শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ০১:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
ঈদগাঁও বিএনপি’র আহবায়ক শফির জানাযায় হাজারো মানুষের ঢল উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবের সমুদ্র ভোজন সম্পন্ন ওমান থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছেছে খুনিয়াপালং পেঁচারদ্বীপের ফেরদৌসের লাশ ফ্রান্সের বিরুদ্ধে উখিয়ার সর্বত্র প্রতিবাদ,বিক্ষোভ ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে কক্সবাজারে জশনে জুলুশের বিশাল র‌্যালী আত্মসমর্পণ করছে বৃহত্তর চট্টগ্রামের শতাধিক জলদস্যু ফেনীতে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ২ উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবের ’সমুদ্র ভোজন’ শুক্রবার কথিত রাজা শাহ আলমের প্রাণনাশের হুমকির প্রতিকার চেয়ে মনজুরের সাংবাদিক সম্মেলন মুক্তিযোদ্ধাদের নামের আগে লিখতে হবে ‘বীর’, গেজেট প্রকাশ

বাঁকখালী নদীর তীব্র ভাঙনে শ্মশান ও সড়কসহ জনবসতি ঝুঁকিতে

সিএসবি২৪ডটকম। / ৬৫ বার
আপডেট শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ০১:২১ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারে বাঁকখালী নদীতে ভয়াবহ ভাঙ্গনে শ্মশান ও সড়কসহ কয়েকটি জনবসতিতে ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।বিশেষ করে রামুর রাজারকুল ইউনিয়নের শিকলঘাট ও পূর্ব রাজারকুলে চলতি বর্ষা মৌসুমে নদী গর্ভে তলিয়ে গেছে বসত ভিটা। ঝূঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এলাকার চলাচলের একমাত্র সড়ক।

অপর দিকে কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা পূর্ব বড়ুয়া পাড়ার বৌদ্ধ শ্মশানটি নদী ভাঙ্গনের কারণে দিন দিন পরিধি ছোট হয়ে আসছে। এখন নদীপাড় এবং শ্মশানের মধ্যে মাত্র ১০ ফুট মত দূরত্ব রয়েছে।

নদী ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বিলীন হতে পারে শ্মশানসহ জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আশপাশের অসংখ্য বসতি।

নিউটন বড়ুয়া নামে একজন জানিয়েছেন, শশ্মানটি রক্ষার্থে একটি অস্থায়ী বেড়িবাঁধ দিয়েছে অগ্র জ্যোতি সংঘের সদস্যরা। সেটা ঠিকে থাকবে কিনা আধৌ সন্দেহ রয়েছে।

কক্সবাজার পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ওমর সিদ্দিক লালু জানিয়েছেন, তিনি ইতোমধ্যে নদী ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে থাকা শ্মশান সম্পর্কে অবগত হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় বরাদ্ধের বিষয়েও তিনি পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান।

রাজারকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুফিজুর রহমান জানিয়েছেন-চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে রাজারকুল ইউনিয়নের নাশিরকুল ও আশপাশের এলাকায় নদী ভাঙন তীব্র আকার শুরু হয়েছে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন তৎপরতা না থাকায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

মুফিজুর রহমান আরো জানিয়েছেন- কয়েক বছর ওই স্থানে নদী ভাঙনের কারণে চলাচলের সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে। সম্প্রতি ওই স্থানে বাঁকখালী নদীতে চলমান নদী শাসন প্রকল্পের আওতায় অপরিকল্পিত ড্রেজিং করার কারণে নদী ভাঙন আরো তীব্র হতে শুরু করে। যে কারণে সড়ক সহ এখন আশপাশের জনবসতি হুমকীর মুখে পড়েছে। অবিলম্বে নদী ভাঙন রোধে সিসি ব্লক স্থাপন সহ কার্যকর উদ্যোগ না নিলে অপূরনীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।

রাজারকুল ইউনিয়নের পূর্ব রাজারকুল নাশিরকুল গ্রামের বাসিন্দা ফোরকান আহমদ প্রকাশ ফরোখ জানান-স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে-নাতিদের নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন এখানে বসবাস করছেন। চলতি বর্ষা মৌসুমে তার বসত ভিটের গাছপালাসহ অধিকাংশ জমি নদী গর্ভে তলিয়ে গেছে। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে যে কোন মূহুর্তে তার বসত ঘরটি নদীতে তলিয়ে যাবে। এনিয়ে তিনি এখন আতংকে রয়েছেন। বসবাসের একমাত্র সম্বল এ ঘরটি রক্ষায় তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

একই ইউনিয়নের নাশিরকুল গ্রামের বাসিন্দা মোকতার আহমদ, জাফর আলম, দিলদার আলম, বশির আহমদ জানিয়েছেন- তাদের বাড়ির পাশর্^বর্তী শিকলঘাট-পূর্ব রাজারকুল সড়ক সংলগ্ন বাকখালী নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ অংশটি এমনিতেই ছিলো ঝুঁকিপূর্ণ।

কয়েকমাস ধরে ঝূঁকিপূর্ণ স্থানে এলাকাবাসীর বাধা উপেক্ষা করে নদী ড্রেজিং করায় চলাচলের একমাত্র সড়কসহ ও তাদের শতাধিক বসত বাড়ি তলিয়ে যাওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। অতিদ্রুত এখানে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে যে কোন মূহুর্তে সড়কের বিশাল অংশ নদী গর্ভে তলিয়ে যেতে পারে।

রামুর লম্বরীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাফেজ মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুর জানিয়েছেন-এ গ্রামে বাঁকখালী নদীর উপর নির্মাণাধিন রেল সেতুর পশ্চিম পাশে কয়েক বছর তীব্র নদী ভাঙন চলছে। এলাকাবাসীর জোরালো আবেদন সত্ত্বেও এখানে ভাঙন রোধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এলাকাবাসী অবিলম্বে এখানে ভাঙন রোধে সিসি ব্লক স্থাপনের দাবি জানিয়েছে।

রামু উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারি প্রকৌশলী আলা উদ্দিন খান জানিয়েছেন- শিকলঘাট হতে পূর্ব রাজারকুল সড়কের নাশিরকুল এলাকায় বাঁকখালী নদীর ভাঙ্গনে এলজিইডি নির্মিত সড়কটি বর্তমানে খুবই ঝূঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার লক্ষ্যে বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী জানিয়েছেন- রামুর বিভিন্ন স্পটে নদী ভাঙনে ঝূঁকিপূর্ণ সড়ক ও বসতি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল জানিয়েছেন-সম্প্রতি তিনি রাজারকুলে নদী ভাঙনে ঝূঁকিপূর্ণ জনবসতি ও সড়ক পরিদর্শন করেছেন। চলাচলের সড়কটি বিলীন হলে বিকল্প সড়ক করাও কষ্টসাধ্য হবে। তাই জনস্বার্থে সহসা ভাঙন রোধে কার্যকর প্রদক্ষেপ নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: