মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন

কিছু সাহেদ ও প্রেক্ষিত: বাংলাদেশ!

রিপোর্টার / ৪৩১ বার
আপডেট মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন

এক
পুরো বিশ্বই আজ Covid -19 এ আক্রান্ত। অনেকটা স্থবির। বিশ্বের বাঘা বাঘা বিজ্ঞানী,গবেষকদের ঘুম হারাম করে দিয়ে রহস্যাবৃত এই ভাইরাসটি স্বমহিমায় এখনো তার শক্তির দাপট দেখিয়ে চলছে। স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশ্ব সংঘ, হু রহস্যের ঘোরে ক্ষনে ক্ষনে মত পাল্টাচ্ছে।চীনের উহান হয়ে ইউরোপ , আমেরিকা তছনছ করা ভাইরাসটি আফ্রিকা ও এশিয়াতে তার জাত চেনাচ্ছে।আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা যেন সময়ের সাথে সমানুপাতিক! কবে এর দাপট শেষ হবে তাও অনিশ্চিত। এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশে অদৃশ্য ভাইরাস হতে দেশের মানুষকে পরিত্রাণ দিতে,সমগ্র শিক্ষা প্রতিষ্টান বন্ধ করে দিয়েছে। চলছে সাধারণ ছুটি। সমগ্র দেশে দীর্ঘ মেয়াদি লকডাউনও দেখতে হয়েছে, বেঁধে দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য বিষয়ক গাইড লাইন।
দুই
অনেকের মধ্যে অন্ধকারের ঘোর অমানিশা কেটে প্রভাতের প্রতীক্ষা! অন্যদিকে বিশ্ব সংঘ এবং পরাশক্তির দেশগুলো মহামারি পরবর্তী দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে।এমনি এক প্রেক্ষাপটে অনেক দেশ লকডাউন বনাম লকডাউন শিথিল খেলায় গা ভাসিয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশ ও এর ব্যতিক্রম নয়।প্রাথমিক অবস্থায় বাংলাদেশে প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহর লাল সালু উপন্যাসের একটি পংক্তি “জান না থাকলে ধান দিয়ে কী হবে?” এ নীতি অনুসরণ করে পদক্ষেপ নিলেও, কালক্রমে তা কঠিন হয়ে ওঠে।সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে অঞ্চল ভিত্তিক লকডাউন, পরবর্তীতে লকডাউন তুলে দিয়ে অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে সাধারণ ছুটি বাতিল করে।এদিকে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার অনেক উন্নত দেশের তুলনায় কমতির দিকেই আছে।সবকিছু মিলে দেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে মানুষ বেশ আশান্বিত।
তিন
চলার মসৃণ পথকে কন্টকাকীর্ণ করে দেওয়ার যা হলো তা অবশ্য বেশ আশঙ্কার! কিছুদিন ধরে দেশে এক ধরনের মনুষ্য রূপধারী অমানুষের ছত্রছায়ায় স্পর্শকাতর এ ভাইরাস নিয়ে কিছু ডাক্তার নামে কসাই ভুঁয়া প্রতিবেদন দেওয়া শুরু করে অনেকটা আড়ালেই। মানুষের জীবন নিয়ে তাঁদের ব্যবসা বেশ ভালোই চলছিল। শত শত মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে ইতোমধ্যে তাঁরা হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা!সরকার দেশের অভ্যন্তরে যোগাযোগ ব্যবস্থা ঠিক রাখার পাশাপাশি যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা দিচ্ছিল তখনই ঘটে এক অদ্ভুত কান্ড!অবশ্য আমাদের দেশের জন্য তা স্বাভাবিক ঘটনা বটে।কভিড-১৯নেগেটিভ সনদ নিয়ে ইতালিগামী বিমানে ধরা পড়ে ২৩ জন কভিড-১৯ পজিটিভ! বিষয়টি নিয়ে সাথে সাথে সারাবিশ্বে হৈচৈ পড়ে যায়।তকমা পেল “বোমা ভাইরাস ” ও “ষড়যন্ত্রকারী দেশ” হিসেবে।
চার
করোনা নিয়ে ভুঁয়া প্রতিবেদন চালিয়ে দেয়াতে যা ক্ষতি হলো তার বিশাল বিরূপ প্রভাব পড়বে,তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই। প্রথমতঃ পজিটিভকে নেগেটিভ দেয়ার কারণে বহু সংখ্যক মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিবে কিংবা অসংখ্য লোকজনকে সংক্রমিত করবে।অন্যদিকে পজিটিভ সনদ নিয়ে বিদেশ গমণ করা লোকদেরকে হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে।দ্বিতীয়তঃ নেগেটিভকে পজিটিভ দেয়ার কারণে অসংখ্য লোকজনকে পরিবারসহ মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করছে কিংবা তাঁদের স্বাভাবিক কর্ম থেকে দূরে সরিয়ে রেখে কষ্টের বোঝা আরো বাড়িয়ে তুলছে।তৃতীয়তঃ এভিয়েশন কর্মে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনছে।ইতোমধ্যে জাপান,ইতালি, চীন,তুরস্কসহ অনেক দেশ বিভিন্ন মেয়াদে বাংলাদেশের সাথে ফ্লাইট যোগাযোগ নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে।হয়তো এ তালিকায় আরো নতুন নতুন দেশ যুক্ত হবে।এতে বিশেষজ্ঞ মহল আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা কিংবা দেশের বৃহত্তম খাত রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে বিরোপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
পাঁচ
মহামারীর এ সময়ে যারা বাংলাদেশকে বিপদের মুখে ঠেলে দিলো তারা সংখ্যায় বেশ নগন্য। কিছু সাহেদ, সাবরিনা নামধারী মুখোশ পরিহিত মুনুষ্য নামধারী অমানুষ ও কসাইয়ের হাতে পুরো দেশকে খেসারত দিতে হবে বিষয়টি ত এমন হতে পারেনা! সাধারণ মানুষের বিশ্বাসকে পূঁজি করে তারা আজ কোটিপতি।অথচ মানুষের জীবন ও দেশকে নিয়ে তারা মোটেই বিচলিত ছিলোনা। এসমস্ত সাহেদ,সাবরিনারা যুগে যুগে ছিল, আছে আর থাকবে সময়ের অন্তরালে। মাঝখানে সাধারণ জনগণ ও দেশকে এদের পাপের ফল ভেগ করতে হবে!এমনটি হলে এসমস্ত সাহেদ’দের কোনদিন নির্মুল করা সম্ভব হবেনা।জানি, ওরা অনেক অর্থ সম্পদের মালিক হয়তোবা ক্ষমতাধরও।এও জানি রাষ্টের নিকট কেউ ক্ষমতাবান নয়।দরকার বিতর্কের উর্ধ্বে থেকে আইনের প্রয়োগ।চাই, দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি যা দেখে আর কোন সাহেদ, সাবরিনাদের যাতে দেশে আর্বিভাব না ঘটে।

লেখক-মোহাম্মদ ইসলাম সিকদার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: