সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৫২ অপরাহ্ন

বাংলাবাজার পানিবন্দিতে সৈয়দ মিস্ত্রীর পরিবারঃ নবজাতকের মৃত্যু,অসুস্থ ২জন

শাহী কামরান: / ৭১ বার
আপডেট সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৫২ অপরাহ্ন

কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের বাংলাবাজার স্টেশনের একটু পশ্চিমে নয়াপড়া গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ মিস্ত্রীর ভিটা বাড়ি ২মাস ধরে পানিবন্দি। মূলত বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় এমনটা হচ্ছে। পাশে লাগুয়া পার্শ্ববর্তী বাড়ির সীমানা দালান নির্মানের কারনে পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিহিংসার বসবতি হয়ে তারা সীমানা প্রাচীর দিয়ে এমন সমস্যা সৃষ্টি করেছে। গরীব অসহায় সৈয়দ মিস্ত্রী পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। পরের বাড়িতে কাজ করে পরিবারের খাদ্য যোগান দেয়। তার বাড়ির উত্তর, পশ্চিম ও পূর্বে নির্মাণ করা হয়েছে ভবন এবং দক্ষিনে রয়েছে কক্সবাজার চট্রগ্রামের মহাসড়ক। আশপাশে মাটি ভরাট করে দালান নির্মান করায় তার ভিটে অন্যান্যদের তুলনায় ৫ফুট নিছু হয়ে পড়েছে।তার কোন প্রকার সাধ্য নেই সে আশপাশের সবার মতো ভিটে ভরাট করে উচু করে বাড়ি নির্মাণ করার।

সৈয়দ মিস্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৫দিন আগে তার বাড়িতে নবজাতকের মৃত্যু ঘটেছে। পরিবারে আরো ৪জন ঠান্ডাজনিত রোগে ভোগছে তার মধ্যে ২জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
তার অভিযোগ, পার্শবর্তী আবুল হোসেন পানি নিষ্কাশনের যায়গা বন্ধ করে সীমানা প্রাচীর নির্মান করেছে। কোন ড্রেনের ব্যবস্থা তো দূর পানি যাওয়ার একটি পাইপ চালাতেও দেয়নি গত ২মাস ধরে। সে গায়ের জোরে দলবল নিয়ে রাতারাতি দালান তৈরী করে আমার চরম সমস্যা সৃষ্টি করে দিয়েছে। সীমানা কোন যায়গা ছাড় না দিয়ে তারা এমনটি করেছে। পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাষ্টার আব্দু রহিম সহ স্থানীয় মেম্বার ও মান্যগণ্য ব্যক্তিদের অনেকবার বুঝিয়েছি। সমাধানের আর্জি করেছি কিন্তু কেউ সমাধান তো দূর একটু দেখতেও আসেনি আমার পরিবারকে। আজ প্রায় বর্ষাকালের শুরু হতে আমার বাড়ির ভিতর ৩ফুট পানিতে ডুবে আছে। দূর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে বাড়িঘরে। থাকার মতো পরিবেশ নেই বললে চলে। বর্তমানে পরিবারের সবাইকে নিয়ে আমি অসহায় হয়ে পড়েছি।

তিনি অভিমান করে বলেন,আমি গরীব কাউকে টাকা দিতে পারিনা তাই কেউ বিচার করতে আসেনা। আমার পক্ষে কেউ কথা বলেনা যে টাকা দেয় সবাই তার পক্ষে। এমন পরিস্থিতিতে আমার সাধ্য নেই তাদের সৌচ্ছার হয়ে জোর খাটিয়ে দেয়াল ভেঙ্গে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা। স্থানীয় চেয়ারম্যান মহোদয় কে বিষয়টি যখন অবগত করি তিনি প্রতি উত্তরে আমাকে জানান “আমি কি তোর সীমানা ঠিক করার জন্য চেয়ারম্যান হয়েছি? আমি অসহায় হয়ে পড়েছি তাই প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।

পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা হয়নি কেনো জানতে চাইলে পশ্চিমের বাড়ির মালিক ইউনুছ মিস্ত্রী জানান, আমি যখন বাড়ি নির্মান করি তখন চারপাশে খালি ছিল। সহজে পানি নিষ্কাশন হয়ে যেত তবুও আমি পানি চলাচলের ২ফিট যায়গা রেখেছি। কিন্তু আমাদের উত্তরে আবুল হোসেনের ভিটা বাড়ি। তারা সম্প্রতি সীমানা প্রাচীর দিতে গিয়ে পানি চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দালান তৈরী করে ফেলেছে। এখন তারা দেয়াল ভাঙ্গতে হবে তাই বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে চুপ মেরে বসে আছে। আমি আমার দায়িত্ব থেকে পানি চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করে দিচ্ছি তবুও জনাব আবুল হোসেনের দেয়াল না ভাঙ্গা পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের পথ হবেনা বলে আমি মনে করি।

অভিযুক্ত আবুল হোসেনের পুত্র করিম জানান,সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন তাদের সাথে সমস্যা রয়েছে। আমরা আমাদের সীমানায় দেয়াল দিয়েছি এতে কার কি অসুবিধা আমাদের দেখার বিষয় নই।

বিষয়টা জানতে পিএমখালী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার নুরুল হুদা মুঠোফোন জানান,তারা কেউ বিচার মানতে রাজি নন। বিশেষ করে আবুল হোসেনের পরিবার দেয়াল ভাঙ্গার ভয়ে যায়গা জমির অজুহাত দেখিয়ে বিষয়টা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আমি চেষ্টা করেছিলাম সৈয়দ মিস্ত্রীর পরিবারকে বন্দি পানি হতে মুক্ত করতে কিন্তু কেউ সমাধানে আসতে চাইনা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: