সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ১০:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রহস্যের আগুন, অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের ওপর হামলার চেষ্টা উখিয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রী অপহরণ : ৯ দিনে উদ্ধার হয়নি লকডাউনে মসজিদে ২০ জনের বেশি নয়: ধর্ম মন্ত্রণালয় ভালো আছেন খালেদা জিয়া, চেয়েছেন দেশবাসীর দোয়া স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন”টিম এইট”র উদ্যোগে হতদরিদ্রের ইফতার সামগ্রী বিতরণ বিকালে খালেদা জিয়াকে দেখতে আসছেন চিকিৎসকরা উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকান্ড ১৪-২১ এপ্রিল বাড়ির বাইরে যাওয়া যাবে না টেকনাফে ১০ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারী গ্রেফতার নাইক্ষ্যংছড়ির দূর্গম ক্রোরিক্ষংয়ে বীর বাহাদুর শিশু সদন হোস্টেল উদ্বোধন ও পানির সেচ পাম্প বিতরণ

এলাকাবাসীর দাবী গীর্জা,বনবিভাগের দাবী মিটিংঘর

তপন দেব নাথ,আলীকদম উপজেলা প্রতিনিধি / ১১৮ বার
আপডেট শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১, ১:০৯ অপরাহ্ন

 

বান্দরবানের আলীকদম মাতামুহুরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বনবিভাগ অভিযান চালিয়ে সীথারাম পাড়ায় নির্মাণাধীন গীর্জা ও জিরাপাড়ায় ঘর ভেঙে দিয়েছে দাবী পাড়াবাসীর।বনবিভাগের দাবী এটি গীর্জা নয়,ইউএনডিপির মিটিংঘর ছিল।

বৃহস্পতিবার সকালে অভিযান চালিয়ে ভেঙে দেন বনবিভাগ।

সাথীরাম পাড়ার উপাসক আব্রাহাম ত্রিপুরা বলেন,আমাদের গীর্জা নির্মাণে আগে কোন বাধা দেয়নি বনবিভাগ।রিজার্ভ এলাকা হলেও এখানে অনেক ধর্মের লোক বসবাস করে,অনেক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও আছে।অন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গুলো তৈরিতে কোন সমস্যা না হওয়ায় আমরাও একটি গীর্জা তৈরি করেছিলাম পাড়াবাসীর ও সেভেন এ্যাডভেন্টিস চার্জের যৌথ টাকায় কিন্তু সকালে এসে ভেঙে দিয়েছে বনবিভাগ।

রাম বাহাদুর ত্রিপুরা বলেন,রামজু ত্রিপুরা ও জনি ত্রিপুরা নামে অসহায় ব্যক্তির ঘর ভেঙে দিয়েছে।আদিকাল থেকে আমরা পাহাড়ে বসবাসকারীরা হিসেবে আছি ,এখন বিভিন্ন ধর্মের অজস্র লোক বসবাস করছে,কিভাবে হল?বনবিভাগ তখন কি করেছিল?এতো দালান ঘর,দোকানপাট হচ্ছে তাদের সমস্যা নেই,যেই থাকার জন্য সবকিছু পুঁজি দিয়ে ঘর তৈরি করছি অসহায় মানুষ গুলো,তখন তাদের টনক লড়ল।
তিনি আরও বলেন,রিজার্ভে কাঠ পাচার,বালু উত্তোলন,পাথর উত্তোলন হলেও কোন ব্যবস্থা নেয় না।ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণে অভিযান ঠিক চালিয়েছে।

মাতামুহুরি বিট কর্মকর্তা মোঃসাইদুর রহমান বলেন,সংরক্ষিত বনাঞ্চলে কিছু করতে গেলে বনবিভাগের অনুমতি লাগে,কোন অনুমতি ছাড়া রাস্তার পাশে ইট দিয়ে ঘর তৈরি করছে,শুরু থেকে বেশ কয়েকবার নিষেধ করা হয়েছে।কিন্তু নিষেধ অমান্য করে তারা মিটিং ঘর তৈরি করছে ইউএনডিপির সহায়তায়।কুরুপপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিষয়টি অন্যদিকে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন,কুরুপপাতা ইউপি চেয়ারম্যান রিজার্ভ এলাকায় কোনকিছুর অনুমতি দিতে পারেন না,অনুমতি দিতে পারেন বনবিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা।তাছাড়া পাড়ায় একটি গীর্জা আছে,রাস্তার পাশে কিসের গীর্জার?এগুলো অপ্রচার চালাচ্ছে তারা।

কুরুপপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো বলেন,বাংলাদেশের অনেক জায়গা রিজার্ভ এলাকা আছে,সেখানেও বনবিভাগ আছে,সেখানেও মানুষ বসবাস করে,বড় বড় ঘর তৈরি করে।আর এখানে প্রকৃতির কোন ক্ষতি না করে মানুষ ঘর ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তৈরি করে।মানুষের জন্য বন,বনের জন্য মানুষ নয়।
তিনি আরও বলেন,কুরুপপাতা ইউনিয়ন সংরক্ষিত বনাঞ্চলের হলেও এখানে চারটি বড় বাজার,ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আছে,সেগুলোতে বনবিভাগের অনুমতি প্রয়োজন হয়নি,তাই গীর্জার জন্য নেওয়া হয়নি।রাস্তা না হওয়ার আগে এখানে গীর্জার ছিল,যেখানে গীর্জার হচ্ছে সেখানে আগে ইউএনডিপির গুদামঘর ছিল,সেটি অন্য জায়গায় সরিয়ে গীর্জার করা হচ্ছে।

মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনাঞ্চলের রেঞ্জ কর্মকর্তা জহির উদ্দিন মিনার চৌধুরী বলেন,বিভাগী কর্মকর্তা নির্দেশে বিশেষ টীম অভিযান চালিয়েছে।সংরক্ষিত বনাঞ্চলের দায়িত্ব নেওয়ার পর কোন নতুন স্থাপনা করতে দেওয়া হয় নি।তবুও কিছু যাত্রী ছাউনি রাস্তা পাশে ইউপি চেয়ারম্যান করেছে, জনকল্যাণে তাই বাধা দেওয়া হয়নি। প্রকৃতপক্ষে রিজার্ভ এলাকায় বিভাগীয় বন কমর্কতার্র অনুমতি ছাড়া কোন স্থাপনা করা যায় না।আর যেসব স্থাপনা আছে সেগুলো পুরনো।
একপ্রশ্নের জবাবে,কাঠ,বালু,পাথরের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান জানান।তিনি আরও বলেন,কিছু দিন আগেও পাথর উত্তোলনের দায়ে দুইজনকে আটক করা হয়ছে।আগে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে,আটকও হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার সকালে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বান্দরবান জেলা পরিষদ সদস্য দুংড়িমং মারমা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।এসময় তিনি এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান করেন এবং বনবিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।

তপন দেব নাথ
আলীকদম উপজেলা প্রতিনিধি
মোবাইল ০১৮৪২৪১৬৪৪০
তাং২৬/০২/২০২১


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: