বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:১৫ অপরাহ্ন

উখিয়া-টেকনাফে ‘আলেকিন’র হাতে জিম্মি রোহিঙ্গারা

শফিক আজাদ:: / ২০৪ বার
আপডেট বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:১৫ অপরাহ্ন

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রয়েছে। এসব ক্যাম্পের সাধারণ রোহিঙ্গারা বিদ্রোহী সংগঠন ‘আলেকিন’ এর হাতে জিম্মি অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরজমিন উখিয়ার কুতুপালং, লম্বাশিয়া, মধুরছড়া, বালুখালী, ময়নারঘোনা, জামতলী, তাজনিমারখোলা ক্যাম্প ঘুরে সাধারণ রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দিনের বেলায় যেমন-তেমন রাতের বেলায় ক্যাম্প এলাকায় এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রাত গভীর হলে সশস্ত্র রোহিঙ্গা বিদ্রোহী সংগঠন আলেকিনের সদস্যরা ক্যাম্পে মহড়া এবং আধিপত্য বিস্তার করে থাকে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক গড়ে উঠা সশস্ত্র রোহিঙ্গা বিদ্রোহী সংগঠন ‘আলেকিন’ এর অস্ত্র ও ইয়াবা ব্যবসায় অর্থের জোগানদাতা কারা? এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের।

আলেকিনের অস্ত্র এবং ইয়াবা ব্যবসার পেছনে অর্থের জোগানদাতাদের মধ্যে উঠে এসেছে উখিয়ার স্বনামধন্য দুই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম। তারা উখিয়ার প্রতিটি ক্যাম্পে আলেকিন গ্রুপের সদস্যরা অগ্রিম টাকা দিয়ে এনজিও কর্তৃক সরবরাহকৃত যে কোনো ধরনের ত্রাণসামগ্রী অল্প দামে ক্রয় করে গুদামজাত করে আসছে। এ ব্যবসার লভ্যাংশের বিশাল একটি অংশ ব্যবহৃত হচ্ছে অস্ত্র কেনার কাজে। এছাড়াও এই দুই প্রতিষ্ঠান ইয়াবা ব্যবসায়ও অর্থ পুঁজি করে থাকে রোহিঙ্গাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৩ আগস্ট র‌্যাব-১৫ এর সদস্যরা কক্সবাজারের বঙ্গোপসাগর থেকে ১৩ লাখ পিস ইয়াবাসহ আয়াছ নামের এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করে। সে উখিয়ার বালুখালী ১৩ নাম্বার ক্যাম্পের এইচ ব্লকের বাসিন্দা মো. বশির আহমদের ছেলে। আয়াছ আলেকিনের একজন বড় নেতা। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমার থেকে এক কাপড়ে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছিল ক্যাম্পে। ইয়াবা ব্যবসা করে সে এখন কোটিপতি।

আয়াছের মতো আরও অনেকে ইয়াবা ব্যবসা করে এখন কোটিপতি বনে গেছে বিভিন্ন ক্যাম্পে। আয়াছ র‌্যাবের হাতে আটক হলেও তার ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে আলেকিন গ্রুপের অন্য সদস্যরা। তাদের মধ্যে রয়েছে- বালুখালী ১১নং ক্যাম্পের ডি-ব্লকের বাসিন্দা মো. আলীর ছেলে মো. শফিক এবং সি ব্লকের রফিক।

শফিক হচ্ছে সম্প্রতি ওসি প্রদীপের সাজানো বন্দুকযুদ্ধে নিহত উখিয়ার কুতুপালং ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মৌলভী বখতিয়ার আহমদের সঙ্গে পুলিশের হাতে আটক রোহিঙ্গা জাহাঙ্গীর আলমের ভগ্নিপতি। তার ব্যবসাও দেখভাল করেন এই শফিক। এরা ২ জন পুরো ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের জিম্মি করে ত্রাণের মালামাল ক্রয় থেকে শুরু করে প্রতিটি দোকান থেকে ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে থাকেন। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে বালুখালী ২নং ক্যাম্পের হেড মাঝি আরিফ উল্লাহ ও রোহিঙ্গা নেতা আবদুল্লাহ খুন হন।

সম্প্রতি ১১নং ক্যাম্পের ডি-ব্লকের বাসিন্দা রোহিঙ্গা ডাক্তার আকতারকে দিনেদুপুরে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রশাসনের সহযোগিতায় তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেন। এই গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছে ১১নং ক্যাম্পের মো. ইউনুছ প্রকাশ আবদুল্লাহ এবং কুতুপালং লম্বাশিয়া এলাকার মাস্টার মুন্না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সচেতন রোহিঙ্গারা বলেন, গুটিকয়েক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের কারণে দেশে-বিদেশে পুরো রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর দুর্নাম হচ্ছে। সুতরাং এসব রোহিঙ্গা চিহ্নিত করে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে কারা অর্থের জোগান দিচ্ছে তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা জরুরি; অন্যথায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন হুমকির মুখে পড়বে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বালুখালী ২নং ক্যাম্পের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. জাগির জানান, আলেকিনের তৎপরতা এবং আলেকিন নেতা শফিক ও রফিকের ব্যাপারে আমি অবগত না। সুতরাং এ নিয়ে কিছু বলতে পারব না। তবে খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে বলে তিনি জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: