শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন

লামায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২ বছর পার হলেও এখনো কেনা হয়নি ‘ডিজিটাল হাজিরা’ ! (২য় পর্ব)

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা: / ৭৮ বার
আপডেট শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন

সারাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক উপস্থিতি শতভাগ নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক হাজিরা সিস্টেম চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে লামা উপজেলার ৮৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৮টি বিদ্যালয়ে স্লিপ বরাদ্দ থেকে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ দুইবছর পেরিয়ে গেলেও ১০টি বিদ্যালয় ব্যাতিত অন্য ৬৮টি বিদ্যালয় এখনো ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয় না করে, সেই টাকা আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই অনিয়মের সাথে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা জড়িত বলে জানা যায়। এছাড়া বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে এসব মেশিন ক্রয় ও সরবরাহ করার অভিযোগও রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ২৩ অক্টোবর ২০১৯ তারিখের আদেশে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কেনার স্পেসিফিকেশন উল্লেখ করে বলা হয়- বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাজার থেকে যাচাই করে সাশ্রয়ী মূল্যে নিজেদের পছন্দ মতো ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয় করে স্কুলে স্থাপন করবে। কিন্তু অধিকাংশ স্কুল এখনো তা করেনি। উপজেলা শিক্ষা অফিসারের দেখানো নির্দিষ্ট দোকান বা ব্যক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কিনতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। এদিকে দুইবছর অতিবাহিত হলেও ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপন না করার বিষয়ে এখনো কারো বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

জানা যায়, উপজেলার ৮৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় মধ্যে ৭টি বিদ্যালয়ে (নুনারবিল, লামামুখ, ছাগলখাইয়া, অংহ্লারী পাড়া, চাম্বী, ডলুছড়ি, রূপসীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সিএফএস বরাদ্দ থাকায় ও স্লিপ বরাদ্দ না থাকায় তারা ডিজিটাল হাজিরা ক্রয় করেনি। এছাড়া বাকী ৭৮টি বিদ্যালয় স্লিপ বরাদ্দ থেকে ২০ হাজার টাকায় ডিজিটাল হাজিরা ক্রয় করার কথা ছিল। এদিকে ডিজিটাল হাজিরা স্থাপন করা হয়েছে বলে ২০১৯ সালে ৩০ জুন স্লিপ বরাদ্দে ডিজিটাল হাজিরার বিল-ভাউচার সমন্বয় করা হয়। খবর নিয়ে ও সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার ১০টি বিদ্যালয়ে এই পর্যন্ত (আদর্শ, মধুঝিরি, লাইনঝিরি, চাম্পাতলী, মেওলারচর, কলারঝিরি মংপ্রু পাড়া, বনপুর, রওজা পাড়া, এম হোসেন পাড়া ও টিটিএন্ডডিসি) ডিজিটাল হাজিরা লাগিয়েছে।

ডিজিটাল হাজিরা কেন লাগানো হয়নি, এবিষয়ে কথা হয় ইয়াংছা পাড়া, চেয়ারম্যান পাড়া, সাবেক বিলছড়ি, রাজবাড়ি, লাচ্ছাই পাড়া ও বড় ফারাংগা খৃজ্জানুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে। তারা জানায়, দ্রুত ক্রয় করে স্থাপন করা হবে। আবার অনেকে বলে, আমরা অনেকে ক্রয় করেছি, কিন্তু বিদ্যালয়ে স্থাপন করা হয়নি। অনেকে মেশিনটি কোথায় আছে বললে দেখাতে পারেনি। অভিযোগ রয়েছে, অনেকে ইতিমধ্যে এই টাকা হজম করেছেন। ইয়াংছামুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসি সভাপতি আব্দুল জলিল বলেন, আমাদের স্কুলে এখনো হাজিরা মেশিন স্থাপন হয়নি।

ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজেদা আক্তার বলেন, ডিজিটাল হাজিরা মেশিন এখনো স্কুলে লাগানো হয়নি। তবে আমরা ক্রয় করেছি। লামা পৌরসভার রাজবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজিয়া বেগম বলেন, আমরা হাজিরা মেশিনটি অতি দ্রুত লাগিয়ে ফেলব। নাম প্রকাশ না করা সত্ত্বে জনৈক শিক্ষক বলেন, নির্দিষ্ট কয়েকজন শিক্ষকের মাধ্যমে এই হাজিরা মেশিন গুলো ক্রয় করতে শিক্ষা অফিস থেকে বলা হয়েছে। এদিকে যে সব স্কুলে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন লাগিয়েছে তারা এর সঠিক ব্যবহার করছেনা। কয়েকটি লাগানো পর থেকে অব্যবহৃত থাকতে থাকতে অচল হয়ে গেছে। এতে করে ৭৮টি স্কুলে ২০ হাজার করে মোট ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা অপচয় হয়েছে।

লামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার চৌধুরী বলেন, গত মাসিক মিটিংয়ে যে সব স্কুল এখনো ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপন করেনি তাদের দ্রুত স্থাপনের জন্য বলা হয়েছে। কোন কোন বিদ্যালয় লাগিয়েছে কারা লাগাইনি তা উল্লেখ করে ডিজি অফিসে চিঠি দেয়া হয়েছে। বার বার তাগিদ দেয়ার পরেও যারা এখনো হাজিরা মেশিন স্থাপন করেনি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই বিষয়ে কথা হয় উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল বলেন, শিক্ষা কমিটির গত মিটিংয়ে যে সব বিদ্যালয়ে এখনো ডিজিটাল হাজিরা ক্রয় ও স্থাপন করেনি, তাদের দ্রুত স্থাপনের জন্য বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, কয়েকটি বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায় তারা ‘টাইম গার্ড’ মডেলের ডিজিটাল হাজিরা মেশিনটি বিদ্যালয়ে লাগিয়েছে। যে মেশিনটির মূল্য দেখানো হয়েছে ২০ হাজার টাকা। অথচ এ মেশিনটির বাজার মূল্য আনুষাঙ্গিক খরচসহ সাড়ে ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: