মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন

উখিয়ায় সরকারি অর্থে নির্মিত চেঞ্জিং রুমের বেহাল দশা!

পলাশ বড়ুয়া: / ১৯৩ বার
আপডেট মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারের উখিয়ার উপকূলে পর্যটকদের সুবিধার জন্য সরকারি অর্থায়নে নির্মিত চেঞ্জিং রুমের বেহাল দশা হয়েছে । দিনের পর দিন অব্যবস্থাপনার কারণে মাদক আসক্তদের ডেরায় পরিণত হয়েছে। অব্যবস্থাপনার কারণে এখন লীজ দেয়ার পরিবেশও নেই। এভাবেই সরকারি সম্পদ নষ্টের পাশাপাশি প্রতি বৎসর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এমনটি দাবী সচেতন মহলের।

সম্ভবনাময়ী পর্যটন খাতকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে ও পর্যটকদের সুবিধার্থে উপকূলীয় সমুদ্র তীরবর্তী চেঞ্জিং রুম নির্মাণ করা হলেও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার না থাকায় পর্যটকরাও পাচ্ছে না কাংখিত সেবা। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দোষলেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উখিয়ার নিদানিয়া ডেইলপাড়ায় কক্সবাজার জেলা পরিষদের অর্থায়নে ২০১০ সালে বাস্তবায়িত হওয়া চেঞ্জিং রুমটির বেহাল চিত্র। দরজা, জানালা, গ্রীল, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কিছু নেই।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, চেঞ্জিং রুম দেখভাল না করায় সব কিছু মাদক সেবীরা নেশার খরচ যোগাতে চুরি করে নিয়ে গেছে। এ সময় তিনি আরো বলেন, চেঞ্জিং রুমের সুবিধা না থাকায় পর্যটকসহ স্থানীয় লোকজনের যাতায়াত ঐ দিকে কম। লোকজনের আনাগুনা কম হওয়ার সুযোগে মাদকসেবীরা নেশা করার জন্য নিরাপদ স্থান হিসেবে বেচে নেয়। প্রতিদিন সন্ধ্যার পরপরই চেঞ্জিং রুমটি মাদকসেবীদের আকড়ায় পরিনত হয়। পরিত্যক্ত হওয়ায় মাদক কারবারিরাও মাদকের লেনদেন করার জন্য এ চেঞ্জিং রুমটিকে ব্যবহার করে বলে অনেকের ধারণা।

এ সময় সাথে থাকা উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিক আজাদ বলেন, সুন্দর মনোরম এই স্থানকে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলে এবং ভালো ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পের এই জোনকে মাদক মুক্ত ও নিরাপদ করতে পারলে পর্যটক বৃদ্ধির সাথে স্থানীয়দেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। তাই এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কৃর্তপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য অধ্যাপক হুমায়ুন কবির চৌধুরী বলেন, উখিয়ায় জেলা পরিষদের অর্থায়নে দুটি চেঞ্জিং রুম নির্মাণ করা হয়েছে। একটি সচল থাকলেও অন্যটি কেউ লীজ না নেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত আছে। এসব চেঞ্জিং রুমগুলো মূলত লীজ নেওয়া কর্তৃপক্ষরা দেখভাল করার কথা।

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, চেঞ্জিং রুমটি জেলা পরিষদের সম্পদ। উপজেলা প্রশাসনের আওতায় নয়। তবুও মাদক সেবনের বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সাথে আলাপ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: