আরো আছে ১২০টি বহুতল ভবন, যা সাইক্লোন আশ্রয় কেন্দ্র ও অন্যান্য সময় অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
ভাসানচরে স্কুল, সেখানে স্কুল, কমিউনিটি সেন্টার, হাসপাতাল করা হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য আছে সোলার পাওয়ার। জেনারেটরের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। রান্নার জন্য সিলিন্ডার গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থাও থাকবে।
সেখানে রোহিঙ্গাদের আয়বর্ধকমূলক নানা প্রকল্পও নেয়া হয়েছে। খামারের কাজ, হাতের কাজ ছাড়াও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা থাকবে। ফলে আয় করতে পারবে রোহিঙ্গারা।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এর আগে থেকে ছিল আরো প্রায় চার লাখ। বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে ৩৪টি ক্যাম্পে।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি হলেও মিয়ানমারের অনাগ্রহের কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। দুইবার প্রত্যাবাসনের খুব কাছাকাছি গিয়েও একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত পাঠানো যায়নি মিয়ানমারের কারণে।

কক্সবাজার ক্যাম্পে ঘিঞ্জি পরিবেশ, ভূমিধসের আশঙ্কা, নিরাপত্তাহীনতাসহ নানা কারণে সেখানে ভিড় কমাতে উদ্যোগ নেয় সরকার। যদিও বেশ কিছু এনজিও ও বিদেশি সংস্থার কারণে রোহিঙ্গাদেরকে স্থানান্তরে রাজি করানো যাচ্ছিলো না। তবে সেপ্টেম্বরের শুরুতে একজন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরের সুযোগ-সুবিধা দেখিয়ে আনার পর একটি অংশ সেখানে যেতে রাজি হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: