শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৩০ অপরাহ্ন

ক্যাম্পে আধিপত্য থাকবে আইনশৃংখলা বাহিনীর-ডিআইজি

রফিকুল ইসলাম:: / ২০১ বার
আপডেট শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৩০ অপরাহ্ন

উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই সন্ত্রাসী
গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সপ্তাহ জুড়ে চলমান সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বুধবারও সারাদিন থেমে থেমে গোলাগুলি ও হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিস্থিতি নিজেদের আয়ত্তে আনতে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছে। এই উদ্ভূদ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে আসেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো: আনোয়ার হোসেন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে লাগাতার সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, এখানে আধিপত্যের কিছু নাই। আধিপত্য থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।এখানে আমাদের যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রয়েছে, যৌথ পেট্রোলিংয়ে আছে আধিপত্য থাকবে তাদের। অন্য কারো (রোহিঙ্গাদের) আধিপত্য থাকার কোন সুযোগ নেই।
তিনি বলেছেন, ক্যাম্পের পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রনে আছে। তবে কিছুটা উত্তেজনা রয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ৪ জন নিহত হয়েছে। এর আগে আরও ২ জন নিহত হয়েছে। এখন ভিতরে আমরা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়িয়েছি।
তিনি বলেন, যৌথভাবে টহল চলছে। কিছু কিছু এলাকায় ব্লকরেইডও চলছে। আমাদের যে দুইটা এপিবিএন (ইউনিট) এবং অন্যান্য যৌথ বাহিনী যারা আছে সবাই মিলে ভিতরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।অবৈধ অস্ত্রের ব্যাপারে ডিআইজি বলেন, অবৈধ অস্ত্র যাদের কাছে আছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গত সপ্তাহজুড়ে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ১/ইষ্ট ও ২/ওয়েষ্ট নং ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’রোহিঙ্গা গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও সংঘাত চলে আসছে। এসময় দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে এ পর্যন্ত এক মহিলা সহ ৮জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে এক সাথে ৪জন নিহত হওয়ার ঘটনায় উক্ত ক্যাম্পে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে।

মঙ্গলবারের ৪জন নিহতের ঘটনার জের ধরে বুধবার সকাল থেকে সারাদিন দু’পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এসময় নতুন করে উভয় পক্ষে অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গা আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে এপিবিএন এর এক সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছে। সকাল ১০টার পর থেকে কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এঘটনায় ভয়ে দলে দলে

রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ইনচার্জের অফিসে আশ্রয় নেয়। এসময় পুরাতন নিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতেও দেখা যায়।

রোহিঙ্গারা বলছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে ইয়াবা ব্যবসা, দোকান থেকে চাঁদাবাজি ও এলাকা ভিত্তিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী মুন্না গ্রুপ ও আনাছ,মৌলভী হামিদ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে।এদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই গ্রুপের মধ্যকার গোলাগুলির ঘটনায় ক্যাম্প সংলগ্ন বাংলাদেশী গ্রামবাসীদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।

মঙ্গলবারের ঘটনায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নিরাপত্তা জনিত কারণে গতি কয়েকদিন ধরে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, দেশী-বিদেশী বিভিন্ন এনজিও কর্মকর্তা কর্মচারীদের যাতায়াত সীমিত হয়ে পড়ে। গতকাল বুধবার দুপুরের পরে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, দেশী-বিদেশী বিভিন্ন এনজিওর অন্তত ৮/১০ দেশী-বিদেশী সেবাকর্মীকে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ নিরাপদে ক্যাম্প ত্যাগ করার নির্দেশ দেন একাধিক সংস্থা জানিয়েছে।

ক্যাম্পে সকাল থেকে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে দায়িত্বরত এপিবিএন সদস্য, পুলিশ, আনসার ও সেনাবাহিনী টহল জোরদার করে। এসময় ৪জন রোহিঙ্গাকে আটক করে পুলিশ। তবে এরা সম্প্রতি সংঘটিত ঘটনার মামলার আসামী নেয় বলে জানান উখিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ সালাহ উদ্দিন।

মঙ্গলবার নিহত ৪ জনের মধ্যে নুরুল হুদা (৩২) নামের একজনকে সনাক্ত করা গেছে। সে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের বাসিন্দা। ঘটনার সময় সে মাইক্রোবাস নিয়ে ভাড়ায় আসছিল। তার মরদেহ স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হলেও অপর ৩ জনের মরদেহ কেউ সনাক্ত না করায় প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করে লাশগুলো আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: