শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১, ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
পৌরসভা নির্বাচনে ধানের শীষের ৫২ প্রার্থী চূড়ান্ত  সীমান্তে বস্তা থেকে ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার সাংবাদিক মিজানের বড় ভাই হারুন উর রশিদ আর নেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়লো ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত  গর্জনিয়ায় বাড়ি থেকে ডেকে শিশু ধর্ষণ মামলার বাদিকে হত্যা কক্সবাজারে রামু র‌্যাবের অভিযানে ইয়াবাসহ এক রােহিঙ্গা মাদক কারবারী গ্রেফতার রোহিঙ্গা প্রশ্নে ত্রিদেশীয় বৈঠক ভর্তি নিয়ে দুশ্চিতায় শিক্ষার্থীরা: উখিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই শিফট চালু’র দাবী অভিভাবকদের উখিয়ায় ‘অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি পালংখালী’ নামে এরা কারা উখিয়া সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে বই বিতরণ উদ্বোধন করেন ইউএনও নিজাম উদ্দিন আহমেদ

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মাথায় নিয়ে কক্সবাজারে শুরু হচ্ছে বাণিজ্য মেলা

ইত্তেফাক: / ৭৫ বার
আপডেট বুধবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২০, ১২:৫১ অপরাহ্ন

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা মাথায় নিয়ে কক্সবাজারে শুরু হচ্ছে দেড়মাসব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলা। জেলা প্রশাসনের অনুমতি অনুসারে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম সংলগ্ন পর্যটন গলফ মাঠে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) পর্দা উঠছে ২০২০-২০২১ সালের বাণিজ্য মেলার।

প্রথম ধাপে মেলা চলবে আগামী ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। দেড় মাসব্যাপী মেলার অনুমতি পেয়েছেন সাবেক পৌর চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আবছার। তার পক্ষে মেলার আয়োজন করছেন অন্যরা।

তবে, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান নুরুল আবছারের নামে মেলার অনুমোদন হলেও প্রচার পাচ্ছে এবারও যৌথভাবে একটি সাংবাদিক সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও কক্সবাজার চেম্বার মেলার আয়োজনের পেছনে রয়েছে। নুরুল আবছারের নামে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মেলার অনুমতি পেয়েছে ১০ ডিসেম্বর হতে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। এদের পিরিয়ড শেষ হলে সাংবাদিক সংগঠন ও চেম্বার অব কমার্সের সময়কাল শুরু হবে।

যদিও আয়োজকদের মতে, করোনাকালের স্বাস্থ্যবিধি কথা মাথায় রেখে এবার মেলা উদ্বোধনে কোন অনুষ্ঠান হচ্ছে না। আর মেলায় মাস্ক ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। প্রবেশ গেইটে বসানো হবে ২টি জীবাণুমুক্তকরণ মেশিন। মেলা ঘিরে নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা। ৩২টি সিসি ক্যামেরা দ্বারা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে সবকিছু।

তবে, করোনা আতঙ্ক নিয়ে মেলার আয়োজন সবাইকে শঙ্কিত করছে। বিশেষ করে কক্সবাজারে চলমান সময়ে প্রতিদিন করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ায় এ আতঙ্ক বলে দাবি করছে সচেতনমহল। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আতঙ্কে ধীরে ধীরে কমছে পর্যটক উপস্থিতির সংখ্যা। এর মাঝে বিনোদনের এ মেলা বিষাদ ডেকে আনছে কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বয়ং চিকিৎসক সমাজও।

কিন্তু করোনার প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কার কথা জানিয়ে নারী উদ্যোক্তাদের বস্ত্র শিল্প প্রদর্শনী মেলার অনুমোদন দেয়নি জেলা প্রশাসন। মেয়েদের এ মেলায় কয়েকশ ক্রেতার ভিড় হতো। কিন্তু বাণিজ্য মেলায় দিনে-রাতে কম করে হলেও ২০ থেকে ৩০ হাজার মানুষ অংশ নেন। তাই করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সকলকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেয়ার পরও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের মেলার অনুমোদন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কক্সবাজারের কয়েকজন চিকিৎসক নেতা বলেন, শীতের প্রকোপ বাড়ার সাথে সাথে বিশ্বময় বাড়তে শুরু করেছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। উন্নত দেশগুলোতে ইতিমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে মৃত্যুর হারও। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আতঙ্ক বিরাজ করছে বাংলাদেশেও। করোনা প্রতিরোধে কঠোর হচ্ছে প্রশাসন। স্বাস্থ্যবিধি না মানা লোকজনকে আনা হচ্ছে সাজা ও জরিমানার আওতায়। এমনই পরিস্থিতিতে কক্সবাজারে আয়োজন হচ্ছে মাসব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলার। এতে করে কক্সবাজারে করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়া নিয়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েল বলেন, শীতকাল শুরুর আগেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কার কথা জানিয়ে সতর্ক হতে বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। আমরাও সে মতে কাজ করছি। মেলার বিষয়টি জানার পর আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়েকে অবগত করে মেলা বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছি। এরপরও যদি মেলা চলমান থাকে, আর যদি করোনা রোগী বৃদ্ধি পায় তার সব দায়ভার জেলা প্রশাসনকে নিতে হবে। আমি অনেক চিকিৎসকেও আতঙ্কিত হয়ে কথা বলতে দেখেছি।

একদিকে, করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়ার উপলক্ষ গণজমায়েত সৃষ্টির সুযোগ তৈরি করে আবার কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও জনসাধারণের মাঝে দশ লাখ পিস মাস্ক বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে।

গত ৬ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসনের এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে মাস্ক বিতরণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে চালু করা হয়েছে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ফিল্ড হাসপাতাল। স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়ন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে জরিমানা করা হচ্ছে। এখন থেকে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে জেলও দেয়া হবে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, সার্জিকাল মাস্ক অপচনশীল। এটি পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই সার্জিকাল মাস্ক পরিহার করে কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বিতরণ করা কাপড়ের মাস্ক পরিবেশবান্ধব। পর্যায়ক্রমে সকল উপজেলায় প্রসারিত হবে এই কার্যক্রম।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মেলার অনুমতি পাওয়া মুক্তিযোদ্ধা সাবেক পৌর চেয়ারম্যান নুরুল আবছার, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের, জেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের সভাপতি এড. রনজিত দাশ, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহেদ সরওয়ার সোহেল, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ফজলুল কাদের চৌধুরীসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।

সরেজমিন দেখা গেছে , মেলার আয়োজন প্রায় শেষ পর্যায়ে। মেলার প্রবেশপথে গড়া হয়েছে রাজকীয় নান্দনিক বিশাল গেইট। এবারো মেলায় থাকছে বিভিন্ন পণ্যের ১০৪টি স্টল। থাকছে দেশীয় প্রসিদ্ধ বিভিন্ন কোম্পানির ১৬টি প্যাভিলিয়ন। তারমধ্যে প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন, সাধারণ প্যাভিলিয়ন, মিনি প্যাভিলিয়ন, প্রিমিয়ার স্টল, সাধারণ স্টল, শিশুদের বিনোদনমূলক রাইডস, খাবারের দোকান নজর কাড়াভাবে সাজানো হয়েছে। নারীদের কসমেটিকস ও কাপড়ের বাহারি সামগ্রী নিয়ে স্টল রয়েছে অনেক। বড়দের বিনোদনে রয়েছে জাদু প্রদর্শনী, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান বিচিত্রাসহ নানা আয়োজন। এসব নিয়ে চলছে জোর প্রচারণা।

বোদ্ধামহলের দাবি, অতীতের মতো বিনোদনের আশায় প্রচুর লোক সমাগম হবে মেলায়। সৈকতের খোলামেলা এলাকার চেয়ে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় বন্দি লোকজনের মাঝে করোনা ছড়ানোর ঝুঁকি বেশি। মেলা এমনই একটি আয়োজন। বাচ্চাদের মেলায় আনা হবে চরম বিপদ। কিন্তু প্রচারণায় শিশু কিশোররা বেশি বায়না ধরবে মেলায় আসতে।

আমরা কক্সবাজারবাসী সংগঠনের সভাপতি কমরেড গিয়াস উদ্দিন জানান, করোনা মোকাবেলায় সরকার নানাবিধ ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও শীতকালীন সময়ে প্রকোপ বাড়া নিয়ে সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছেন। এ অবস্থায় মেলার আয়োজন সব সফলতাকে ব্যর্থ করে দিতে পারে। তাই কক্সবাজারকে করোনামুক্ত করতে মেলা বন্ধ রাখা প্রয়োজন মনে করছি।

তবে, এ বিষয়ে মেলার অনুমতিদাতা জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, প্রতিদিন সৈকতে হাজার হাজার লোকসমাগম হচ্ছে। সেই হিসেবে আমাদের করোনা সংক্রমণ কম। তাছাড়া লকডাউন না থাকায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয় মাথায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতের শর্তে মেলার অনুমতি দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানার পরও যদি করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়ে তখন মেলা বন্ধ করে দেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: