বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১১:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :

ইয়াবা পাচার রোধে উখিয়ায় পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ

ডেস্ক নিউজ:: / ৫২ বার
আপডেট বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১১:৩০ অপরাহ্ন
পুলিশ
পুলিশ সদস্য

কক্সবাজার সীমান্তবর্তী উখিয়া থানার পাড়া-মহল্লায় অপ্রতিরোধ্য ইয়াবার চালান পাচার বন্ধসহ ইয়াবা সেবনকারীদের উৎপাত কমাতে পুলিশ শেষ পর্যন্ত এলাকায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। উখিয়া থানা পুলিশ এক্ষেত্রে রাত ১০টার পর জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচলের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করার ঘোষণা প্রচার করছে।

পুলিশ বলছে, সীমান্তবর্তী এলাকাটিতে ইয়াবা পাচার বন্ধসহ রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নানা অপরাধজনক কাজ নিয়ন্ত্রণ করার জন্যই নেওয়া হচ্ছে এমন ব্যবস্থা। এক্ষেত্রে পুলিশের প্রাথমিক ব্যবস্থা অনুযায়ী রাত ১০টার পর অহেতুক কাউকে ঘরের বাইরে যেতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে রাত ১০টার পর সিএনজিচালিত ট্যাক্সি, ইজিবাইক এবং দুই চাকার বাইকসহ ছোটখাট যানবাহন চলাচলেও পুলিশ বিধি নিষেধ আরোপ করেছে। উখিয়া থানা পুলিশ গত দুদিন ধরে স্থানীয়ভাবে মাইকিং করে এমন ঘোষণা প্রচার করছে।
এ বিষয়ে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহাম্মদ সানজুর মোরশেদ শনিবার কালের কণ্ঠকে বলেন- ‘কক্সবাজার জেলা পুলিশে আমরা সবাই এলাকায় নতুন এসেছি। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে ইয়াবা কারবারি, স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গাসহ অপরাধ জগত নিয়ে আমাদের কাছে সবই অচেনা। তাই আমরা ইয়াবা পাচারসহ অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণের উপায় খুঁজে বের করতে পরীক্ষামূলক এরকম একটি পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছি।’

ওসি বলেন, রাত ১০টার পর রাস্তাঘাটে অগণিত সংখ্যক মোটরবাইক, সিএনজি ও ইজি বাইক (টমটম) চলাচল শুরু করে। দিনের চেয়েও এসব যানবাহন রাতের বেলায় বেশি বের হওয়াকে সন্দেহের চোখে দেখেই এরকম কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে রোগী সেবাসহ জরুরি যেকোনো কাজে যানবাহন চলাচলে কোনো বাধা নেই বলে জানান তিনি।

এলাকার লোকজন বলছে, টেকনাফ সীমান্তের চেয়ে সাম্প্রতিক সময়ে উখিয়া সীমান্তে ইয়াবার চালান পাচারের ঘটনা বেড়ে গেছে। বেড়ে গেছে, যত্রতত্র ইয়াবা বেচাকেনা থেকে শুরু করে সেবনকারীদের উৎপাতও। প্রতিনিয়ত মিয়ানমার থেকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়ন ও নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুংধুম-তুমব্ররু সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে আসা ইয়াবার চালান উখিয়ার পাড়া মহল্লায় সয়লাব হয়ে পড়ছে। সন্ধ্যার পরে পথচারী যাত্রী সাধারণ এসব ইয়াবাসেবীর খপ্পরে পড়ে প্রতারিত ও নাজেহাল হয়ে পড়ছে। এলাকায় ইয়াবা কারবার নিয়ে অহরহ ঘটে চলেছে নানা অপরাধজনক ঘটনা। এসব সামাল দিতে পুলিশকে হিমসিম খেতে হচ্ছে।
উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন- ‘সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা নিহতের ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ইয়াবা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা বন্ধ রয়েছে। পুলিশের নতুন আসা সদস্যরা গত ক’দিন ধরে এলাকায় ইয়াবা পাচারসহ নানা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে এজন্য স্থানীয় বাসিন্দারা আনন্দিত।’

অপরদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের ডেইল পাড়া, দরগাহবিল ও করইবনিয়া এলাকা হচ্ছে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা পাচারের প্রবেশদ্বার। এই তিনটি পয়েন্ট উখিয়া থানা সদরের পার্শ্বে অবস্থিত।

তিনি জানান, সীমান্তের এসব এলাকা থেকে ইয়াবার চালান পাচারের জন্য সারারাত ধরে বিপুলসংখ্যক মোটরবাইকসহ ছোট যানবাহনগুলো ব্যস্ত হয়ে পড়ে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: