মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৬:০৮ অপরাহ্ন

আলীকদমে কার্যদেশ অনুযায়ী কাজ না করে রিংওয়েলের বিল উত্তোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক: / ১২৫ বার
আপডেট মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৬:০৮ অপরাহ্ন

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর প্রকল্প (এডিপি) এর অধীনে রিংওয়েল স্থাপনে সিডিউল অনুযায়ী কাজ শেষ না হলেও ঠিকাদার এরই মধ্যে ৩টি রিংওয়েলের কাজ সম্পূর্ণ দেখিয়ে বিল উত্তোলন করে ফেলেছেন।

এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী প্রকল্প (এডিপি) এর অধীনে আলীকদমের চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের কোনা পাড়া,হোসেন সর্দার পাড়া,আলীকদম সদরের আবু সর্দার পাড়া ও নয়াপাড়া ইউনূছের বাড়ী পাশেসহ একটি করে ৪টি রিংওয়েল ৫০ ফুট গভীর স্থাপনের জন্য ৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরই মধ্যে কোনা পাড়া ১টি ,হোসেন সর্দার পাড়া ১টি, আবু সর্দার পাড়া ১টি মোট ৩ টির সিডিউল অনুযায়ী শেষ হয়েছে বলে বিল উত্তোলন করা হয়। বর্ষাকাল হওয়ায় ইউনূছের বাড়ীর পাশে রিংওয়েল স্থাপনের কাজে বাধা দেয় স্থানীয়রা। তাই সেটির বিল উত্তোলন করা হয় নি।

কোনা পাড়ার বাসিন্দা কফিল উদ্দিন,আবু সর্দার পাড়া সখিনা বেগম বলেন, রিংওয়েল স্থাপনের কাজটি খুব নিম্নমানের। রিংগুলো একে তো ছোট, তার উপর নিম্নমানের বালু, কংক্রিট ব্যবহার করা হয়েছে, ধরতেই ভেঙে যাচ্ছে। রিংওয়েলের গভীরতাও করা হয়েছে চল-চাতুরীর মাধ্যমে। রিংওয়েল কখনো ৩৭/৩০ ফুট করতে কখনো শুনি নি, এই প্রথম দেখলাম। তারা আরো বলেন, মাস না ঘুরতেই রিংওয়েলে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এরইমধ্যে রিংওয়েলের অনেকাংশে ভেঙ্গে গেছে। কোনাপাড়া রিংওয়েলটি এরমধ্যেই পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

তারা আরও বলেন, এতো নিম্নমানের কাজ ও অগভীর রিংওয়েল স্থাপন করলেও কর্তৃপক্ষ ও প্রতিনিধিরা ছিল চুপচাপ। এসব দেখার মত কেউ না থাকায় অগভীর রিংওয়েল স্থাপন ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার কারণে প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারের নিয়োজিত লোকজন বলে কর্তৃপক্ষের যেমন নির্দেশ ও সিডিউলে যা আছে তার চেয়ে বেশী কাজ করছি।

কোনা পাড়ার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন ও সাহাব উদ্দিন বলেন, সরকার ব্যাপক হারে উন্নয়ন করছে সবক্ষেত্রেই, কিন্তু কিছু অসাধু ঠিকাদারের অতি লোভের কারণে উন্নয়ন কাজগুলো দৃশ্যমান হলেও টেকসই হচ্ছে না ও দীর্ঘদিন সুফল ভোগ করা যাচ্ছে না। প্রতিটি রিংওয়েল বর্ষাকালে ৩৭/৩০ ফুট, শুকনো মৌসুমে তার সুফল পাওয়া যাবে না।

তারা আরও বলেন, চারটি না করে, চারটির বরাদ্দ দিয়ে দুইটি রিংওয়েল করুক মানসম্মত ও গভীর। যার সুফল সারা বছর পাওয়া যাবে। সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করার পেছনে কতৃপক্ষের যথাযথ ভাবে তদারকি না করা ও দায় ছাড়া ভাবের কারণে সম্ভব হয়েছে।

আরো জানা গেছে, মেসার্স নজির আহমেদ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি লটারির মাধ্যমে পাই এবং সুমন মাহামুদ ও সোহেল কাজটি কিনে সাব ঠিকাদারীতে করছিলেন।

এই ব্যাপারে সাব ঠিকাদার সুমন মাহামুদ বলেন, রিংওয়েল গুলোতে ৪৮ফুট গভীরতা আছে। ২নং চৈক্ষ্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লোক পাঠিয়ে মেপেছে তারপর আমরা রিং ফেলছি। সিডিউলে কত ফুট করার কথা ছিল এবং বর্ষা মৌসুমে রিংওয়েল করা যায় কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ইঞ্জিনিয়ার বলতে পারবে, ইঞ্জিনিয়ারের সাথে যোগাযোগ করুন।

আলীকদম উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) কর্মকর্তা আসিফ আহসান জানান, সিডিউল অনুযায়ী কাজ হয়েছে বলে ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা প্রত্যয়ন ও মৌলিক ভাবে জানানোর কারণে বিল দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি রিংওয়েল ৪৫ ফুট করলেই হবে। বিল উত্তোলন করলেও এখনোও জামানত আছে। রিংওয়েল গুলোতে যদি কোন সমস্যা হয় এবং সিডিউল অনুযায়ী কাজ না হয়, তাহলে জামানত ফেরত দেওয়া হবে না।

এবিষয়ে ২নং চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফেরদৌস রহমান বলেন, ঠিকাদার আমার নিকট প্রত্যয়নের জন্য এলে যাচাই-বাছাই করেছি। সরেজমিনে গিয়েছিলেন আপনি এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান,না আমি যাই নি, কিন্তু স্থানীয় দুয়েকজনের কাছে ফোনে করলে, তারা ঠিক আছে বলে জানিয়েছে,তাই প্রত্যয়ন দেওয়া হয়েছে।

সরজমিনে না গিয়ে এভাবে একজন প্রতিনিধি প্রত্যয়ন দিতে পারেন? সিডিউলে কতটুকু করার নির্দেশনা আছে জানেন? উত্তরে তিনি বলেন, ঠিকাদার জানিয়েছেন ৪৫ ফুট গভীর করেছে। তারা প্রত্যয়ন চেয়েছে তাই দিয়েছি। সিডিউল অনুযায়ী কাজ হয়নি, কিন্তু আপনি প্রত্যয়ন দিয়েছেন, প্রত্যয়ন দেওয়ায় আপনি এর দায়ভার এড়াতে পারবেন এমন প্রশ্নের উত্তর চেয়ারম্যান জানান, যদি গভীরতা কম হয়, আবার কাজ করাব।

আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সায়েদ ইকবাল জানান, বরাদ্দে যা আছে, সে অনুযায়ী কাজ বুঝে নেওয়া হবে, প্রত্যেকটি রিংওয়েলে পরিদর্শনে করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: